E Purba Bardhaman

তৃণমূলকে জেতালে ৩ লক্ষ কোটি টাকা ফেরত না আনলে বাপের বেটা নই – অভিষেক

Trinamool Congress leader Abhishek Banerjee addressing a election rally. At Khandaghosh under Bishnupur Lok Sabha

খন্ডঘোষ (পূর্ব বর্ধমান) :-  তৃণমূলকে জেতান আর তা হলেই প্রতিবছর নরেন্দ্র মোদি যে ৫০ হাজার কোটি টাকা কেটে নিয়ে যাচ্ছে ৫ বছরের সেই ৩ লক্ষকোটি টাকা ফেরত নিয়ে আসবই। নাহলে আমি বাপের বেটা নই। বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের খন্ডঘোষের উখরিদ কলেজ মাঠে বিষ্ণুপুর লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরার সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে এসে একথা বলে গেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। বিজেপিকে রুখতে এদিন শ্রীরামকেও টেনে নিয়ে এসে অভিষেক বলেন, আমরাও প্রভু শ্রীরামের পুজো করি। পুজো করি লক্ষ্মী, গণেশেরও। কিন্তু বিজেপি শ্রীরামকে বিক্রি করছে ভোটের জন্য। অভিষেক এদিন বাঁকুড়ায় মোদির সভা নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ১ লক্ষ মানুষের জমায়েত মাঠে ৫ হাজার লোকও হয়নি। মোদির সভা ফ্লপ। কয়েকজন এসেছিল হেলিকপ্টার দেখতে। অন্যদিকে অভিষেক যখন এই কথা বলেছেন তখন অভিষেকের সভাস্থল ছিল কার্যত ফাঁকা। এখানেও তৃণমূলের নেতারা প্রায় ৫০ হাজার জমায়েতের লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সভায় লোক না হওয়ায় এদিন রমজান মাস, অতিরিক্ত দাবদাহ এবং ধান কাটার মরশুমকে অজুহাত করেছেন অভিষেক। উল্লেখ্য, অভিষেক এদিন খন্ডঘোষের মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা তৃণমূলকে ভোট দিয়ে জেতান। তিনি বলেন, তিনি বাঁকুড়া জেলায় দলের পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু এদিন থেকে খন্ডঘোষেরও দায়িত্ব নিচ্ছেন। এদিনই বাঁকুড়ায় মোদির সভা নিয়ে বলতে গিয়ে অভিষেক বলেন, আজ কবিগুরুর জন্মদিন। তৃণমূল কংগ্রেস এদিন সকাল থেকে একের পর এক অনুষ্ঠান করলেও কো্নো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। কিন্তু সেই বাংলায় এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামএ উচ্চারণ করেনি মোদি। এদিন বাঁকুড়ায় মোদির সভাকে ফ্লপ বলে অভিষেক বলেন, বাঁকুড়ার মানুষ বিজেপিকে, মোদিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, জীবনদায়ী ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়েও মোদি সরকারকে খোঁচা দিয়েছেন অভিষেক। নোট বন্দি সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, মোদির এত আস্পর্ধা যে নোট বন্দির নাম করে কোটি কোটি মানুষকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। তার মধ্যে ১৫০ জন মারাও গেছে। তারা সবাই হিন্দু। কার্যত এদিন ভিড়হীন অভিষেকের এই সভায় সেই হিন্দুত্বের তাসকেই বারবার উল্লেখ করেছেন অভিষেক। একের পর এক বিভি্ন্ন ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, হিন্দুদের জন্য বিজেপি সরকার কি করেছে? তৃণমূল কংগ্রেস জাতপাতের ধর্মের রাজনীতি বিশ্বাস করে না। তাই সমস্ত শ্রেণীর মানুষের জন্যই উন্নয়ন ঘটিয়ে চলেছেন। অভিষেক এদিন বলেন, মোদি বলেছিলেন ক্ষমতায় আসলে রামমন্দির তৈরী করবেন। কিন্তু গত ৫ বছরে একটাও ইঁট গাঁথা হয়নি রামমন্দিরের জন্য। সিবিআই–এর চিটফাণ্ড নিয়ে তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে এদিন ফের অভিষেক নাম না করেই বিঁধেছেন মুকুল রায়কে। তিনি বলেন, চিটফাণ্ড নিয়ে তদন্ত করবে বলেছে, অথচ গদ্দারতো তারই পাশে বসে রয়েছে। আসলে এখন গদ্দার গদ্দার মিলে গেছে। এদিকে, এদিন অভিষেকের সভায় লোক না হওয়া প্রসঙ্গে সিপিএমের কৃষক সংগঠনের জেলা নেতা বিনোদ ঘোষ জানিয়েছেন, খণ্ডঘোষের মানুষ দিনেদুপুরে তৃণমূল নেতাদের অত্যাচার দেখছে গত ৫ বছরে। কদিন আগেই একজনকে খুনও করেছে। আর তাই মানুষ ওই সভায় যাওয়ার কোনো প্রয়োজনই মনে করেনি। তিনি জানান, ১২ তারিখের ভোটেও খণ্ডঘোষের মানুষ তৃণমূলকে নয় সিপিএমকেই উজার করে ভোট দেবে। অভিষেকের সভায় লোক না হওয়া প্রসঙ্গে বিজেপির খণ্ডঘোষ অঞ্চলের নেতা অরূপ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, গ্রামের মানুষরা তৃণমূলের সন্ত্রাসের জন্যই প্রতিবাদ হিসাবে এদিন সভায় হাজির হয়নি। একইসঙ্গে সদ্য ঘটে যাওয়া খুনের বিষয়টিকে এলাকার মানুষ মেনে নিতে পারেনি। আর তাই অভিষেকের সভায় যায়নি কেউ। উল্লেখ্য,এদিন সভায় লোক হাজির করার জন্য খণ্ডঘোষ ব্লকের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম থেকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া লাগাতার চেষ্টা করলেও তীব্র গরম, ধান কাটার মরশুম এবং সভার সময়ের জন্যই লোক আসেনি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। অপার্থিব ইসলাম জানিয়েছেন, তীব্র গরমের পাশাপাশি এখন মাঠে মাঠে ধান কাটার মরশুম চলছে। সকলেই কালবৈশাখীর ঝড় জলের আতংকে ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। সেই অবস্থায় দুপুর ১টা সভায় হওয়ায় অনেকের ইচ্ছা থাকলেও আসতে পারেননি। তারওপর চলছে রমজান মাস। যদিও তিনি দাবী করেছেন এদিন প্রত্যাশিত জমায়েত না হলেও বহু মানুষই হাজির হয়েছিলেন সভায়। যদিও এদিন খণ্ডঘোষের আলিপুর গ্রাম থেকে কোনো মানুষই সভাস্থলে হাজির হয়নি বলে জানা গেছে। কয়েকদিন আগেই তৃণমূলের হাতে খুন হন কামরুল সেখ নামে এক রাজনৈতিক কর্মী।

Exit mobile version