বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল জুট মিলের তৃণমূল সমর্থক এক শ্রমিককে বিধায়ক জনসেবা কেন্দ্রে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেপরোয়াভাবে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলেরই একাংশের বিরুদ্ধে। লোকসভা ভোটের মুখে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গুরুতর জখম ওই শ্রমিকের নাম তপন সানা। বাড়ি শক্তিগড় থানার বড়শুলের যদুনাথপল্লী এলাকায়। এই ঘটনায় তপন সানা শক্তিগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তপনবাবু জানিয়েছেন, তিনি বড়শুল জুট মিলের শ্রমিক এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুর ২ টো থেকে রাত্রি ১০টা পর্যন্ত তাঁর মিলে ডিউটি ছিল। ডিউটি থেকে ফেরার পথে তাঁরই সহকর্মী সেখ জাকির তাঁকে জানান বর্ধমান ২ ব্লকের আইএনটিটিইউসি ব্লক সভাপতি সেখ কামরুল হাসান ওরফে রাজু তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। এরপর তাঁকে বড়শুলের বিধায়ক জনসেবা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তপনবাবু জানিয়েছেন, সেখানে কামরুল হাসান আসার পরই সেখানে থাকা একাধিক ছেলে তাঁকে আচমকাই মারতে শুরু করেন। তাদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি পালাতে গেলে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া বিধায়ক জনসেবা কেন্দ্রের পিছনে। সেখানে তাঁর ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়। তাঁর চিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে আসে। তপনবাবুর দাবি, এই সময় কামরুল হাসান পুলিশকে ফোনে ডাকেন এবং বলেন একটা মেয়েলি কেসে ছেলেটিকে ধরা হয়েছে, মেয়েটি পালিয়ে গেছে। এরপরই পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তপনবাবু জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় তিনি হতচকিত হয়ে পড়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রামের লোকজন না আসলে তাঁকে খুন করারই পরিকল্পনা ছিল। তিনি জানিয়েছেন, শনিবার তিনি শক্তিগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, যাঁরা তাঁকে মারধর করেছেন তাঁরা সকলেই তৃণমূলেরই সমর্থক। কি কারণে তাঁকে মারা হয়েছে সে সম্পর্কে তপন সানা জানিয়েছেন, তাঁরা রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের নির্দেশে বড়শুল জুট মিলে তৃণমূল শ্রমিক ইউনিয়ন চালিয়েছেন। সম্প্রতি বর্ধমান ২ ব্লকের আইএনটিটিইউসির সভাপতি করা হয়েছে কামরুল হাসানকে। তাঁর লোকজন ইউনিয়ন চালাচ্ছেন। কিন্তু মিলের ম্যানেজমেণ্ট তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন না। তাই তাঁর ওপর কোপ এসে পড়েছে। কার্যত মিলের দখলদারীতে অসুবিধা হচ্ছে বলেই তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছিল। তপনবাবু জানিয়েছেন, নতুন সভাপতি আসার পর তাঁকে ৮ মাস বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে তিনি আর ইউনিয়ন করেন না। কিন্তু সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ওপর এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, এব্যাপারে সেখ কামরুল হাসান ওরফে রাজু জানিয়েছেন, পুরোনো বিবাদের জেরেই তপন সানার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। যদিও তা সম্পূর্ণ অন্যায় হয়েছে। যাঁরা মারধর করেছে তাঁরা তপন সানার পূর্ব পরিচিত। এর সঙ্গে মিলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি মারধরের খবর পেয়ে ছুটে যান এবং পুলিশ ডেকে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বড়শুল এলাকায়।