কলকাতা থেকে ফুসলিয়ে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে পালানোর পথে পুলিশের জালে দুই নাবালিকা সহ যুবক
admin
বর্ধমান, ১৮ মার্চঃ- প্রেমের ফাঁদে জড়িয়ে এক নাবালিকাকে ফুসলিয়ে অপহরণ করার অভিযোগে বর্ধমান থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করল এক যুবককে। একইসঙ্গে আটক করা হল দুই নাবালিকাকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্ধমানের মঙ্গলকোটের কুড়ুম্বা গ্রামের বাসিন্দা ধৃত যুবক সুমিত দাস কলকাতার মানিকতলায় থাকে। সেখানে সে একটি লোহা ইস্পাত কারখানার শ্রমিক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই মানিকতলা এলাকার বাসিন্দা এবং উল্টোডাঙ্গা গার্লস হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সঙ্গে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুমিত ওরফে ভোলার। দীর্ঘদিন ধরে প্রেমালাপ চলতে থাকার মাঝেই তাঁরা পালিয়ে যাবার পরিকল্পনা করতে শুরু করেন। আর ওই অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর বান্ধবী তথা একই এলাকার বাসিন্দা এবং কলকাতার বাণীপীঠ গার্লস হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে তাঁদের সঙ্গী হিসাবে ব্যবহার করে পালিয়ে যাওয়ার ছককে বাস্তবায়িত করতে। আর এরপরই রবিবার দুপুর ৩ টে নাগাদ বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীটি বাড়ি থেকে বার হয়ে সোজা চলে আসে শ্যামবাজারের একটি সিনেমা হলের সামনে। সেখানে আগে থেকেই টিকিট কেটে অপেক্ষায় ছিল সুমিত। এরপর তাঁরা তিনজনেই সিনেমা দেখে। সিনেমা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই তিনজনে বেড়িয়ে পড়ে হল থেকে। এরপর তাঁরা চলে যায় পরেশনাথ মন্দিরে। সেখানে বসে পালিয়ে যাবার ছককে গুছিয়ে নিয়ে তাঁরা বাসে চেপে চলে আসে হাওড়া ষ্টেশনে। সেখানে রাতের ট্রেন ধরে প্রায় রাত ২ টো নাগাদ তাঁরা এসে নামে বর্ধমান ষ্টেশনে। বর্ধমান ষ্টেশনে নামার পর তাঁরা ষ্টেশনের বাইরে এসে একটি চায়ের দোকানে চা খায়। চা খাওয়ার সময়ই কয়েকজন যুবক এক যুবকের সঙ্গে দুই নাবালিকাকে দেখে কিছু কটুক্তিও করে। এই সময়ই আতংকিত হয়ে পড়ে ওই দুই নাবালিকা। এরপরই তাঁরা চায়ের দোকানদারের কাছে সাহায্য চায়। গোটা বিষয়টিতে সন্দেহ হওয়ায় চায়ের দোকানদার বর্ধমান থানায় খবর দেন। এরপরই পুলিশ গিয়ে তিনজনকেই নিয়ে আসে থানায়। পুলিশি জেরার জবাবে সুমিত দাস তার অপরাধ কবুল করে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার তাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হবে। অন্যদিকে, পুলিশ ওই দুই নাবালিকাকে বর্ধমানের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছে। ইতিমধ্যেই নাবালিকাদের কথামত পুলিশ যোগাযোগ করেছে ওই দুই নাবালিকার বাড়ির সঙ্গে। বর্ধমান থানার আই সি দিলীপ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ওই দুই নাবালিকার বাড়ি খোঁজ পেলে বাড়ির লোকের হাতে তাদের তুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, তিনি জানিয়েছেন, অপহরণ করার ঘটনায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কেস করা হয়েছে।