২১ জুলাইকে সামনে রেখে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে ‘ল্যাংচা মেলা’
admin
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- ২১ জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসকে সামনে রেখে এই প্রথম বর্ধমান উত্তরের বিধায়কের উদ্যোগে ‘আমড়া ল্যাংচা ব্যবসায়ীবৃন্দ’-র সহযোগিতায় এবং শক্তিগড় থানা ও বর্ধমান ২ পঞ্চায়েত সমিতির ব্যবস্থাপনায় রবিবার থেকে শক্তিগড়ে শুরু হল ‘ল্যাংচা মেলা’। উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপার সায়ক দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক ব্যানার্জি, বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক, বর্ধমান ২ ব্লকের বিডিও দিব্যজ্যোতি দাস, বর্ধমান ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রাখী কোনার, সহ-সভাপতি দেবদীপ রায়, বর্ধমান ২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পরমেশ্বর কোনার-সহ ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতৃত্ব এবং শক্তিগড়ের আমড়ার ল্যাংচা ব্যবসায়ীরা। এদিন পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রতিবছর এই ২১ জুলাইয়ের এই সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এবার তা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্মতলা থেকে ফেরত যানবাহনগুলো এই শক্তিগড়ে এসে থামে, যাত্রীরা মিষ্টি খান। এরফলে যানজট তীব্র হয়। সেই যানজট এড়াতে এবার বিধায়ক নিশীথ মালিকের উদ্যোগে এই ল্যাংচা মেলার মধ্যে দিয়ে যানজট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারে প্রথম এই মেলা হচ্ছে। এবারের মেলা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের বছর আরও সুদৃঢ়ভাবে তা করা হবে। তিনি জানিয়েছেন, এই যানজট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন থাকছে জাতীয় সড়কে। একইসঙ্গে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই ল্যাংচা মেলার লোকেশন আশপাশের জেলাগুলিকেও দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ৬০ বিঘা জমির উপর পার্কিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। থাকছে মিছিল ফেরত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের জন্য টয়লেট, মেডিক্যাল টিমও। থাকছে ল্যাংচার স্বাদ নেওয়ার জন্য ৪২ টি ল্যাংচার স্টল। এছাড়াও থাকবে অন্যান্য স্টল। অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবছর এক থেকে দেড় হাজারেরও বেশি বাস ধর্মতলায় যাবে বলে তাঁরা মনে করছেন। যারা ধর্মতলা থেকে ফেরার পথে এই ল্যাংচা মেলায় আসবেন। উল্লেখ্য, কেবলমাত্র বর্ধমান শহরের দুই প্রান্তের বাসস্ট্যান্ড আলিশা ও নবাবহাট থেকে প্রায় ৬০০-র কাছাকাছি বাস নিত্যদিন যাতায়াত করে। ধর্মতলায় এই শহিদ দিবসের জন্য রবিবার থেকেই প্রায় সিংহভাগ বাসকে তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি বুঝে বেপরোয়া ভাড়া হাঁকছে ছোটছোট যানবাহনগুলো। খোদ বর্ধমান ২ ব্লক থেকেই এবছর প্রায় ১০০-র কাছাকাছি বাস এবং ৭০টিরও বেশি ছোট গাড়িতে ধর্মতলায় রওনা হচ্ছেন তৃণমূল কর্মীরা। অন্যদিকে, এই ল্যাংচা মেলাকে নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। বিজেপির মুখপাত্র শান্তরূপ দে এদিন জানিয়েছেন, একটা শহিদ দিবসকে সামনে রেখে ল্যাংচা মেলা তাঁরা ভাবতেই পারছেন না। এর থেকে ন্যক্কারজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। বিশেষ করে প্রশাসনিক উদ্যোগে এই ল্যাংচা মেলা হওয়ায় প্রশাসন যে তৃণমূলের দলদাস হয়ে গেছে তা আবারও প্রমাণিত হয়ে গেল। উল্লেখ্য, গতবছর এই ২১ জুলাইকে সামনে রেখে শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসায়ীদের ডেরায় হানা দেয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ফুড সেফটি দপ্তর।উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণে দীর্ঘদিনের ভেজে রাখা ল্যাংচা।যেগুলিকে উদ্ধার করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।বাসি ও পচা, নষ্ট হয়ে যাওয়া ল্যাংচা বিক্রির অভিযোগে ৫ জন ব্যবসায়ীকে নোটিশ ধরানো হয়। যাকে ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এব্যাপারে এদিন বর্ধমান ২-এর বিডিও দিব্যজ্যোতি দাস জানিয়েছেন, এবছরও ফুড সেফটি দপ্তর গত কয়েকদিন ধরে নজরদারি চালাচ্ছেন। সতর্ক করা হয়েছে ব্যবসায়ীদেরও।