সংসদ থেকে বিরোধীদের সাসপেন্ড, গ্রামে গ্রামে বিজেপি করতে না দেবার নির্দেশ সাংসদ থেকে তৃণমূল নেতার
admin
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- সীমান্ত পাহারায় রত সেনাবাহিনীর জওয়ানদের মুণ্ডু কেটে নিয়ে চলে গেছে পাকিস্তান। একের পর এক এই ঘটনা ঘটছে। মোদি সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ সেনাবাহিনীর এই সুরক্ষা দিতে। অথচ সেই সেনাবাহিনীর জওয়ানদের এখন বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আইটি তদন্তে অফিসারদের সঙ্গে এখন আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের নিয়োজিত করা হচ্ছে। আর সেনার অভাবে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের মুণ্ডু কেটে নিয়ে চলে যাচ্ছে পাকিস্তান। দেশের পক্ষে এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জার এবং ভয়েরও। আর তাই এই ঘটনায় গোটা রাজ্য জুড়ে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে প্রচারে নামছে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত শাখা সংগঠন গুলোও। শনিবার বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানিয়েছেন, জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জ্জী। তিনি এদিন বলেন, কেন্দ্র সরকারের রাজ্যের প্রতি বঞ্চনার সঙ্গে সেনাবাহিনীর এই ঘটনাকেও তাঁরা তুলে ধরবেন জনগণের সামনে। উল্লেখ্য, এদিন বর্ধমানের কার্জন গেটের সামনে সাংসদ সাসপেন্ড ইস্যুতে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, সাংসদ সুনীল মণ্ডল, বিধায়ক খোকন দাস, অলোক মাঝি, অভেদানন্দ থান্ডার, তপন চ্যাটার্জ্জী সহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির নেতৃত্বরা। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু এবং সাংসদ সুনীল মণ্ডল উভয়েই বলেন, সংসদ থেকে বিরোধীদের সাসপেন্ড করে যদি বিজেপি সরকার তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করেন তাহলে তাঁরাও এই রাজ্যে বিজেপিকে থাকতে দেবেন না। বিজেপিকে পার্টি করতে দেবেন না। সুনীল মণ্ডল বলেন, ভারতীয় সংসদ থেকে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ১৪৬ জন সাংসদকে বিতাড়িত করেছে। আপনারা কী করবেন? আপনাদের হাতে সংসদের থেকেও বড় ক্ষমতা আছে, সেটা কি? আপনাদের পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে যে সমস্ত বিজেপি মেম্বাররা আছে তাদেরকে বহিষ্কার করুন। এলাকায় তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করুন। যদি ভারতীয় সংবিধান থেকে আমাদেরকে বিতাড়িত করতে পারে তাহলে আমরাও গ্রাম থেকে বিজেপিকে বিতাড়িত করতে পারি,এই প্রতিজ্ঞা আমাদেরকে করতে হবে এই জায়গাটা আমাদেরকে তৈরি করতে হবে। এদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে এদিন বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, সুনীল মণ্ডলরা যা বলেছেন, তা অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক কথা। রাজনীতি করার অধিকার সকলের আছে। কিন্তু উনি যা বলেছেন তাতে উত্তেজনা বাড়বে, উসকানিমূলক এই কথার জন্য কিছু ঘটলে তার দায় তাঁদেরই নিতে হবে। মৃত্যুঞ্জয়বাবু বলেন, আসলে সুনীল মণ্ডল আর এবার টিকিট পাবেন না। তাই প্রচারের আলোয় থাকতে তৃণমূলের নেতৃত্বকে খুশী করতেই এই ধরনের কথা বলেছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছেন তাঁরা। সংসদ থেকে কেন সাংসদদের সাসপেন্ড করা হয়েছে তা জনগণ দেখেছে এবং জানে। তাকে ঘুরিয়ে দেবার জন্যই এখন তৃণমূল নাটক করছে।