পূর্বস্থলীতে জমির দখলকে কেন্দ্র করে সি পি এম-তৃণমূল সংঘর্ষে আহত ১০ জন।
admin
পূর্বস্থলী, ১৫ জানুয়ারিঃ-জমির দখল নিয়ে সংঘর্ষে তীরবিদ্ধ হয়ে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত ১০ জন। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্বস্থলী থানার রাহাতপুর গ্রামে। আহতদের আত্মীয় কুদ্দুস আলী সেক জানিয়েছেন, তাঁদের ৪৫ বিঘা জমি বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সি পি এমের নেতা কর্মীরা জোর করে দখল করে নেয়। কুদ্দুস বাবুরা বিষয়টি নিয়ে মামলা করায় ২০০৩ সালে হাইকোর্ট কুদ্দুস বাবুদের পক্ষেই রায় দেয়। তাতেও জমি ফেরৎ না পাওয়ায় হাইকোর্ট আবার ২০০৯ সালে কুদ্দুস বাবুদের জমির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেয়। কিন্তু পুলিশ-প্রশাসন তা করতে পারেনি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার ২৭ দিনের মাথায় বর্ধমান জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার হুমায়ূন কবীরের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী গিয়ে কুদ্দুস বাবুদের ৪৫ বিঘার মধ্যে ২৫ বিঘা জমি ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু গত সোমবার এই ২৫ বিঘা জমি থেকে ১০ কাঠা জমি আবার সি পি এম নেতা-কর্মীরা ঘিরে দখল করে নেয়। এই খবর পেয়ে আজ পরিবারের লোকজন প্রতিবাদ করতে যায়। তখন সি পি এমের স্থানীয় নেতা সাহাদুল খান, হামিদ সেখ, সাবান সেখ –এর নেতৃত্বে প্রায় ১০০ জন সি পি এম কর্মী-সমর্থক তীর-ধনুক, বল্লম, টাঙ্গি, কোদাল, কাটারী সহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে বলে কুদ্দুস বাবুর অভিযোগ। অতর্কিত হামলায় ১০ জন আহত হন। এদের মধ্যে ৫ জন তীরবিদ্ধ। আহতদের মধ্যে গোলাম নবি সেখ, ফিরোজ সেখ এবং মুজিবর সেখকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাবু খান এবং অনাদী রায় প্রতাপনগড়ে ভর্তি। ফিরোজা বিবি এবং লায়লি বিবি চাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি।
কুদ্দুস বাবু জানান, আহতরা সবাই তৃনমূল সমর্থক। তৃনমূল করার জন্যই জমি দখল করে নিয়েছিল।
পুলিশ সুপার সৈয়দ মহম্মদ হোসেন মির্জা বলেন, গন্ডগোলের খবর পেয়ে এস ডি পি ও (কালনা) ইন্দ্রজিৎ হালদারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃদু লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ঘটনায় যুক্ত থাকায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সি পি এম নেতা সাহাদুল খান বলেন, আজ সারাদিন আমি নাদনঘাটের একটি মেলা নিয়ে ব্যস্ত। তবে শুনেছি একটি খাস জমিতে কয়েকজন ঘর করে থাকত, সোমবার থেকে তাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে। সেটা নিয়েই আজ সংঘর্ষ হয়েছে। এর সাথে কোনও রাজনীতির সম্পর্ক নেই। আমাকে মিথ্যে ভাবে ঘটনাটিতে জড়ান হয়েছে।