E Purba Bardhaman

বালির লরীর ধাক্কায় মা ও ছেলের মৃত্যু, আহত বাবা, পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুর চালাল ক্ষুব্ধ জনতা

Mother and son died due to the collision of the sand loaded truck. Father was injured. The mob ransacked the police camp. At Nababhat, Burdwan

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- ফের গাড়ি আটকিয়ে সিভিক ভলেণ্টিয়ার টাকা তোলার চেষ্টা করায় পুলিশের তাড়া খেয়ে বালির গাড়ির ধাক্কায় মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের ২নং জাতীয় সড়কে নবাবহাট বাসস্ট্যাণ্ড এলাকায়। মৃতদের নাম অপর্ণা ঘোষ(৩০) এবং বর্ষণ ঘোষ (৯)। গুরুতর জখম হয়েছেন বাবা কার্তিক ঘোষ(৩৫)। তাঁকে বর্ধমান অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তথা ট্রমা কেয়ার সেণ্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ২নং জাতীয় সড়কে নবাবহাট ট্রাফিক মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এদিন দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ একটি মোটরবাইকে খন্ডঘোষ থানা এলাকার ওয়ানিয়া গ্রাম থেকে ৩জন ভাতারের তারা রথতলা যাবার পথে একটি বালির লরী তাদের পিছন থেকে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বর্ষণের। গুরুতর আহত বাবা ও মাকে বর্ধমানের অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত্যু হয় মা অপর্ণা ঘোষের। ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন এই নবাবহাট মোড়ে সিভিক ভলেণ্টিয়াররা সমস্ত গাড়িকে দাঁড় করিয়ে টাকা তোলে। এদিনও একটি বালির গাড়িকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে সিভিক ভলেণ্টিয়াররা। অভিযোগ, কিন্তু বালির গাড়িটি না দাঁড়িয়েই দ্রুত গতিতে যেতে থাকে। তাকে পিছন থেকে পুলিশ মোটরবাইক নিয়ে ধাওয়া করলে বালির লরীটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে ওই মোটরবাইকটিকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা এবং একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আছড়ে পড়লে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। ঘটনাস্থলে আসেন ডিএসপি শৌভিক পাত্রের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বালির লরী থেকে টাকা তোলার ঘটনা সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এর আগেও পুলিশের এই গাড়ি আটকিয়ে টাকা তোলার ঘটনায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকার বাসিন্দা হিসাবে তাঁরা পুলিশের এই আচরণ বন্ধ করারও দাবী জানিয়েছেন বারবার। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। শুক্রবার দুপুরে সেই একই ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হল মা ও ছেলের। এই ঘটনায় দোষী সিভিক ভলেণ্টিয়ারদের বিরুদ্ধে তাঁরা শাস্তির দাবী করেছেন।

Exit mobile version