জৌগ্রাম (পূর্ব বর্ধমান) :- এবার পর্যটন মানচিত্রে পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্যে জৌগ্রামকে তুলে ধরতে অভিনব উদ্যোগ নিল জৌগ্রামের কয়েকজন যুবক। জৌগ্রাম লাগোয়া আস্তাই গ্রামের বাসিন্দা তারাশংকর সরকার, তেলে গ্রামের বাসিন্দা মৃদুল কান্তি মণ্ডল, বাদলাগড়িয়ার বাসিন্দা সুমন বিশ্বাস, কলুপুকুরে বাসিন্দা তাপস সরকার ওরফে অপু, আমড়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল হক, জৌগ্রামের বাসিন্দা স্বপন মুখার্জ্জী, বাদপুর গ্রামের বাসিন্দা বিমানবাহিনীর কর্মী অনিমেষ মিত্র, নুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট ফুটবল কোচ রতন দাস-সহ কতিপয় যুবকের উদ্যোগে এবছর থেকে শুরু হচ্ছে জৌগ্রাম উৎসব। এই উৎসব কমিটির সভাপতি মৃদুল কান্তি মণ্ডল জানিয়েছেন, গোটা রাজ্য জুড়ে নানান উৎসব হচ্ছে। উৎসব আর মেলা হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়েও। আর তা দেখেই তাঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নেন তাঁরাও একটি উৎসব করতে চান এই জৌগ্রামে। যেখানে এই ধরণের কোনো উৎসব হয়না। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা লক্ষ্য করেছেন সরকারীভাবে জৌগ্রামের ইতিহাসকে তুলে ধরার চিন্তা ভাবনা চলছে। কিন্তু তাঁরা চান জৌগ্রামের ইতিহাসকে আরও উজ্জ্বলভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরতে। এর ফলে পর্যটন মানচিত্রে বর্ধমানের ইতিহাসে জৌগ্রামও যাতে উল্লেখযোগ্যভাবে ঠাঁই পায়। মৃদুল জানিয়েছেন, এই জৌগ্রামেই রয়েছে বহু প্রাচীন একটি পুরনো জৈন মন্দির জলেশ্বর মন্দির। জানা গেছে, পুরনো এই জৈন মন্দিরেই বর্তমানে স্থাপিত হয়েছে জলেশ্বর শিব। অনেকেই বলেন জৈন মন্দির তথা এককালে জৈনদের এই এলাকায় থাকার ইতিহাসকে ঘিরেই এলাকার নামকরণ হয়েছে জৌগ্রাম। জৈনগ্রাম থেকে হয়েছে জৌগ্রাম। জৌগ্রামের লাগোয়া কুলিন গ্রাম মালাধর বসুর গ্রাম, বৈষ্ণব তীর্থ বলে পরিচিত। এমনকি এই জৌগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের লাগোয়া ঝাপানডাঙ্গা পঞ্চায়েতের ঝাপানডাঙা গ্রাম হকি গ্রাম বলে পরিচিত। এখনও এখানে হকি খেলা হয়। এছাড়াও জৌগ্রামের চাষাপাড়ায় রয়েছে বদর পীড়ের মাজার। হিন্দু মুসলিমের সম্প্রতির একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। উল্লেখ্য, সম্প্রতি জামালপুরের তৃণমূল বিধায়ক অলোক মাজি জামালপুর বিধানসভাকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র করার জন্য রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন। মৃদুলবাবু জানিয়েছেন, তাঁদের জৌগ্রাম উৎসব করার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে এই ইতিহাসকে তুলে ধরা। ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারী এই উৎসবে থাকছে এই ইতিহাসকে তুলে ধরার চেষ্টা। উৎসবের উদ্বোধন করবেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার।