বর্ধমান-কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রীজ আচমকাই বন্ধ, সোমবার থেকে বন্ধ হচ্ছে পুরনো ওভারব্রীজ
admin
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- আগামী সোমবার থেকে বর্ধমান-কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রীজে ভারী এবং নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে রেলকর্তৃপক্ষের উচ্চ পর্যায়েরবৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। বিশেষত, বৃহস্পতিবারসকাল থেকে আগাম ঘোষণা ছাড়াই বর্ধমান রেলওয়েও ভারব্রিজের যানবাহন চলাচলবন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়লেন সাধারণ মানুষ। বিনা নোটিশে রেল কর্তৃপক্ষ বর্ধমান-কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রীজের ওপর দিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে আচমকা লরি, বাসচলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় কালনা, কাটোয়ার পাশাপাশি নদীয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদের বাস-সহ সমস্ত গাড়িই বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে এই ঘটনায় তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হয়। জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, পুরনো ব্রীজের অবস্থা খারাপ। দ্রুত নতুন ব্রীজ উদ্বোধনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু বিনা নোটিশে এভাবে রাস্তা বন্ধ করা যায়না। তাই রেল দপ্তরকে জানানোর পর রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁরা ব্রীজের ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে বৈঠকে বসছেন। তারপরই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রেলসূত্রে জানা গেছে, ১৯৩০ সালে তৈরী হয় বর্ধমান-কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রীজ। কিন্তু বর্তমান সময়ে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচল করায় ব্রীজের অবস্থা ক্রমশই বিপদজনক হয়ে পড়ে। এরপরই ওই ব্রীজের পাশেই গড়ে তোলা হয় ৪ লেনের নতুন চতুর্মুখী ঝুলন্ত ব্রীজ। আগামী পুজোর আগেই তা চালুর চেষ্টাও চলছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগেই রেল দপ্তরের আধিকারিকরা এসে পুরনো ওই ব্রীজের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলে জানিয়ে যান। একইসঙ্গে ওই ব্রীজ দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেবার নির্দেশ দিয়ে যান। আর তারপরেই বিনা নোটিশে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই আচমকাই বন্ধ করে দেওয়া হয় সমস্ত যান চলাচল। রেলসূত্রে জানা গেছে,গত ৮ সেপ্টেম্বর পুরনো এই রেলওয়ে ওভারব্রীজের নীচের একটি বড় চাঁই খসে পড়ে ব্রীজের তলা দিয়ে যাওয়া ২৫ হাজার ভোল্টের রেলের বিদ্যুতবাহী তারের ওপর। তারপরই দ্রুততার সঙ্গে ভগ্নপ্রায় ওই ব্রীজ বন্ধ করে দেবার জন্য রেলের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু এব্যাপারে ব্যাপকহারে জনসাধারণের মধ্যে প্রচারের আগেই বৃহস্পতিবার এই পুরনো ওভারব্রীজের দুইপ্রান্তে হাইটবার লাগিয়ে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। রেলের পক্ষ থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় যানবাহন চলাচল। ফলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এদিকে, বৃহস্পতিবার এই ঘটনার পরই তড়িঘড়ি জেলাশাসক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকেন। ম্যারাথন বৈঠকে হাজির ছিলেন জেলা প্রশাসনের সমস্ত দপ্তরের আধিকারিক থেকে রেলের প্রতিনিধিরাও। জেলাশাসক জানিয়েছেন, নতুন রেলওয়ে ওভারব্রীজের কাজ সম্পূর্ণ। সামান্য কিছু ট্রাফিক সিগন্যালের কাজ বাকি রয়েছে। এখন কেবলই উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। দ্রুত ওভারব্রীজের উদ্বোধন করার বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে জানানোও হয়েছে। এখন রাজ্যসরকারের ওপর নির্ভর করছে কবে নতুন ব্রীজ উদ্বোধন হবে।যদিও জানা গেছে, রেলকর্তৃপক্ষ চাইছেন কেন্দ্রেরকোনো মন্ত্রীকে দিয়েই এই ওভারব্রীজের উদ্বোধন করাতে।অন্যদিকে রাজ্য সরকারের ইচ্ছা এর উদ্বোধন রাজ্য সরকারের তরফেই করা হবে। এদিন জেলাশাসক জানিয়েছেন, পুরনো এই ব্রীজের অবস্থা এতটাই খারাপ যে যেকোনো মূহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই দ্রুতই এই ব্রীজ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি যাতে যানবাহন চলাচল বা সাধারণ মানুষের কোনো অসুবিধা না হয় সেজন্য অস্থায়ীভাবে বাজেপ্রতাপপুর চারখাম্বার কাছে একটি বাসস্ট্যাণ্ড তৈরী করা হচ্ছে। সেখানেই কাটোয়া এবং কালনা থেকে আসা বাসগুলি দাঁড়াবে এবং যাবে। জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তাঁদের ধারণা দিন পনেরো এই অস্থায়ী বাসস্ট্যাণ্ড চালানো হবে। তার মধ্যেই নতুন ব্রীজের উদ্বোধন হয়ে যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন। একইসঙ্গে মালবাহী গাড়িগুলিকে কাটোয়ার দিক থেকে পালিতপুরের মধ্যে দিয়ে পাঠানো হবে এবং কালনা রোডের মালবাহী গাড়িগুলিকে আটাগড়দিয়ে জিটিরোডে পাঠানো হবে। এদিন, জেলাপুলিশ জানিয়েছেন, পুরনোএই ব্রীজের অবস্থা অত্যন্তখারাপ। ছোট যানবাহন এবং স্কুলবাসগুলিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে সাবধানতার সঙ্গে এই পুরনোব্রীজ দিয়ে পার করানো হবে। আপাতত নতুন ব্রীজ উদ্বোধন না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থাচালু থাকবে। একইসঙ্গে ব্রীজের পরিস্থিতি সম্পর্কে শুক্রবার থেকেই ব্যাপক হারে মাইকে প্রচার চালানোর কাজ শুরু হচ্ছে। বিকল্প অস্থায়ী এই ব্যবস্থাগুলিকে আগামী দুদিনেরমধ্যে সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট পূর্তদপ্তর সহ অন্যান্য দপ্তরগুলিকে।