E Purba Bardhaman

ক্লাবের বিরুদ্ধে সরকারী স্কুল ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- প্রাইমারী স্কুল ভবন স্কুল কাউন্সিল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই একটি ক্লাব ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেবার ঘটনায় শুক্রবার ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হল বর্ধমান শহরে। গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিলেন জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) স্বপন কুমার দত্ত। অভিযোগ উঠেছে, বর্ধমান শহরের ২ নম্বর শাঁকারী পুকুর বিবেকানন্দ সেবক সংঘ সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ বছর বন্ধ হয়ে থাকা প্রাথমিক স্কুল ভবনকে এদিন সকাল থেকেই জেসিপি দিতে ভেঙে ফেলতে শুরু করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এই সংঘের সম্পাদক তমালকান্তি মন্ডল অবশ্য এদিন জানিয়েছেন, ”কোনও ভবন ভাঙ্গা হয়নি। আমাদের ক্লাব এবং পার্কের পাশে ৩০-৩২ বছর আগে বন্ধ স্কুল ভগ্ন অবস্থায় পরে আছে। পাচিঁল পড়ে যাচ্ছে। জঞ্জাল হয়েছিল। জল জমে থাকে। অসামাজিক কাজের ডেরা হয়ে উঠছিল। সেসবই পরিষ্কার করা হচ্ছে। এখানে সামনের মাস থেকে বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থা শিশুদের পার্ক তৈরী করবে।” তিনি জানিয়েছেন, “উদ্বাস্তুদের উন্নয়নের সার্থে ১৯৫০ সালে এই স্কুল তৈরী হয়। ৩০-৩২ বছর আগে বন্ধ হয়ে যায় স্কুলটি। আমরা আগলে রেখেছি। স্কুল দপ্তরকে বারবার সংস্কার করতে বলা হয়েছে। এখন আমরা বাধ্য হয়ে এলাকা পরিষ্কার করছি। দপ্তরের জায়গা দপ্তরেরই থাকবে। বিভিন্ন দপ্তর এগিয়ে এসে উন্নয়নের কাজ করুক। ক্লাব জায়গা দখল করেনি।”  এদিকে, এদিন সকাল থেকে এই স্কুলভবনকে ভেঙে ফেলা শুরু হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দেয়। খবর পৌঁছায় বর্ধমান থানায়। পুলিশ গিয়ে দফায় দফায় কাজ বন্ধ করে দেয়। এদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে এদিন জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) স্বপনকুমার দত্ত জানিয়েছেন, “আমি খবর পেয়েই সংশ্লিষ্ট এলাকার এস আই-কে খতিয়ে দেখার জন্য বলেছি। তিনি পরিদর্শন করেছেন। এখনও চূড়ান্ত রিপোর্ট আসেনি। তবে প্রাথমিকভাবে খবর পেয়েছি স্কুলের ভবনটি সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। শিক্ষক এবং ছাত্র না থাকায় দীর্ঘ বছর ধরে স্কুলটি বন্ধ। কিন্তু, সম্পত্তিটি শিক্ষা দপ্তরের কাউন্সিলের অধীনেই রয়েছে। সরকারী সম্পত্তি এভাবে ভাঙা যায়না, কে ভাঙ্গলো দেখা হচ্ছে।” অপরদিকে, এদিন ক্লাবের সম্পাদক এই জায়গায় বিডিএ পার্ক তৈরী করবে বললেও বিডিএ-র চেয়ারম্যান কাকলী তা গুপ্ত জানিয়েছেন, বিডিএ-র কাছে নানারকম প্রস্তাব আসে। এই এলাকাটি নিয়েও একটি প্রস্তাব অনেকদিন আগে বিডিএ-র কাছে জমা পড়ে। কিন্তু তা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। এরই মাঝে বিডিএ-র কোনো বোর্ড না থাকায় তাঁরা উন্নয়ন মূলক কাজে তেমন অগ্রসরও হতে পারেননি দীর্ঘদিন। কাকলীদেবী জানিয়েছেন, গত মার্চ মাসে প্রথম বৈঠক হয় নির্বাচিত বোর্ডের। সেই বৈঠকে এই প্রস্তাব গৃহিত হয়নি। বর্তমানে বিডিএ এই ধরণের বিনোদন পার্ক জাতীয় কোনো কাজ করতে পারছেও না সরকারী নির্দেশিকা অনুসারে। তাই ওই এলাকায় বিডিএ পার্ক তৈরী করবে – এটা সম্পূর্ণই ভুল। এই ধরণের কোনো বিষয়ই গৃহিত হয়নি।


Exit mobile version