E Purba Bardhaman

মুখ্যমন্ত্রীর শ্লোগানকে থিম করে বর্ধমানে কাঞ্চন উৎসব শুরু হচ্ছে ২ ফেব্রুয়ারি

Press Conference of Kanchan Utsav 2013 at Kanchannagar in Burdwaবর্ধমান, ২৯ জানুয়ারিঃ- সোমবারই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ উৎসবের উদ্বোধন করতে গিয়ে উৎসবের প্রয়োজনীয়তার ওপরই সওয়াল করেন। এমনকি উৎসবের প্রাসঙ্গিকতাকে তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বিরোধীদেরও কড়া সমালোচনা করেন। খোদ তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই উৎসবের পক্ষে সওয়ালকে হাতিয়ার করেই এবছর বর্ধমানের পঞ্চম বর্ষ কাঞ্চন উৎসবেও মুখ্যমন্ত্রীর শ্লোগানকেই হাতিয়ার করল উৎসব কমিটি। মঙ্গলবার বর্ধমানে একটি সাংবাদিক বৈঠকে কাঞ্চন উৎসব কমিটির সভাপতি তথা বর্ধমানের ২৪ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার খোকন দাস জানিয়েছেন, এবছর তাঁদের উৎসবের মূল থিম মুখ্যমন্ত্রীর শ্লোগান “জল ধরো, জল ভরো”। উৎসবের মোট বাজেট ২০ লক্ষাধিক টাকা। উৎসবের কলেবর গতবারের থেকেও বাড়ানো হয়েছে। গতবছর যেখানে ছিল প্রায় ১০০ টি স্টল, সেখানে এবছর কাঞ্চন উৎসবে স্টলের সংখ্যা ২০০ -র বেশি। তার মধ্যে সরকারী স্টলের সংখ্যাই প্রায় ১০০ টি। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই কাঞ্চননগরের কঙ্কালেশ্বর কালীমন্দির ট্রাষ্ট কমিটির অধীনে থাকা দু’টি পুকুর এবং খড়্‌গেশ্বর পুকুর তাঁরা সংস্কার করেছেন। এছাড়াও প্রতিবছর মেলায় আগতদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ট্রাষ্ট কমিটির উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৪ বিঘা জমিও কেনা হয়েছে মেলার জন্য। উল্লেখ্য, গত রবিবারই বর্ধমানে শেষ হয়েছে বর্ধমান উৎসব। বর্ধমান পুরসভার উদ্যোগে এই বর্ধমান উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও এই উৎসবকে সিপিএম প্রভাবিত বলে তকমা দিয়ে তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা ওই উৎসব থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন। উপস্থিত ছিলেন না কোনও তৃণমূল কাউন্সিলার। এমনকি বর্ধমান উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে মন্ত্রী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নাম থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। রবিবার বর্ধমান উৎসবের সমাপ্তি ভাষণেও পুরপতি আইনুল হক জানিয়েছেন, মানুষ চাইলে আগামী বছরও তাঁরাই এই উৎসবের আয়োজন করবেন। আর মঙ্গলবার কাঞ্চন উৎসবের সাংবাদিক বৈঠকে এসে খোদ তৃণমূল নেতা খোকন দাস সরাসরিই জানিয়েছেন, এবছরই বর্ধমান উৎসব পরিচালনা শেষ বর্তমান বোর্ডের। কারণ আগামী বছর বর্ধমান উৎসবের পরিচালনার ভার থাকবে তৃণমূল কংগ্রেসেরই হাতে। এদিন কাঞ্চন উৎসবের সাংবাদিক বৈঠকে খোকনবাবু বর্ধমান উৎসবের খরচ নিয়েও জানিয়েছেন, পুরসভার ফান্ড থেকে ৭ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে বর্ধমান উৎসবের জন্য। খোকনবাবু জানিয়েছেন, আগামী পুরবোর্ড দখল করবে তৃণমূল। তাই তাঁদেরই হাতে থাকবে বর্ধমান উৎসবের পরিচালনার ভার। এদিকে, এদিন খোকনবাবু জানিয়েছেন, কাঞ্চন উৎসবের উদ্বোধন করতে আসছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মুকুল রায়, শতাব্দী রায়, তাপস পাল সহ মন্ত্রী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়  এবং স্বপন দেবনাথও। ৯ দিন ধরে মেলায় প্রতিদিনই থাকছে বিভিন্ন নামজাদা শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান। কৃষি, শিল্প, পুষ্প সব মিলিয়েই এবারের মেলাকে আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খোকন দাস জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের উদ্যোগে কাঞ্চননগরের বিখ্যাত ছুরি-কাঁচি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা শুরু হয়েছে। ওই মেলায় এই শিল্প নিয়েও স্টল রাখা হয়েছে।

Exit mobile version