মেমারী (পূর্ব বর্ধমান) :- দিন যতই এগোচ্ছে আবাস যোজনা নিয়ে রাজ্যের শাসকদলের নেতা নেত্রীদের দুর্নীতির পর্দা ততই ফাঁস হচ্ছে। আর যত শাসকদলের নেতা নেত্রীদের এই দুর্নীতি সামনে আসছে ততই বিরোধীদের সমালোচনার ঝাঁঝ তীব্র হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নিজের পরিবারের নামের তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই এবার চাঞ্চল্য ছড়ালো মেমারীর বাগিলা অঞ্চলে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জিন্নাতারা বেগম এবং তাঁর স্বামী সেখ গিয়াসুদ্দিন উভয়ের নাম এই তালিকায় রয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে তাঁরা জানিয়েছেন, যে সময় সার্ভে হয়েছিল সেই সময় তাঁদের কাঁচা বাড়ি ছিল। ৬ মাস আগে পাকা বাড়ি তৈরী হয়েছে। তারপরই তাঁরা আবাস যোজনার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু তারপরও কিভাবে নাম থেকে গেল তা তাঁরা জানেন না। যদিও পঞ্চায়েত সদস্যা জিন্নাতারা বেগম এবং তাঁর স্বামী উভয়েই স্বীকার করেছেন তাঁরা দুজনেই এই আবাস যোজনার জন্য আবেদন করেছিলেন।
এদিকে, পঞ্চায়েত সদস্যা এবং তাঁর স্বামীর নাম এই আবাস যোজনায় থাকা নিয়ে যখন হৈ চৈ চলছে সেই সময় বিতর্ক আরও তুঙ্গে উঠল মেমারী বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ সন্দীপ প্রামানিকের বাবা অধীর প্রামানিকের নাম আবাস যোজনার তালিকায় থাকায়। জানাগেছে, অট্টালিকা প্রাসাদ থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর নেবার জন্য তাঁর নাম তালিকার ১৭০৮ নং সিরিয়ালে রয়েছে। জানা গেছে, সন্দীপ প্রামানিকের বাড়িতে ইটালিয়ান মার্বেল বসেছে।
এদিন মহকুমাশাসক জানিয়েছেন, আবাস যোজনার এই তালিকা নিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরে যাচাইয়ের কাজ চলছে। নির্দিষ্ট কোনো নাম নয়, তাঁরা একেবারেই তালিকা ধরে ধরে এই কাজ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, আবাস যোজনার যোগ্যতার যে মানদণ্ড রয়েছে সেই মানদণ্ড অনুসারেই যোগ্যরা আবাস যোজনার বাড়ি পাবেন। যাঁরা যোগ্য নন, তাঁরা পাবেন না। তিনি জানিয়েছেন, গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক, মহকুমা এবং জেলাস্তর থেকে নানাভাবে এই যাচাইয়ের কাজ চলছে। একইভাবে জেলা পুলিশও এই যাচাইয়ের কাজ করছে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে একের পর এক তৃণমূল নেতানেত্রী এবং তাঁদের পরিবারের নাম নিয়ে বিজেপির জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক সুধীররঞ্জন সাউ জানিয়েছেন, তাঁরা অপেক্ষা করছেন এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার দিকেই। তিনি দাবী করেছেন, গোটা জেলার প্রায় সিংহভাগ শাসকদলের নেতারাই এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এখন তাঁরা সাধু সাজছেন। কিভাবে পঞ্চায়েত সদস্যা এবং তাঁর স্বামী একইসঙ্গে আবেদন করলেন? তাঁরা তো একই পরিবারভুক্ত। যেকোনো একটি বাড়ির তো আবেদন করতে পারতেন। কিন্তু গোটা তৃণমূল দলটাই লুঠতরাজের দল হয়ে উঠেছে। তাই সরকারী টাকা লুঠে খাবার জন্যই এই কাজ করেছেন। এঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত। এব্যাপারে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিত দাস জানিয়েছেন, এই ধরণের ঘটনা ঘটে থাকলে যাঁরা অন্যায় করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তিনি দাবী করেছেন, অনেক সময়ই বিরোধীরা চক্রান্ত করে, দলকে বদনাম করার জন্য মিথ্যা প্রচার করছে।