E Purba Bardhaman

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বর্ধমানে বসতে চলেছে উত্তম-সুচিত্রার পূর্ণাবয়ব মূর্তি

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- আবেগ, ভালবাসা আর ভাললাগাকে সম্বল করেই বর্ধমানের উত্তম-সুচিত্রা ফ্যান ক্লাবের কয়েক দশকের লড়াইয়ে অবশেষে সাফল্য মিলতে চলেছে। সেই বাম আমল থেকে বারবার আবেদন নিবেদন করেও ফল না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা যখন গ্রাস করেছিল বর্ধমানের এই ফ্যান ক্লাবের সেই সময় ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর এক ঝটকায় হতাশা দূর করে দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। বর্ধমান ফ্যান ক্লাবের আবেদনকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করেই তা বাস্তবায়িত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। বর্ধমানের এই উত্তম সুচিত্রা ফ্যান ক্লাবের আবেদন ছিল বর্ধমান জেলার অগণিত উত্তম ও সুচিত্রার অনুরাগীদের মর্যাদা দিয়ে বর্ধমানে প্রতিষ্ঠিত হোক উত্তম সুচিত্রার একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি। মূর্তি বসানো হোক সকলের গোচরের মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছিল কোথায় তা বসানো হবে তা নিয়ে। খোদ ফ্যান ক্লাবের সদস্যদের মধ্যেই জমি চিহ্নিত করণ নিয়ে কিছুটা মতানৈক্যও ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বর্ধমান টাউন হলে সুচিত্রা সেনের ৮৭তম জন্মদিবস পালন করতে গিয়ে এব্যাপারে ঐক্যমত্যে পৌঁছান ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বর্ধমান শহরের কোর্ট কম্পাউণ্ডের সংস্কৃতি লোকমঞ্চের সামনের পার্কেই যেখানে সিধু কানহুর মূর্তি রয়েছে, সেখানেই বসানো হোক এই মূর্তি। অবশেষে কয়েকদশক পর বর্তমান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বর্ধমান শহরে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেনের পূর্ণাবয়ব মূর্তি। আগামী ২৪ জুলাই উত্তম কুমারের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এব্যাপারে ঘোষণাও হতে পারে বলে মনে করছেন বর্ধমানের উত্তম-সুচিত্রা ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা। এই ক্লাবের সম্পাদক শরত কোনার জানিয়েছেন, বাম আমল থেকেই তাঁদের এই ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে বর্ধমানে এই দুই অভিনেতা ও অভিনত্রীকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দুটি মূর্তি বসানোর দাবী জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বাম আমলে তা নিয়ে তেমনভাবে কোনো আগ্রহ না দেখালেও রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১১ সালে এই ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই আবেদন জানানো হলে তিনি দ্রুততার সঙ্গে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে গোটা বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই কলকাতার মেট্রো ষ্টেশনের নামকরণ করা হয়েছে উত্তমকুমারের নামে। এমনকি রাজ্যের বিভিন্ন মনীষীদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একাধিক উদ্যোগও নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শরতবাবু জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেও পরবর্তীকালে তাঁদের কিছুটা ঢিলেমীর জন্য এই কাজে দেরী হয়। সম্প্রতি তাঁরা পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এরপরই জায়গা চিহ্নিত করণের জন্য তিনি নির্দেশ দেন। শরতবাবু জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি তাঁরাও এব্যাপারে জমি চিহ্নিতকরণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় ভিন্ন মতামতের জন্য। কেউ বর্ধমান ষ্টেশন, কেউ একদা কার্জন গেটের সামনে ম্যাণ্ডেলা পার্ক আবার কেউ সংস্কৃতি লোকমঞ্চের সামনের পার্ককে চিহ্নিত করেন। অবশেষে সংস্কৃতি মঞ্চের সামনের জায়গাকেই চুড়ান্তভাবে তাঁরা চিহ্নিত করে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা আশা করছেন খুব শীঘ্রই এব্যাপারে রাজ্য সরকার সবুজ সংকেত দিতে চলেছেন। যদিও এব্যাপারে বর্ধমান জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ বাগবুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ এসেছে জমি চিহ্নিতকরার বিষয়ে। যেহেতু সংস্কৃতির সামনের পার্কটিতে ইতিমধ্যেই সিধু-কানহুর মূর্তি রয়েছে, তাই সেখানে ফের আরও দুটি মূর্তি বসলে তা ঘিঞ্জি আকার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সংস্কৃতির ভেতরে কোনো জায়গায় এই মূর্তি বসানো যায় কিনা তা নিয়েও তাঁরা আলোচনা করছেন। খুব শীঘ্রই এব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে তাঁরা রিপোর্ট পাঠিয়ে দেবেন।

Exit mobile version