বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- সমস্ত নিয়োগেই দুর্নীতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এতবড় দুর্নীতি ঘটে গেছে এই মুখ্যমন্ত্রী জানেন না, এটা ভাবা মুর্খমো। তিনি জানেন, তাঁর সচেতন অনুমতিতেই এই সমস্ত কাণ্ড ঘটেছে। সেই সমস্ত তথ্য আমাদের কাছে আছে, আমরা সেই তথ্য পেশ করেছি। তদন্ত যদি বিনা বাধায় হয় তাহলে অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের আওতায় আসবেন। শুক্রবার বর্ধমানের বীরহাটা পার্বতী মাঠে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির ১০ম ত্রিবার্ষিক রাজ্য সম্মেলনের প্রকাশ্য সভায় এসে সাংবাদিকদের এই কথাই জানিয়ে গেলেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা রাজ্য সভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছেন, যাঁরাই অপরাধ করেছেন তাঁদেরই এই তদন্তের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ-সহ গোটা রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক মামলা, তদন্ত চলছে। এর শেষ কোথায়? – এই প্রশ্নে এদিন বিকাশবাবু জানিয়েছেন, যেদিন সাধারণ মানুষ প্রশ্ন ছেড়ে রাস্তায় নামবেন -এই দাবীতে সেদিনই এর পরিসমাপ্তি ঘটবে। লালন সেখের মৃত্যু নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে এদিন বিকাশবাবু জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে লালন সেখের মৃত্যুর ঘটনায় বেশি উপকৃত হবেন অনুব্রত মণ্ডল এবং তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ, তিনি জানিয়েছেন, আশ্চর্যজনকভাবে লালন সেখের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী যাঁদের নামে অভিযোগ করেছেন তাঁরা সকলেই বগটুই কাণ্ড এবং এই কাণ্ডের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত, ফলে এর থেকে মনে হচ্ছে একটা চক্রান্ত থাকলেও থাকতে পারে। বর্ধমানের শাঁখারীপুকুরে একটি প্রাথমিক স্কুলকে ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেবার ঘটনায় হাইকোর্টে মামলার প্রসঙ্গে এদিন বিকাশবাবু জানিয়েছেন, শাসকদল পরিকল্পিতভাবে বহু জায়গায় হামলা করছে। যেখানেই শিক্ষার পরিবেশ রয়েছে সেখানটা নষ্ট করেছে। শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ানোয় তাদের বাধা দিচ্ছে তৃণমূল নেতারা। এমনকি সরকারী ছুটির সময় ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোয় শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। ফলে পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সবে অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনকে ভারতরত্ন দেবার যে দাবী মুখ্যমন্ত্রী করেছেন তা নিয়েও এদিন বিকাশবাবু জানান, একটা অযৌক্তিক, অবাস্তব কথা বলে গোটা বিষয়টির গৌরবকে নষ্ট করে ফেলছেন। বিকাশবাবু জানান, তাঁর এটা দুর্ভাগ্য যে অপরিণত মস্তিষ্কের মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছেন। এরই পাশাপাশি এদিন প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমাবেশের মুখ্য বক্তা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য শিক্ষকদের প্রকৃত গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। স্বাধীনোত্তর সময়কাল থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কিভাবে সমাজে বুদ্ধিজীবী এবং শিক্ষককুলের ওপর দফায় দফায় নানাভাবে হামলা হয়েছে তাও স্মরণ করিয়ে দেন। ধর্মান্ধতার মাধ্যমে সমাজকে পরিচালিত করতে গিয়ে সমাজকে ধ্বংস করার রাজনৈতিক পরিকল্পনাকে বানচাল করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের ডাক দেন তিনি। বিকাশবাবু এদিন বলেন, রাজ্যের তৃণমূল সরকার পরিকল্পিতভাবে সরকারী স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। পরিবর্তে বেসরকারী স্কুলের প্রাধান্য বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে কার্যতই শিক্ষকদের অস্তিত্ব ক্রমশই বিপন্নতার মুখে পড়ছে। এব্যাপারে শিক্ষকদের সতর্ক হবার আহ্বান জানান তিনি। এদিন এই প্রকাশ্য সভা বর্ধমানের কার্জন গেটে করার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েও তা না পাওয়ায় এদিন গর্জে ওঠেন দুঁদে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি এদিন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সভা করার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি নেবার কোনো দরকার নেই। এমনকি এই সভা করার জন্য পুলিশের অনুমতি দেবার অধিকারও নেই। তিনি এদিন পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এভাবে সংবিধানকে অবমাননা করবেন না। ভারতের প্রজাতন্ত্রকে কায়েম করতে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে এদিন বিকাশবাবু বলেন, শিক্ষকরাই পারেন জ্ঞানের আলোক জ্বালতে, সাহস দিতে, চেতনা দিতে। শিক্ষকরাই পারেন মানুষকে উদ্বেলিত করতে, তাঁদের জাগ্রত করতে। তিনি বলেন, ২০১১ সালের পর থেকে পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতি হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। কত সরকারী স্কুল উঠে গেছে, সরকারী স্কুলের ওপর আগ্রহ কমাচ্ছে কৌশলে।