E Purba Bardhaman

দায়সারা ভাবে শুরু হল সিএবি-র অনূর্ধ্ব-১৫ জেলাস্তরের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা

CAB's U-15 district-level cricket Tournament started irresponsibly, breaking the rules

গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- নিয়ম ভাঙাই এখন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্ধমান জেলা ক্রীড়া সংস্থায়। কর্মসমিতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও নির্বাচন হয়নি সংস্থায়। আইন ভেঙে তৈরি হয়েছে ১১ সদস্যের অন্তর্বর্তী কমিটি। বেশিরভাগ জেলায় ক্রিকেট লিগ শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, বর্ধমানে এখনও লিগ শুরু হয়নি। কবে হবে তার নিশ্চয়তা নেই। এসবের মধ্যেই অত্যন্ত দায়সারা ভাবে এবং নিয়ম ভেঙে শুক্রবার থেকে শুরু হল সিএবি-র অনূর্ধ্ব-১৫ জেলাস্তরের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। রাধারানি স্টেডিয়ামের পিচ এখনও তৈরি হয়নি। সে কারণে এদিন মালির মাঠে (রাজনন্দিনী ক্রিকেট মাঠ) ম্যাচের আয়োজন করা হয়। মাঠটি আকারে অত্যন্ত ছোট। সিএবি নির্ধারিত মাপের নয়। সেখানেই টার্ফ উইকেটের পরিবের্ত অ্যাস্ট্রোটাের্ফর পিচে খেলা হল। তাও আবার একদিকে। ব্যাটাররা একদিকে ব্যাট করল। সাধারণত পাড়া বা গলি ক্রিকেটে এ দৃশ্য দেখা যায়। সিএবি অনুমোদিত কোনও প্রতিযোগিতায় এ দৃশ্য কল্পনার বাইরে। নিয়ম অনুযায়ী, টার্ফ উইকেটে ম্যাচ হওয়ার কথা। নিয়ম ভেঙে কৃত্রিম উইকেটে জোর করে ম্যাচ খেলালেন জেলার কর্তারা। এখানেই শেষ নয়, মাঠটি আকারে অত্যন্ত ছোট। পাশাপাশি এদিন মাঠে কোনও স্কোরবোর্ড ছিল না। যা একেবারে নিয়মবিরুদ্ধ। মাঠে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকার কথা। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সরকারি কোটায় পাওয়া অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। খেলার প্রয়োজনে সেটির ব্যবহার হয়না বললেই চলে। ম্যাচ শুরুর সময় মাঠে পানীয় জলের ব্যবস্থাও ছিল না। পরে জলের ব্যবস্থা করা হয়। সিএবির কর্তাদের বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত বলে মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
এদিন পদ্মশ্রী ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে গলসি উদয়ন সংঘের খেলা ছিল। ম্যাচটি পদ্মশ্রী ক্লাব সহজেই জেতে। প্রথমে ব্যাট করে পদ্মশ্রী ক্রিকেট ক্লাব ৩৮ ওভারে সবক’টি উইকেট খুইয়ে ২১২ রান তোলে। রান তাড়া করতে নেমে গলসি উদয়ন সংঘ ১২৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। বিদায়ী কর্মসমিতিতে ক্রিকেট সচিব পদে থাকা শিবশংকর ঘোষ অন্তর্বর্তী কমিটিতেও রয়েছেন। এদিনের ম্যাচ আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেভাবে ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ এবং ক্রিকেটের পরিপন্থী। সিএবির প্রতিযোগিতায় হাফ-উইকেটে খেলা হচ্ছে ভাবাই যায় না। তাছাড়া টাের্ফর বদলে সিন্থেটিক টার্ফ ব্যবহার করাও যায় না। মাঠের আয়তনও অত্যন্ত ছোট। জেলা থেকে ক্রিকেটার তুলে আনার জন্য তৃণমূল স্তরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে সিএবি। কিন্তু, জেলার কর্তাদের দায়সারা মনোভাবের জন্য সিএবির পরিকল্পনা ব্যর্থ হচ্ছে। অন্তর্বর্তী কমিটির কনভেনর উজ্জ্বল প্রামাণিক বলেন, মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলছি।

Exit mobile version