পূর্ব বর্ধমান জেলার ৪৩ জন কৃষককে দেওয়া হলো সরকারি ভর্তুকিযুক্ত ট্রাক্টর
admin
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- সরকারী সহায়তায় কৃষকদের সার্বিক উন্নতিকল্পে কৃষি প্রযুক্তি যন্ত্র প্রদানে দুর্নীতি রোধে ৫ বছরের জন্য বণ্ড চালু করল রাজ্য সরকার। বুধবার পূর্ব বর্ধমান জেলার বাছাই করা ৪৩জন কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হল সরকারী ভর্তুকিযুক্ত ট্রাক্টর। বর্ধমানে এদিন কৃষকদের হাতে ট্রাক্টরের এই চাবি তুলে দেন জেলাশাসক আয়েষা রাণী এ., অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রসেনজিত দাস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহবুব মণ্ডল, জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) অমর কুমার মন্ডল প্রমুখরা। এদিন জেলাশাসক জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে কৃষি যান্ত্রিক করণ ২০২৫-২০২৬ বর্ষে ‘ফার্ম মেকানাইজেশন ব্যাঙ্ক’ স্কিমে বুধবার ৪৩ জনের হাতে ট্র্যাক্টর তুলে দেওয়া হলো। কৃষি ও কৃষকের উন্নতির জন্য এই সরকারী ভর্তুকিতে এই ট্র্যাক্টর তুলে দেওয়া হল। জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা অমর কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, প্রতি যন্ত্র পিছু ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৮ লক্ষ টাকা ভর্তুকি সরাকারিভাবে দেওয়া হলো। কৃষকরা নিজেদের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা খরচ করে যন্ত্রাংশ-সহ ট্র্যাক্টর কিনেছেন। আগামীদিনে পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষি ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। কৃষকদের আর্থিক উন্নতি হবে। রাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে। তিনি জানিয়েছেন, অনলাইনের মাধ্যমে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। এই বর্ষের অর্থ বরাদ্দ অনুযায়ী ৭০ জন কৃষককে এই ভর্তুকি দেওয়া যাবে। সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখার পরে লটারির মাধ্যমে বাছাই করে ৪৩ জনকে দেওয়া হলো, ৭০ জনকে দেওয়ার লক্ষ রয়েছে। গত অর্থবর্ষে ৬৩ জনকে দেওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক করণে পিছিয়ে থাকা ব্লক এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সি এইচ সি স্কিমে ধান কাটার মেশিন, ট্রাক্টরস-সহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি আগামী সময়ে দেওয়া হবে। এই স্কিমেও ৩০-৩৫ জন কৃষক উপকৃত হবেন। এদিন কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহবুব মণ্ডল জানিয়েছেন, আগে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা দেওয়া হতো। কৃষকরা সেই টাকা দিয়ে কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে গড়িমসি করতেন। এখন সরকার নিয়ম পরিবর্তন করেছে। কৃষক যন্ত্রপাতি কেনার পরে দপ্তরে বিল জমা দেবেন। দপ্তর খতিয়ে দেখা হবে, জিও ট্যাগিং করা হবে। তারপরে বিল পেমেন্ট করা হবে। ৫ বছরের একটা বন্ড থাকবে, সেটা মেনে চলতে হবে। সেই সময়ে যন্ত্রপাতি বিক্রি করতে পারবেন না, নতুন করে তিনি বা তাঁর কোনও নিকট আত্মীয় এই স্কিমের ভর্তুকির জন্য আবেদনও করতে পারবেন না।