E Purba Bardhaman

সন্দেহের বশে স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

The District Judge of the Burdwan Court ordered the husband to sentenced to life imprisonment for his wife's murder (2)

গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- স্ত্রীকে খুন করে প্রমাণ লোপাটের দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বর্ধমান আদালত। এছাড়াও খুনের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য আরও ৩ হাজার টাকা সাজাপ্রাপ্তকে জরিমানা করেছে আদালত। জরিমানার টাকা না দিলে আরও ১ বছর সাজা খাটতে হবে সাজাপ্রাপ্তকে। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের জেলা জজ মহম্মদ সাব্বর রশিদি এই সাজা ঘোষণা করেছেন। সাজাপ্রাপ্তের নাম ভগীরথ হেমব্রম। মেমারি থানার আমাদপুরে তার বাড়ি। সে জারগ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মী। সাজা শুনে ভগীরথ বলে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আমাকে সাজা দেওয়া হল। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। তার আইনজীবী রামগোপাল মজুমদার বলেন, ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই। রায়ে বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে। এই রায়কে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হবে।

 কেসের সরকারি আইনজীবী শিবরাম ঘোষাল জানান, ২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটে। স্ত্রী মুংলি হেমব্রমের স্বভাব-চরিত্র নিয়ে সন্দেহ ছিল ভগীরথের। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে-মধ্যেই অশান্তি হত। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে স্ত্রীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে ভগীরথ। সেইমতো ঘটনার দিন রাতে পাড়ার সোনালী হেমব্রমকে পাহাড়হাটি হাসপাতালে দেখাতে নিয়ে যান মুংলি (৩৫)। সেখান থেকে ফিরতে দেরি হওয়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালে আনতে যায় ভগীরথ। রাতে সে একাই বাড়ি ফিরে আসে। তার গলায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতচিহ্ন ছিল। বাড়ি ফিরে ছেলেকে সে জানায়, হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে এক অজানা ব্যক্তি তার কাছে দু’বার দেশলাই চায়। না থাকায় সে দেশলাই দিতে পারেনি। কিছুটা যাওয়ার পর সাইকেল দাঁড় করিয়ে সে প্রস্রাব করতে যায়। সেই সময় দেশলাই চাওয়া ব্যক্তি তাকে আক্রমণ করে। ধারাল কিছু দিয়ে তার শরীরে আঘাত করা হয়। সে কোনও রকমে নিজেকে মুক্ত করে বাড়ি ফিরেছে। তাকে ছেড়ে স্ত্রী দৌড়ে মেমারির দিকে চলে এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করেও মুংলির হদিশ পাওয়া যায়নি। ২ দিন পর ২১ তারিখ সন্ধ্যায় পাহাড়হাটি-মেমারি গোলাপমণি রাস্তার ধারে একটি মুড়িকলের কাছে এক মহিলার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। মৃতদেহটি তাঁর মায়ের বলে শনাক্ত করেন সুকুমার হেমব্রম। বাবার কাছ থেকে শোনা বর্ণনা দিয়ে ঘটনার বিষয়ে মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সুকুমার। খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিস।
তদন্তে নেমে বেশ কয়েকবার ভগীরথকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস। তার কথায় বিস্তর অসঙ্গতি পায় পুলিস। ঘটনাস্থলের বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলে পুলিস। কেউই ঘটনার দিন কারও চিৎকার শুনতে পাওয়ার কথা জানান নি পুলিসকে। এরই মধ্যে মুংলির চপ্পল ঘটনাস্থলের কিছুটা দূর থেকে উদ্ধার হয়। সেখান থেকে পুলিস ৪টি রক্তমাখা আধলা ইট ও একটি ব্লেড উদ্ধার করে। ব্লেডেও রক্তের দাগ ছিল। ভগীরথের ক্ষতচিহ্নটি ব্লেডের বলে সন্দেহ হয় পুলিসের। পুলিস এ ব্যাপারে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেয়। ভগীরথকে পরীক্ষা করে ক্ষত নিজের তৈরি করা বলে মত দেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ। এরপরই ১৭ অক্টোবর সকালে বাড়ি থেকে পুলিস ভগীরথকে গ্রেপ্তার করে। তাকে হেফাজতে নেয় পুলিস। জেরায় সে স্ত্রীকে খুনের কথা কবুল করে। ঘটনাস্থলের বাসিন্দা কৃষ্ণ সরকার ঘটনার দিন এক সাইকেল আরোহীকে রক্তমাখা জামা পড়ে যেতে দেখেছেন বলে পুলিসের কাছে জানান। এরপরই পুলিস খুনে ভগীরথের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়। সেই বছরেরই ১৮ ডিসেম্বর জামিন পায় ভগীরথ। তদন্ত সম্পূর্ণ করে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি খুন (৩০২আইপিসি) ও প্রমাণ লোপাট (২০১আইপিসি) ধারায় চার্জশিট পেশ করে পুলিস।
Exit mobile version