E Purba Bardhaman

দলের প্রভাবশালীদের ইঙ্গিত করে মন্তব্য করতেই এবার পুরপ্রধানকে চিঠি দলের সভাপতির, জোর শোরগোল বর্ধমানে

300 crore project is facing destruction due to violence of sand mafia, said Chairman of Burdwan Municipality

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- কয়েকদিন আগেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন ‘কাজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যেখানেই হাত দিতে যাব ছোবল খেতে হবে।’ তাঁর এই বক্তব্যের পরই বর্ধমান পুরসভার পুরপ্রধান পরেশ চন্দ্র সরকারের কাছে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইল দল। শুক্রবার রাতেই পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় পরেশ সরকারকে এব্যাপারে চিঠি দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথবাবু চিঠিতে পরেশবাবুকে জানিয়েছেন, ”বর্ধমান শহরে অবৈধ নির্মাণ, পুকুর ভরাট ও জবর দখলের বিষয়ে আপনি সাংবাদিক বৈঠকে যে কথা বলেছেন তা আজকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যা আমার নজরে আসে। সংবাদপত্র থেকে জানতে পারলাম আপনি বলেছেন শাসক দলের প্রভাবশালীদের মদত ছাড়া অবৈধ নির্মাণ, পুকুর ভরাট ও জবর দখল হয় না। আপনাকে প্রথমেই অবহিত করি আপনার এই সাংবাদিক বৈঠককে দল বৈধতা দেয় না। এবং দল আপনার কাছে জানতে চায় এই ধরনের বৈঠক করার পূর্বে আপনি দলের কোনো উচ্চ নেতৃত্বের কাছে অনুমতি নিয়েছিলেন কিনা? এছাড়াও দলের পক্ষ থেকে আপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে আপনি সাংবাদিকদের কাছে যে সমস্ত প্রভাবশালীদের কথা বলেছেন যাঁরা বর্ধমান শহরে অবৈধ নির্মাণ, পুকুর ভরাট ও জবর দখলের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ দলের কাছে দাখিল করুন। দল তথ্য প্রমাণ দেখে এবং তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন পুরপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে অবৈধ কারবার বন্ধ করার নির্দেশ দেন। আর তারপরেই বর্ধমান পুরসভার পুরপ্রধান পরেশ সরকার দফায় দফায় এনিয়ে সোচ্চার হন। তিনি বালি লুঠ থেকে শুরু করে পুকুর ভরাট, বেআইনি নির্মাণে যুক্ত লোকেদের নিশানা করেন।
এমনকি ফুটপাতে লোকদের বাইরে থেকে নিয়ে এসে টাকার বিনিময়ে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ক্ষোভ উগরে দেন। তাদের ধরতে গেলে মামা, কাকা, দাদারা পিছনে আছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন যেখানেই হাত দিতে যাওয়া হবে সেখানে ছোবল খেতে হবে। আর এবার কাদের উদ্দেশ্যে তাঁর এই মন্তব্য জানতে চেয়ে চিঠি দিল দল। এদিকে, দলের এই চিঠি দেওয়াকে ঘিরে শহর জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। এব‌্যাপারে খোদ পরেশ সরকার জানিয়েছেন, তিনি দলের একজন কর্মী। দলের সভাপতি তাঁর কাছে জানতে চাইতেই পারেন। তিনি তার যথাযথ তথ্য সভাপতিকে জানাবেন। তিনি কোনো সাংবাদিক বৈঠক করেননি। যেহেতু গোটা বিষয়টি দলের আভ্যন্তরীণ বিষয় তাই এ সম্পর্কে তিনি কিছু বলবেন না। অপরদিকে, পরেশবাবু এব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু না বললেও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, পরেশবাবু চিঠির উত্তর দেবার জন্য প্রস্তুতই রয়েছেন। সেক্ষেত্রে তিনি কাদের কাদের নাম উল্লেখ করেন এবং আদপেই দল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় কিনা তা নিয়েই কৌতূহল তুঙ্গে উঠেছে। উল্লেখ্য, পরেশবাবুর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, তিনি গত ২ বছর ধরে এই সমস্ত অনিয়মের গভীরে পৌঁছেছেন। সেক্ষেত্রে তিনি সেই অনিয়মের কাণ্ডারীদের নাম ফাঁস করলে কী অবস্থা হতে পারে তানিয়েই কার্যত শঙ্কিত দল। অন্যদিকে, এই চিঠির ঘটনায় শহর জু়ড়ে শোরগোল শুরু হয়েছে বর্ধমান পুরসভার পুরপ্রধান বদল হতে চলেছে কিনা তা নিয়ে। কেউ কেউ বলছেন বিকল্প পুরপ্রধান কে হতে পারেন তা নিয়ে চলছে দড়ি টানাটানি। যদিও খোদ পরেশবাবু এই চিঠি সম্পর্কে বলেছেন, এটা মোটেও শোকজ নয়, জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।

Exit mobile version