বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- বিশুদ্ধ পানীয় জল প্রকল্পের পাইপ চুরির ঘটনায় এবার পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ হদিশ পেল আন্তঃরাজ্য একটি চক্রের। সম্প্রতি বর্ধমানের দেওয়ানদিঘী থানায় সুপ্রীতি কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদার সংস্থা অভিযোগ করে, পিএইচই প্রকল্পের কাজ চলাকালীন তাদের প্রায় ৪৪টি পাইপ চুরি হয়ে যায়। এরপর এই ঘটনার তদন্তে নামে দেওয়ানদিঘী থানার পুলিশ। প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এরপর পুলিশ চিহ্নিত করে একটি গাড়িকে। জানা গেছে, চোরাই পাইপ নিয়ে যাওয়ার জন্য এরপর পুলিশ বীরভূম থেকে ৩টি গাড়িকে বাজেয়াপ্ত করে। একইসঙ্গে বীরভূম থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ কলকাতা ও কলকাতা সংলগ্ন এলাকা থেকে এই চোরাই পাইপ কেনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ মুর্শিদাবাদ থেকে এই চোরাই কারবারের মূল মাথা-সহ গ্রেপ্তার করা হয় ৩ জনকে। পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়েছন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, দেওয়ানদিঘী থানা ছাড়াও কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট-সহ কয়েকটি থানায় এই ধরনের চুরির অভিযোগ জমা পড়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে দেওয়ানদিঘী থানার পুলিশ ১০০-রও বেশি চোরাই পাইপ উদ্ধার করে। জানা গেছে, এই ঘটনার জন্য দেওয়ানদিঘী থানার ওসি বুদ্ধদেব ঢুলি, এসআই আনোয়ার হোসেন, এএসআই কাঁকন কুণ্ডু-সহ মোট ১০ জনের একটি টিম তৈরি করা হয়। এই টিমই বিভিন্ন জায়গায় হানা দেয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই পিএইচই পাইপ চুরির একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে ত্রিপুরা, আসাম, ঝাড়খণ্ড রাজ্য জুড়ে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই ঘটনার তদন্ত চলছে। আর কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।