E Purba Bardhaman

“কেন্দ্রের টাকায় সংস্কার হলো বর্ধমান টাউন হল” – বিজেপির দাবি নিয়ে বিতর্ক চরমে

Bangsha Gopal Town Hall ~ Panchayat Minister Pradip Majumdar inaugurated the renovated Burdwan Town Hall in Burdwan

বিপুন ভট্টাচার্য, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- ২ জানুয়ারী বর্ধমানের ঐতিহাসিক বংশগোপাল টাউন হলকে প্রায় ৪ কোটি টাকা খরচ করে বর্ধমান পুরসভা সংস্কার করার কৃতিত্ব দাবী করে নবরূপে উদ্বোধন করতে না করতেই রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে উঠলো। বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সোশ্যালমিডিয়ায় একটি পোষ্ট করে এই বিতর্ককে চরমে তুলে দিয়েছে। পোষ্ট-এ লেখা হয়েছে, “বর্ধমান বাসীর জন্য নরেন্দ্র মোদিজীর এক ঐতিহাসিক উপহার।” এব্যাপারে ওই পোষ্টে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে। আর এরপরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।  উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারী নবরূপে এই টাউন হলের উদ্বোধন করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার, বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস প্রমুখরা। বর্ধমান পুরসভা নবরূপায়ণ ও ব্যবস্থাপক দাবী করে করে টাউন হল সংস্কারের পর উদ্বোধন ফলকও লাগিয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন বর্ধমান টাউন হলের (বংশগোপাল টাউন হল) সংস্কার করা হয় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে। বিজেপির অভিযোগ, ঊনবিংশ শতকে নির্মিত এই ঐতিহাসিক টাউনহল কেন্দ্রের দেওয়া সলিট ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের টাকায় সংস্কার করা হয়েছে। আর তার কৃতিত্ব নিতে উঠে পড়ে লেগেছে বর্ধমান পৌরসভা। সংস্কার করার পর উদ্বোধন ফলক বসিয়ে সেখানে উদ্বোধক হিসাবে রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের নামও খোদাই করা হয়েছে। ফলকে নাম রয়েছে বিধায়ক খোকন দাস ও পৌরপতি পরেশ চন্দ্র সরকারেরও। শুধু তাই নয় টাউনহল সংস্কারের নামে মোটা অঙ্কের কাটমানিরও লেনদেন হয়েছে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও বর্ধমান পৌরসভার পৌরপতি পরেশ চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমতি নিয়ে ওপেন টেন্ডার করে কাজ করা হয়েছে। আমরা রাজ্যের নগর উন্নয়ন দপ্তরের কাছ থেকে টাকা পেয়েছি যা আনটায়েড হিসাবে আমাদের দেওয়া হয়েছিল। এখন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আমরা টাউনহল সংস্কারের কাজ করেছি দপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে। বিজেপির অভিযোগ করার কাজ অভিযোগ করছে, হোক না তদন্ত আপত্তি কোথায়। উল্লেখ্য, ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইতালিয় ও ব্রিটিশ স্থাপত্যের যুগলবন্দিতে ২৪০০ বর্গফুট আয়তনের উপর তৈরি হয়েছিল বর্ধমান টাউন হল। শতাব্দী প্রাচীন এই টাউন হল মহাত্মা গান্ধী,নেতাজি, ইন্দিরাগান্ধীর স্মৃতি বিজরিত। জানা গেছে, বর্ধমান রাজ পরিবারের আত্মীয় বংশগোপাল নন্দের স্মৃতি রক্ষার্থে গতিপ্রকাশ নন্দ ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমান পৌরসভাকে জায়গাটি দান করেন। প্রথম দিকে এই টাউন হলে আসন সংখ্যা ছিল ৪৮৫। এর আগে নয়ের দশকে শেষবারের মত সংস্কার করা হয়েছিল টাউন হল। বর্তমানে আধুনিকরূপ দিতে গিয়ে আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮৮তে। জানা গেছে, বর্ধমানের কালনা রোডে পুরসভার জঞ্জাল ফেলার জায়গার (ভাগাড়) উন্নতির জন্য কেন্দ্র সরকার সলিড ওয়েষ্ট ম্যানেজমেণ্ট প্রকল্পে এই টাকা পুরসভাকে দেয়। এখন অভিযোগ উঠেছে, সেই টাকাতেই টাউন হলের এই সংস্কার করা হয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। বিশেষত, কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনা নিয়ে যখন সরব ঘাসফুল শিবির, সেই সময় কেন্দ্রের দেওয়া টাকায় এই সংস্কার করা হলেও উদ্যোক্তারা প্রকাশ্যে তা একবারও উল্লেখ না করাতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

Exit mobile version