বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান):- এখনও নির্মাণকারী সংস্থা কাজ সম্পূর্ণ করে তা রেল দপ্তরকে হস্তান্তরই করেনি। রয়েছে এখনও কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ। তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ধমান-কাটোয়া রেলওয়ে উড়ালপুলের উদ্বোধন হয়ে গেল। মেদিনীপুরের বীরসিংহ থেকে এই উদ্বোধন পর্ব সারলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তাঁর হয়ে এদিন বর্ধমানে হাজির ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। হাজির ছিলেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলাশাসক বিজয় ভারতী সহ জেলার সমস্ত আধিকারিকরাই। কেবল হাজির ছিলেন না রেল দপ্তরের কোনো আধিকারিক বা প্রতিনিধিই। এদিন রেলওয়ে ওভারব্রীজের উদ্বোধন করতে গিয়ে নাম না করেই রেলের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় চেয়েছিলেন ২০১৬ সালের মধ্যেই এই ব্রীজের কাজ শেষ করতে। কিন্তু রেল দপ্তরের গড়িমসির জন্য এত দেরী হল। সোমবার থেকে ওঠা বিতর্ককে মাথায় রেখেই এদিন সুব্রতবাবু বলেন, আর কোনো দ্বিতীয় উদ্বোধন হবে না। আজই বর্ধমান রেলওয়ে ওভারব্রীজের উদ্বোধন করলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। এরপরেও যদি কেউ আসে তাহলে আমাদের অফিসাররা তাদের ব্রীজ সহ এ্যাপ্রোচ রোড ঘুরিয়ে দেখিয়ে দেবেন – কত ভাল কাজ হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যে থেকে বর্ধমান রেলওয়ে ওভারব্রীজের উদ্বোধন নিয়ে ওঠা কেন্দ্র-রাজ্য তীব্র বিতর্কের পর মঙ্গলবার মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রাম থেকে এই উড়ালপুলের উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ টি ডায়ালিসিস মেশিন ইউনিটেরও উদ্বোধন করেন। এদিন বর্ধমান শহরে এই উড়ালপুলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশ মত তিনিই প্রদীপ জ্বেলে ফিতে কেটে উড়ালপুলের উদ্বোধন করেন। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুব্রত মুখোপাধ্যায় দাবী করেছেন, এই প্রকল্পের জন্য সিংহভাগ টাকাই দিয়েছে রাজ্য সরকার। এমনকি খোদ মমতা বন্দোপাধ্যায়ই এই ব্রীজের নকশার অনুমোদন করেছেন। এদিন সুব্রতবাবু জানিয়েছেন, দ্বিতীয় হুগলী সেতুর পরই এই ধরণের একটি সেতু গোটা দেশের কাছে গর্ব। তিনি চান, খোদ মুখ্যমন্ত্রী যাঁর কল্পনাপ্রসূত এই রেলওয়ে ওভারব্রীজ তিনি নিজে হেঁটে উড়ালপুলের উঠুন। এরই পাশাপাশি আবেগ আপ্লুত সুব্রতবাবু এদিন ঘোষণাও করেন, তাঁর ক্ষমতায় থাকলে তিনি ব্রীজের নামকরণ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নামেই করতেন। এদিকে, এদিন ব্রীজের উদ্বোধন হলেও বিতর্ক আরও তুঙ্গে উঠল। কারণ, নির্মাণ কাজ চলছে তাই প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কথা লিখে উড়ালপুলের এ্যাপ্রোচ রোডগুলির মুখে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের ব্যারিকেড লাগিয়ে রাখা হয়েছিল। এদিন সেগুলির মধ্যে একটি ব্যারিকেড রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একদিকে, যখন ব্রীজের উদ্বোধন পর্ব হয়েছে সেই সময় এদিনই উড়ালপুলের কিছু কিছু জায়গায় কর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে তৈরী এই প্রকল্পের মোট খরচ হয়েছে ২৮৭.৮৯ কোটি টাকা। অথচ এদিন এই উড়ালপুল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ছিলেন না কোনো রেলের প্রতিনিধি। এমনকি বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভার সাংসদ সুরেন্দ্রজিত সিং অহলুবালিয়াকেও কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে বিজেপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিন বর্ধমান ষ্টেশন ম্যানেজার স্বপন অধিকারী জানিয়েছেন, এব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারবেন না, যা বলার রেলদপ্তরের আধিকারিকরাই বলবেন। অপরদিকে, রেল সূত্রে জানা গেছে, এই ব্রীজ নির্মাণকারী সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড সোমবারই জানিয়েছে, এখনও ব্রীজের ভার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়নি। যে কেবল লাগানো হয়েছে তা সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা বিশেষজ্ঞ দিয়ে তা পরীক্ষা করা হয়নি। ৬টি পিলার সম্পর্কেও এখনও পরীক্ষা বাকি রয়েছে। ট্রাফিক ও গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও এখনও খতিয়ে দেখা হয়নি। এছাড়াও ব্রীজের নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা বাকি রয়েছে। তাই সোমবারই তাঁরা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয় এখনও ব্রীজ চালুর জন্য কয়েকদিন প্রয়োজন। এদিকে, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের পক্ষ থেকে এই চিঠি সম্পর্কে এদিন অনুষ্ঠানে আসা রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, এব্যাপারে রেল বিকাশ নিগম লিমি্টেড তাঁদের কিছু জানায়নি। বরং তাঁরা জানিয়েছিল ব্রীজ উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত। যে কোনোদিনই চালু করা যেতে পারে। তারপরই এই দিন ঘোষণা করা হয়। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, ৩০.০৯.২০১৯ তারিখ সোমবার রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বর্ধমান-কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রীজের উদ্বোধন করবেন।