E Purba Bardhaman

ইস্টবেঙ্গলের পর মোহনবাগান এলনা ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপে, হতাশ ফুটবল প্রেমীদের বড় অংশ

After East Bengal, Mohun Bagan also did not come to play in the Bhadreswar Gold Cup, a large section of football fans are disappointed.

বিপুন ভট্টাচার্য, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- বৃহস্পতিবার বর্ধমান স্পন্দন মাঠে ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের খেলায় এল না মোহনবাগান। এদিন গোয়ার চার্চিল ব্রাদার্স বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের খেলা ছিল। কিন্তু বুধবার রাত্রি প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের উদ্যোক্তারা সাংবাদিক বৈঠক করে মোহনবাগানের না আসার খবর দেন। আর তারপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এনিয়ে চর্চা শুরু হয়। এদিন মোহনবাগানের পরিবর্তে মাঠে নামে ইয়ং ইউনাইটেড কোচিং সেন্টার। ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের উদ্যোক্তা পার্থ নন্দী এবং সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মোহনবাগানের আসার কথা ছিল। কিন্তু আইএসএলের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। সেজন্য মোহনবাগান আসেনি। যদিও এদিন সোমনাথবাবুরা স্বীকার করেছেন, মোহনবাগান যে আসবে তার পূর্ণ অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তাঁরা মোহনবাগানকে ভালোবাসেন, তাই তাঁরা আশা করেছিলেন এই অনুমোদন পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, এদিন খবর রটে যায়, মোহনবাগানের অনুমোদন ছাড়া তাদের নাম ও লোগো ব্যবহার করায় বাগান কর্তৃপক্ষ ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপ উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে। যদিও এব্যাপারে বারবার বাগান সভাপতি দেবাশীষ দত্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি জানিয়েছেন, যাঁরা প্রচার করেছে তাঁদের জিজ্ঞাসা করুন। উল্লেখ্য, গতবছর এই ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক পর্যায়ে ইস্টবেঙ্গল আসবে বলে প্রচার করা হলেও ইস্টবেঙ্গল আসেনি। এবারে টুর্নামেন্টের প্রথম থেকেই জানান হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল আসছে না, কিন্তু মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট আসছে। এবছর ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের উদ্যোক্তারা ঘোষণা করেছিলেন, এই টুর্নামেন্ট অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) অনুমোদন পেয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর এআইএফএফ থেকে চিঠি দিয়ে তা জানিয়েও দেওয়া হয় উদ্যোক্তাদের। যেখানে পরিষ্কারভাবে ৩টি শর্ত বলা ছিল। যার মধ্যে ছিল টুর্নামেন্ট শুরুর কমপক্ষে ৫ দিন আগে এইআইএফএফ-এর কাছে ম্যাচের ফিক্সচার পৌঁছাতে হবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্লাবের এনওসি থাকতে হবে এবং খেলোয়াড়দের ক্লাবের রেজিস্টার্ড হতে হবে। এদিন মোহনবাগান না আসায় খোদ উদ্যোক্তাদের একাংশ জানিয়েছেন, এই শর্তগুলিই লঙ্ঘন করা হয়েছে। মোহনবাগানের যেমন কোনো অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও তাদের নামে প্রচার করা হয়েছিল, তেমনি এই প্রতিযোগিতায় যাদের খেলানো হয়েছে তাদের অনেকেরই সংশ্লিষ্ট ক্লাবের রেজিস্টার্ড নন। ফলে এই টুর্নামেন্ট ঘিরে ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের এইআইএফএফের অনুমোদন আদৌ থাকবে কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। অপরদিকে, এদিনের গোয়ার চার্চিল ব্রাদার্স এবং ইয়ং ইউনাইটেড কোচিং সেন্টারের (ইয়ং ইউনাইটেড ফুটবল একাডেমি / ইয়ং ইউনাইটেড ফুটবল কোচিং সেন্টার) খেলা টানটান উত্তেজনায় শেষ হয়। ইয়ং ইউনাইটেড কোচিং সেন্টার ৩-০ গোলে পরাজিত করে। খেলার প্রথম থেকেই তারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে। খেলার প্রথমার্ধের ৪৬ মিনিটের মাথায় গোলবক্সের মধ্যে থেকে গোল করেন হর্ষ পারুই। তার ঠিক মিনিট তিনেকের মাথায় ডানদিকে সুন্দর শর্টে জালে বল জড়িয়ে দেন দেবায়ন হাজরা। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে চার্চিল ব্রাদার্স ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করলেও রীতিমতো ছন্দে মেতে ওঠা ইয়ং ইউনাইটেড কোচিং সেন্টারের রিক মালিক, মিঠুন মণ্ডল, অরিজিত বাগুই প্রমুখরা পায়ের জাদু দেখাতে শুরু করেন। গত ২ দিন ধরে স্পন্দনের স্টেডিয়াম যেখানে খাঁ-খাঁ করছিল, এদিন দর্শক ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। রীতিমতো জমজমাট এই খেলা নিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। দ্বিতীয়ার্ধের ৮৫ মিনিটের মাথায় তৃতীয় গোল করেন রিক মালিক। এদিন উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে মোহনবাগানের প্রাক্তন অধিনায়ক প্রীতম কোটালকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের উদ্যোক্তা রিয়েল বুল কোচিং সেন্টারের সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং লালবাবা রাইসের কর্ণধার পার্থ নন্দী জানিয়েছেন, তাঁরা চাইছেন শৈশব ফিরুক মাঠে। এই স্লোগানকে সামনে রেখেই তাঁরা এই ম্যাচের আয়োজন করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, একসময় যাঁরা বর্ধমান থেকে গিয়ে কলকাতার মাঠ কাঁপিয়েছেন, তাঁদের ছেলে-মেয়ে, নাতি নাতনিরা কিন্তু মাঠে আসছেন না। তাঁরা চান তারাও মাঠে আসুক। প্রসঙ্গত, পার্থ নন্দী জানিয়েছেন, ফুটবলের পাশাপাশি তাঁরা উদ্যোগ নিয়েছেন মহিলা ফুটবল ও ক্রিকেটকেও শুরু করতে। খুব শীঘ্রই সেই কাজ শুরু হবে।

Exit mobile version