E Purba Bardhaman

বর্ধমানে মহিলাদের মিনি ম্যারাথনে প্রথম হলেন উত্তর ২৪ পরগনার শম্পা

"Run For Light ~ Run For Women Spirit" - The Women's Mini Marathon Race, which was about 5 km long, was organized on Sunday along GT Road from Ullash More in Burdwan to Burdwan Municipal High School. The competition was organized by the 'Ajker Arshinagar' organization.

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- রবিবার দীপাবলীর আগে ‘আজকের আরশিনগর’-এর উদ্যোগে বর্ধমানে অনুষ্ঠিত হলো “রান ফর লাইট”। ১৪ ঊর্ধ্ব মহিলাদের জন্য বিশেষ ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা। বর্ধমানের উল্লাস মোড় থেকে বর্ধমান মিউনিসিপাল হাই স্কুল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বের এই দৌড় প্রতিযোগিতায় ৭৭ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার মছলন্দপুরের বাসিন্দা শম্পা গাইন। সময় নিয়েছেন ১৬ মিনিট ৭ সেকেন্ড। তিনি জানিয়েছেন, মালদায় ভাড়া থেকে খোখো এবং অ্যাথলেটিক্স-এর অনুশীলন করেন। বাবা ভ্যান চালক। নেতাজি শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয় থেকে বিএ সম্পূর্ণ করেছেন। কয়েকদিন আগেই শম্পা আঘাত পেয়েছিল, দুই সপ্তাহ অনুশীলন করে এদিনের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এর আগেও অনেক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেছেন, বিভিন্ন স্থানও অধিকার করেছেন। লক্ষ্য ন্যাশানাল এবং এর মাধ্যমে যদি কোনও সরকারি চাকরিতে সুযোগ পাওয়া যায়। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছেন হুগলী জেলার জয়শ্রী দাস। তিনি সময় নিয়েছেন ১৬ মিনিট ২১ সেকেন্ড। জয়শ্রীর বাবা গেঞ্জি কারখানায় কাজ করেন। মূলত ৮০০ এবং ১৫০০ মিটার প্রতিযোগিতাতেই তিনি অংশ নেন। তাঁরও লক্ষ্য ন্যাশানাল। জয়শ্রী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তৃতীয় হয়েছেন পুরুলিয়া জেলার পুরুলিয়া ১ ব্লকের চাকদার মাহালিতোড়া গ্রামের বাসিন্দা পুষ্পারাণী মাহাতো। আর্থিক কষ্টের কারণে জুতো কিনতে না পারায় তিনি এদিন খালি পায়েই অংশ নেন। পুষ্পা সীতারাম মাহাতো মেমোরিয়াল কলেজের ফিজিক্যাল এডুকেশনের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। গ্রামে এফ সি সি মাহালিতোড়া ফুটবল দলের সদস্য, কলেজে খোখো খেলেন। বাবা চাষের সাথে যুক্ত। পুষ্পারাণী এবং তাঁর দুই বন্ধু অনামিকা মাহাতো ও সুপ্রভা মাহাতো এই তিনজন একই গ্রামের একই কলেজের ছাত্রী। এই তিন বন্ধু শনিবার রাতে বর্ধমান স্টেশনে এসে পৌঁছান, স্টেশনেই কাটিয়ে দেন বাকি সময়। সকালে দৌড়ে অংশ নেন। এদিন এরা তিনজনই খালি পায়ে দৌড়েছেন। তিনজনই ফুটবল এবং খোখো খেলার সাথে যুক্ত। আয়োজক সংস্থার সম্পাদক অরুপ লাহা জানিয়েছেন এদিন ১৬ থেকে ৫২ বছর বয়সি মোট ৭৭ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। ৮২ জন নাম নথিভুক্ত করেছিল। পূর্ব বর্ধমানের মাত্র ৫ জন। বেশিরভাগই ১৮ থেকে ২৫ এর মধ্যে বয়স। এদিন বিজয়ীদের হাতে আর্থিক পুরস্কার-সহ মানপত্র ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক আয়েষা রাণী এ., পুলিশ সুপার সায়ক দাস, জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি গার্গী নাহা, প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু, বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক, অ্যাপোলো হাসপাতালের কর্ণধার ঐশী ঘোষ দস্তিদার, মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অরুণাভ চক্রবর্তী, সংস্থার সভাপতি পার্থ চৌধুরি, সহ-সভাপতি অপূর্ব দাস, মাধব ঘোষ, অভিজিৎ সাহা, আমিনুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জেলাশাসক আয়েশা রানী এ বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রতিবছর এমন আয়োজন হলে মহিলারা মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর হবেন।”
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী শম্পা গায়েনকে মেডেল ও ২০,০০০ টাকা পুরস্কার তুলে দেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক আয়েশা রানী এ। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী জয়শ্রী দাসকে মেডেল ও ১০,০০০ টাকার পুরস্কার তুলে দেন পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাস। তৃতীয় স্থানাধিকারী পুষ্পা রানী মাহাতোকে মেডেল ও ৫০০০ টাকার পুরস্কার প্রদান করেন জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি গার্গী নাহা। এছাড়াও পরের ৭ জনকে ২০০০ টাকা করে, ৫ জনকে ১০০০ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।
আজকের আরশিনগরের সভাপতি পার্থ চৌধুরি ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, “একসময় এই এলাকায় নারী-পুরুষ উভয়েই নীলকর জমিদারদের ও ইংরেজদের অত্যাচারে ভুগতেন। কৌলীন্য প্রথার কারণে কিশোরী মহিলাদেরকে জ্বলন্ত চিতায় পোড়ানো হতো। বিভিন্ন রাজ্যে সদ্যোজাত কন্যাদের ধাত্রীদের দিয়ে হত্যা করা হতো। আজকের দিনে মহিলারা সমাজে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন, দেশ চালাচ্ছেন। সেটাই সমাজে আলো আনছে। এই আলোর অভিযান জয়যুক্ত হোক।” এদিনের এই মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজনে সহযোগিতায় ছিলেন জেলার স্পোর্টস অফিসিয়ালরা, পূর্ব বর্ধমান সাইকেলিং ক্লাব ও মায়ের ভাণ্ডার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা।

Exit mobile version