
বিপুন ভট্টাচার্য, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- শিশু থেকে বৃদ্ধ দুঃস্থ-অসহায় মানুষ নিয়ে গত কয়েকবছর ধরে পিকনিক করার পর এবার সেই পিকনিক থেকে দামোদর বাঁচাও-এর আবেদন উঠলো বর্ধমানে। বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে এই দামোদর বাঁচাও-এর ডাক দিয়ে রবিবার করা হলো ‘দামোদর মেলা’। এই মেলার উদ্বোধন করেন জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশংকর মণ্ডল। শুধু তাইই নয়, এবছর রীতিমত দামোদর নদকে দূষণ মুক্ত করার আবেদন নিয়ে করা হল সন্ধ্যারতিও। উল্লেখ্য, প্রতিবছরই অসহায় দুঃস্থ মানুষজনদের নিয়ে শীতকালীন এই পিকনিকের আয়োজন করে এই সংস্থা। এবছর তা রেকর্ড ছাপিয়ে হল ৯০০ জনের মিলন উৎসব। শুধু পিকনিকের খাওয়াদাওয়াই নয়, দামোদরের চড়ে বিদ্যাসাগর মাঠে দামোদর মেলায় আগতরা নিজেদের পছন্দমত পোশাক গ্রহণ করলেন বিনামূল্যে। উল্লেখ্য, এই সংস্থার প্রতিনিধিরা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে এই ব্যবহার করা বা নতুন পোশাক সংগ্রহ করেন কয়েকমাস ধরে। তারপর তা সাধারণ অসহায় মানুষদের সামনে হাজির করেন। আগত মানুষজন নিজেরাই নিজেদের পছন্দমত পোশাক সংগ্রহ করেন। এদিন এই পিকনিকে এই আয়োজনের পাশাপাশি ঢাকের বাদ্যির সঙ্গে মিউজিক্যাল চেয়ার, বল ছোড়া, কাপেল শো, শিশুদের নানান খেলারও আয়োজন করা হয়। ছিল দামোদর নিয়ে বসে আঁকা প্রতিযোগিতাও।
সংস্থার সম্পাদক প্রলয় মজুমদার জানিয়েছেন, পূর্ব বর্ধমান মূলত কৃষিপ্রধান জেলা। কৃষিকাজের সেচ বেশির ভাগটাই দামোদরের জল নির্ভর, আর এই জল দূষিত হচ্ছে নদী তীরবর্তী স্টীল কারখানা, সার কারখানা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদির বর্জ্য পদার্থের দ্বারা। বর্জ্য পদার্থে উপস্থিত ভারী ধাতুগুলি ধীরে প্রবেশ করছে খাদ্য গোলকে। এছাড়াও বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, দামোদরের জল পান তো দূর স্নান করলেও রয়েছে ক্যান্সারের ঝুঁকি। তাই তাঁরা এই উৎসব প্রাঙ্গণ থেকে দামোদরকে দূষণের হাত থেকে বাঁচানোর ও দামোদর ভিত্তিক জীবিকাকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বলে জানান প্রলয় মজুমদার।