E Purba Bardhaman

পথ দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু, চালকের বিরুদ্ধে অনিইচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানোর ধারায় চার্জশিট পেশ

ফাইল চিত্র।

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- রাজ্যে পথ দুর্ঘটনায় রাশ টানতে ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচী চালু হয়েছে। বেপড়োয়া গাড়ি চালানো রুখতে দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে দোষী চালকের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানো (৩০৪ আইপিসি) ও খুনের মামলা (৩০২ আইপিসি) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্দেশিকাও জারি হয়েছে। কিন্তু, বর্ধমানের রথতলা ইটভাটা এলাকায় পথ দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যুতে পিচ বোঝাই ট্যাঙ্কার চালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানোর ধারায় চার্জশিট পেশ করে উল্টো পথে হাঁটল পুলিশ। যদিও তাতে সিলমোহর দিয়েছে আদালত। কেসের অভিযোগকারীর আইনজীবী সায়ন্তন সোম ইচ্ছাকৃত খুনের ধারা মামলায় রুজু করে ফের তদন্তের দাবি করেন। আদালতে তিনি জানান, গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিল কিনা সে সম্পর্কে পুলিস কিছু জানায় নি। তাছাড়া বিভিন্ন মামলায় ৩০৪ ধারা যুক্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশিকা রয়েছে। সঙ্গীতশিল্পী কালিকাপ্রসাদ ও অভিনেত্রী সোনিকা সিংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ৩০৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। চালকের গাফিলতিতে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ পুলিস লঘু ধারায় চার্জশিট পেশ করেছে। পুলিসের তদন্তে গাফিলতি রয়েছে। তাই, ফের তদন্ত করা হোক। সরকারি আইনজীবী নারদ কুমার ভূঁইঞা অবশ্য মামলায় ৩০৪ ধারা যুক্ত করার ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানান। পুলিসি তদন্তে কোনও গাফিলতি নেই বলে আদালতে জানান সরকারি আইনজীবী। দু’পক্ষের সওয়াল শুনে মামলায় ৩০৪ ধারা যুক্ত করা এবং ফের তদন্তের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা। উল্লেখ্য, গত বছর শহরের কার্জন গেট এলাকায় এক চিকিৎসকের গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক ব্যবসায়ীর। সেই ঘটনায় পুলিস প্রথমে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানোর ধারায় (৩০৪এ আইপিসি) মামলা রুজু করায় জামিন পেয়ে যান অভিযুক্ত চিকিৎসক। পরে মৃত ব্যবসায়ীর স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলায় ইচ্ছাকৃতমৃত্যু ঘটানোর ধারা (৩০৪ আইপিসি) যুক্ত করতে বাধ্য হয় পুলিস।

ফাইল চিত্র।

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ২২ মার্চ রথতলার ইটভাটা এলাকায় তরল পিচবাহী ট্যাঙ্কারে চাপা পড়ে একই পরিবারের ৭ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে দু’টি শিশুও ছিল। তারমধ্যে একটি শিশু দুর্ঘটনার পর অনেকক্ষণ বেঁচেছিল। জীবনের জন্য তার কাতর আর্তি সারা দেশে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরণের ঘটনার নজির সম্ভবত দেশে নেই। ঘটনার পর ট্যাঙ্কার চালক পালিয়ে যায়। পরে সে আদালতে আত্মসমর্পণ করে। ট্যাঙ্কার চালকের আইনজীবী পুলক মুখোপাধ্যায় বলেন, এটি দুর্ঘটনা ছিল। দুর্ঘটনাগ্রস্ত মারুতি সুজুকি গাড়িটি ওভারটেক করতে গেলে সেটিকে পাশ দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় ট্যাঙ্কারটি। ঘটনায় চালকের কোনও গাফিলতি ছিল না। দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মর্মান্তিক। কিন্তু, ঘটনার জন্য চালককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ঠিক নয়।

Exit mobile version