E Purba Bardhaman

বর্ধমান পৌর উৎসবের উদ্বোধন করলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত

National Award-winning actress Rituparna Sengupta inaugurated the 'Bardhaman Poura Utsav' in Burdwan town on Saturday. The fair, organized by the Burdwan Municipality, will continue till December 28.

বিপুন ভট্টাচার্য, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- বন্দেমাতরম গান রচনার ১৫০বছর পূর্তির অনুষ্ঠান হচ্ছে। বন্দেমাতরম মানে দেশমাতৃকাকে বন্দনা করা। আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে গেছি। কিন্তু আমাদের মধ্যে সেই দেশাত্মবোধ মাতৃজাতির প্রতি যে সম্মান সেটা যেন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা নতুন করে শপথ নিতে চাই এই দেশাত্মবোধকে। শনিবার বর্ধমানের শাঁখারীপুকুর হাউসিং মাঠে বর্ধমান পৌর উৎসব ২০২৫-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসে এই মন্তব্য করে গেলেন বন্দেমাতরম গানের রচয়িতা ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উত্তরসুরী বিশিষ্ট কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়। তিনি এদিন বলেন, আমাদের সকলকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে যাতে বিশ্বে ভারতকে শ্রেষ্ট আসন দিতে পারি। জয়দীপবাবু বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই গান রচনা করেন যখন এবং তা ছাপার জন্য একটি ছাপাখানায় দেন। কিন্তু ছাপাখানা কর্তৃপক্ষ এই গানের গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। ছাপাখানার ম্যানেজার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বলেছিলেন, বলেন তো লেখাটা ছেপে দিতে পারি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সেই লেখা ফেরত নিয়ে নেন। এবং ম্যানেজারকে বলেছিলেন, ”এর অর্থ তুমি বুঝিতে পারিবে না। আর যখন তুমি বুঝিতে পারিবে, হয়তো তখন আমি থাকিবো না, তুমি থাকিলেও থাকিতে পারো।” জয়দীপবাবু এদিন বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৫৭ বছর বয়সে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই বন্দেমাতরম গানটি গান। আর তারপর গোটা দেশে তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। জয়দীপবাবু এদিন বলেন, আজ আমাদের শপথ নেবার দিন। সকলে একজোট হয়ে থাকবো, ভারত আমার দেশ মাতৃকা, বিশ্বে ভারতকে শ্রেষ্ঠ আসনে নিয়ে যাবো। প্রসঙ্গত, জয়দীপবাবু এদিন বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট হিসাবে বিভিন্ন জায়গায় সফর করার সময় কাঁচের শিশিতে বাবা-মায়ের পা ধোয়া জল নিয়ে যেতেন। বলতেন এটা আমার আশীর্বাদ। কিন্তু এখন আমরা সুশিক্ষিত পদাধিকারী মানুষ তাদের বাবা-মাকে দেখেন না। এখন দরকার নিজেদের কাজের মধ্যে দিয়ে দাগ রেখে যাওয়া, পদ দিয়ে নয়। এদিন এই পৌর উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রাভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি গার্গী নাহা, জেলা তথ্যও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশংকর মণ্ডল, পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার, বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস-সহ বর্ধমান পুরসভার কাউন্সিলাররাও। ঋতুপর্ণা এদিন বর্ধমানের প্রশংসা করার পাশাপাশি সম্প্রতি রিলিজ হওয়া লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল সিনেমা দেখার আবেদনও করেন দর্শকদের।

Exit mobile version