জমি এবং গোষ্ঠীদ্বন্দের বিতর্ক সঙ্গে নিয়ে শিলান্যাস হল প্রস্তাবিত মা ও শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের
admin
বর্ধমান, ১২ মার্চঃ- জমি এবং গোষ্ঠীদ্বন্দের বিতর্ক সঙ্গে নিয়ে বর্ধমানে শিলান্যাস হল প্রস্তাবিত মা ও শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের। মঙ্গলবার শহরের নার্সিং ট্রেনিং কলেজের বিপরীতে প্রস্তাবিত কেন্দ্রের শিলান্যাস করেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং ভূমি দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। অনুষ্ঠানে জামালপুরের তৃণমূল বিধায়ক উজ্জ্বল প্রামাণিক এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষা ডাঃ মঞ্জুশ্রী রায় ও সুপার ডাঃ অসিত বরণ সামন্ত উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ডঃ রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এই রহস্যজনক অনুপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গোষ্ঠীদ্বন্দের কারনেই শিলান্যাস অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে তাঁর ঘনিষ্টদের অভিযোগ। তাঁকে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি তা স্বীকার করেছেন রবিরঞ্জন বাবু। মা ও শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের জন্য যে জায়গাটি বাছা হয়েছে সেটি যে বিতর্কিত তাও মেনে নিয়েছেন তিনি। রবিরঞ্জন বাবু বলেন, অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। তাই যাইনি। হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য বিধায়ক তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছি। তাছাড়া আমি এলাকার বিধায়কও। তা সত্ত্বেও আমাকে কেন আমন্ত্রণ জানানো হলনা তা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষই বলতে পারবেন। জায়গাটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, জায়গাটি নিয়ে মামলা চলছে। বিষয়টি নিয়ে আমি সোমবার বিধানসভায় স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর সঙ্গে আলোচনা করেছি। বর্ধমানে যে এধরণের কোনও প্রকল্পের শিলান্যাস হবে তা তাঁর জানা নেই বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন। তার পরও কীভাবে শিলান্যাস হল তা দুই মন্ত্রীই জানেন। স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে বলতে পারি, এধরণের কোনও পরিকল্পনার বিষয়ে আমারও কিছু জানা নেই। মন্ত্রীকে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি তা মেনে নিয়েছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষা বলেন, অত্যন্ত তাড়াহুড়োর মধ্যে অনুষ্ঠান হয়েছে। তাছাড়া মেডিকেল সার্ভিস কর্পোরেশন নিমন্ত্রিতদের তালিকা তৈরী করেছে। কর্পোরেশনের তৈরী করে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী সবাইকেই নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মেডিকেল কলেজ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কেন্দ্রটি তৈরীর জন্য ২.২০ একর জমি বাছা হয়েছে। তবে ভবন নির্মাণের জন্য পুরো জমি লাগবেনা। প্রথম পর্যায়ে সুরক্ষা কেন্দ্রের জন্য ৬ তলা ভবন তৈরী করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবনটি তৈরিতে ১৬ কোটি টাকা লাগবে। তার মধ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই মঞ্জুর হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মা ও শিশুদের সব ধরণের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে একই ছাদের তলায়। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মলয় ঘটক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এই প্রকল্পটি তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে ট্রমা ইউনিট, এন্ডোস্কোপি ইউনিট এবং প্রসূতি ও স্ত্রী রোগের আরও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে হাসপাতালে। জমি নিয়ে বিতর্কের কোনও অবকাশ নেই। উপাচার্যকে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে জায়গাটি স্বাস্থ্য দপ্তরের। কিছু স্বার্থান্বেষী এবং উন্নয়ন বিরোধী মানুষ এনিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করছে।