E Purba Bardhaman

ফের বিষ্ণুপুরের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁয়ের কনভয়ে হামলার অভিযোগ

Protest against the attack of the BJP candidate convoy in Bishnupur constituency. At Khandaghosh

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- আদালতের নির্দেশে তিনি নিজের কেন্দ্রেই ভোট প্রচারে ঢুকতে পারছেন না। স্বাভাবিকভাবেই নিজের জেলা ছেড়ে তাঁকে অংশবিশেষে পড়া পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি বিধানসভা এলাকাতেই ভোট প্রচারে সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে। আর সেখানেই দফায় দফায় তাঁকে আক্রমণের নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপির বিষ্ণুপুরের প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ। সাম্প্রতিককালে পরপর তিনবার তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছেন সৌমিত্রবাবু। তিনি জানিয়েছে্ন, এভাবে তাঁকে দমানো বা আটকানো যাবে না। বৃহস্পতিবার বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ প্রায় ৪৮টি গাড়ির কনভয় নিয়ে বাঁকুড়ায় যাচ্ছিলেন মনোনয়ন পত্র জমা দিতে। পথে পুর্ব বর্ধমানের খন্ডঘোষের লোধনা এলাকায় তৃণমূল সমর্থকেরা তার কনভয়ের ওপর হামলা চালায়। ব্যাপক মারধর করা হয় বিজেপি কর্মীদের। প্রায় ১০টি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি সমর্থকরা খন্ডঘোষ থানার সামনে বর্ধমান বাঁকুড়া রোড অবরোধ করে। যদিও খোদ সৌমিত্রবাবু মনোনয়নপত্র জমা দিতে চলে যান। মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে ফিরে এসে তিনি রীতিমত ক্ষোভ উগরে দেন খণ্ডঘোষ থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। সৌমিত্রবাবু অভিযোগ করেছেন, খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে তাঁর কনভয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় উত্সাহ জুগিয়েছে। তিনি দাবী করেছেন,তৃণমূল সমর্থকরা মহিলাদেরও ব্যাপক মারধর করেছে। যদিও খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ এই অভিযো্গ অস্বীকার করেছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি সৌমিত্রবাবু নির্বাচন কমিশনের কাছেও নালিশ জানাবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু কেন বারবার তাঁকে বাধা দেওয়া হচ্ছে বা কেন তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে – এই প্রশ্নে খণ্ডঘোষের ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কেউই জড়িত নন। তিনি জানিয়েছেন, যে মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতির দায়ে সৌমিত্র খাঁ বাঁকুড়ায় ঢুকতে পারছেন না, সেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েই তিনি বাইরে থেকে লোক নিয়ে এদিন মিছিল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁরা সৌমিত্রবাবুর আসল রহস্য জানতে পারার পর তাঁরাই পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অপার্থিববাবু জানিয়েছেন, এটা সম্পূর্ণই বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের ব্যাপার। এই ঘটনায় খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তৃণমূলের কেউই জড়িত নেই। যে সময় ঘটনা ঘটেছে সেই সময় তিনি প্রত্যেকটি অঞ্চল নেতৃত্বদের নিয়ে মিটিং করছিলেন। পাল্টা নবীন বাগ জানিয়েছেন, যদিও সৌমিত্রবাবু প্রমাণ করতে পারেন এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল জড়িত তাহলে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সৌমিত্রবাবুর প্রচারের ব্যবস্থা করে দেবেন। অপার্থিব ইসলাম জানিয়েছেন, সৌমিত্র খাঁ যতদিন তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন ততদিনই তিনি গোপনে বিভিন্নজনকে চাকরি করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু তা পালন করতে না পারায় এখন সমস্ত মানুষই তাঁর ওপর চড়াও হচ্ছেন। অপার্থিব জানিয়েছেন, শুধু এটাই নয়, তাঁদের কাছে প্রমাণ আছে যেহেতু তাঁর সমর্থনে মানুষকে পাচ্ছেন না। তাই নানা অছিলায় তাঁর ওপর হামলার মিথ্যা অভিযোগ করে সহানুভূতি আদায়ের এবং প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা করছেন। অপার্থিব জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে প্রমাণ রয়েছে বিজেপির নেতারাই তাঁদের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন ইঁট পাটকেল ছুঁড়ে তৃণমূলের নামে চালানোর অভিযোগ করতে। তিনি জানিয়েছেন, মানুষ আসলে সৌমিত্রবাবুর এই মিথ্যাচার ধরে ফেলেছে। আর তাই সাধারণ মানুষই তার প্রতিবাদ জানাচ্ছে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে খন্ডঘোষের শশঙ্গা অঞ্চলে প্রচারে আসলে সৌমিত্রবাবুকে কালো পতাকা দেখানো হয় এবং তার গাড়ির ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমুলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সৌমিত্রবাবু খন্ডঘোষ থানার সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান। তখনও তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে হাততালি দিয়েছে।

Exit mobile version