E Purba Bardhaman

প্রাতঃভ্রমণে বেড়িয়ে রেলের চিলড্রেন পার্কের অপরিচ্ছন্নতা দেখে ক্ষুব্ধ দিলীপ বদলির হুমকি দিলেন রেলকর্মীকে

Dilip Ghosh angry at the uncleanliness of the railway children's park

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- শনিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণ এবং জনসংযোগ করতে গিয়ে রেল দপ্তরের চিলড্রেন পার্কের অপরিচ্ছন্নতা দেখে বেজায় ক্ষুব্ধ হলেন বিজেপির বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। আর তাঁর এই ক্ষোভকেই হাতিয়ার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার সকালে বর্ধমান শহরের ৪নং ওয়ার্ডে প্রাতঃভ্রমণে বের হন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। একইসঙ্গে তিনি জনসংযোগ সারেন। এই জনসংযোগ করতে গিয়ে তিনি শনিবার সকালে বর্ধমানের লোকো ব্লিস মাঠে যান। সেখানেই লোকো চিলড্রেন পার্কের অপরিষ্কার অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দিলীপবাবু। কেন পরিষ্কার করা হয় না তা জানতে চেয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন দ্রুত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করুন না হলে ট্রান্সফারের হুমকিও দেন রেলওয়ের এক কর্মীকে। রেলের এক কর্মীকে তিনি বলেন, সপ্তাহে একদিন পার্ক পরিষ্কার করতে পারেন না? আমি তো ঝগড়া করি না, রেলমন্ত্রীকে টুইট করব। কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কালকের মধ্যে পার্ক পরিষ্কার না হলে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এখানে ভোট দিতে পারবেন না। লিখে দেবেন বাচ্চাদের পার্ক, আর ডাস্টবিন করে রেখে দেবেন? আর দিলীপবাবুর এই বক্তব্যের পরই সুর চড়িয়েছেন ৪নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার নুরুল আলম। তিনি বলেন, নামেই স্বচ্ছ ভারত অভিযান আর তারজন্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচা। বাস্তবে যে তার কোনো কাজ হয় না তা আবারও প্রমাণিত হল বিজেপির নেতার কথাতেই। বর্ধমান স্টেশন সংলগ্ন রেলের জায়গায় রেলের বিভিন্ন প্রোজেক্ট ও আবাসন এলাকার নিকাশি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে স্থানীয়দের অভাব অভিযোগের অন্ত নেই। এই উদাসীনতা নিয়ে কাউন্সিলারদের তরফেও একাধিকবার লিখিত আকারে রেলকে জানানো সত্ত্বেও কোনো রকমের হেলদোল নেই রেলের। সেখ নুরুল আলমের অভিযোগ, এটাও বাংলাকে বঞ্চনার আর একটা উদাহরণ। বাংলার মানুষের সুযোগ সুবিধা নিয়ে রেল কেন কোনো কেন্দ্রীয় দপ্তরই ভাবে না। স্বচ্ছ ভারতের নামে যে কেবল মানুষের টাকার শ্রাদ্ধ করা হচ্ছে তারই প্রমাণ মিললো দিলীপবাবুর কথায়। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে স্থানীয়দের কথা ভেবে রেল এলাকার অপরিচ্ছন্নতা এবং নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে আমরা বারংবার রেলকে চিঠি দিয়েছি কিন্তু রেলের তরফে কোনো রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উল্লেখ্য, এদিন এই ব্লিস মাঠে ক্রিকেট খেলতে নামেন দিলীপ ঘোষ। মাঠে নেমে চার ছক্কা হাঁকালেন তিনি। এর আগে দেখা গিয়েছে, প্রচারের ফাঁকে সুযোগ পেলেই ব্যাট হাতে মাঠে নেমে পড়ছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কীর্তি আজাদ। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ওদিকে রিটায়ার্ড লোকেরা আছে। আমি রিটায়ার্ডও নই টায়ার্ডও নই। আমি এরকমই খেলি। যে মাঠ পাই সেখানেই খেলি। যে পিচ পাই সেখানে খেলি এবং জিতি। বিপক্ষকে জবাব দিতেই কি মাঠে নামা প্রশ্নে দিলীপ ঘোষ বলেন, জবাব তো ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে দেব। ওরা তালই পাবে না কখন ইলেকশন পার হয়ে যাবে। অন্যদিকে, এদিন সকালে বর্ধমান শহরের প্রচারাভিযান সেরে তিনি চলে যান ভাতারেও। কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় দিলীপবাবু পুরোহিতকে বলেন, ঠাকুর মশাই মা কে বলুন যেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের সম্মান রাখতে পারি। মাকে জানান, বহিরাগতরা যেন জামাকাপড় রেখে চলে যায়।

Exit mobile version