E Purba Bardhaman

ফণীর তাণ্ডবে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মৃত ১, ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা, খুশী সবজি চাষীরা

Due to rain paddy fields are waterlogged. At Raina

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- ফণীর দাপটে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৫০টি কাঁচাবাড়ির সম্পূর্ণ ক্ষতি হল। প্রায় ৮০০ কাঁচাবাড়ির আংশিক ক্ষতি হল। শনিবার জেলা প্রশাসন সূত্রে এখবর জানা গেছে। কোনো প্রাণহানির খবর প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়নি। যদিও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ফণীর দাপটে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটল দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনায়। শুক্রবার রাতে ফণীর তান্ডবের সময় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির এমনটাই দাবী করেছেন মৃতের আত্মীয় সুজয় দাস। তিনি জানিয়েছেন, রাত থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয় কালনা মহকুমা জুড়ে। ঝড় বৃষ্টি চলার সময় বিদ্যুৎ পৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হয়েছে অশোক পাশোয়ান (৩৮) নামে ওই ব্যাক্তির। বাড়ি কালনা শহরের বড়মিত্র পাড়ায়। দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, ঝড় বৃষ্টির দাপটে কালনা মহকুমা হসপিটালের দেওয়াল আংশিক খসে পড়ে। অন্যদিকে ঝড়ের কারণে কালনা –শান্তিপুর ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার পর এদিন বিকাল থেকেই ফের তা চালু করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের গলসী থানার সাঁকো ও শশঙ্গা অঞ্চলে কমবেশী প্রায় ৩০টি কাঁচাবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। এদিন সকালে দুটি অঞ্চলেই ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িগুলি ঘুরে দেখেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া। এদিকে, কারও যখন পৌষমাস, তখন কারও সর্বনাশ। গোটা দেশ জুড়ে যখন ফণীর আতংকে রীতিমত রাতের ঘুম উড়েছে সাধারণ মানুষের। এমনকি উড়িষ্যাতে ফণির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সাধারণ জনজীবন। সেই সময় সেই ফণীর দৌলতেই হাসি মুখ দেখা দিল বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার বংপুর চাষীমানার সবজি চাষীদের। সারাবছর ধরেই দামোদরের এই চরমানায় চাষ হয় বিভিন্ন ধরণের সবজীর। গত কয়েকদিন ধরে ফণীর আতংক গ্রাস করেছিল চরমানার এই চাষীদের। রীতিমত কি হয় কি হয় আতংকে রাতের ঘুম উড়েছিল চাষীদের। কিন্তু শনিবার সকাল হতেই তাঁদের মুখে হাসি দেখা দিল। চরমানার চাষী রাজবন্তী মাহাতো জানিয়েছেন, চলতি সময়ে তিনি ঝিঙে, শশা এবং লাউগাছ লাগিয়েছিলেন। ফণির ভয়ে তিনি সত্যিই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু ফণীর জন্য ভাল বৃষ্টি হওয়ায় ফসলের ব্যাপক উপকার হয়েছে। চাষী সুনীল চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি সময়ে দামোদরের জল শুকিয়ে রয়েছে। ফলে সবজিতে জলের অভাব ছিলই। ফণির জন্য এই বৃষ্টিতে খুবই উপকার হয়েছে। একইকথা বলেছেন চাষী সুনীল চৌধুরীও। তিনি জানিয়েছেন, ফণির জন্য রীতিমত ভয়ে ছিলেন। ঢেঁড়শ, ঝিঙে, লাউ, কুমড়ো প্রভৃতি গাছের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমন হল না। বরং বৃষ্টি হওয়ায় ফসলের পক্ষে তা খুবই ভাল হল। কার্যত ফণীর জন্য একদিকে যখন সবজি চাষীদের খুশিতে মুখ উজ্জ্বল, তখন মাঠে মাঠে ফণীর ঝড়ের দাপটে মাঠেই নুইয়ে পড়েছে বোরো ধানের গাছ। রয়েছে মাঠে জলও। ফের ক্ষতিগ্রস্ত হলো ভাতারের বোরো ধানের। বড়বেলুন এক, বড়বেলুন ২,ভাতার, বলগোনা, নিত্যানন্দপুর, বামুনারা ,আমারুন এক, আমারুন ২ ও মাহাচান্দা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে ফণির দাপটে। রায়না, খন্ডঘোষ-সহ জেলার অন্যান্য ব্লকেও ধান জমিতে জল জমায় ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।

Exit mobile version