E Purba Bardhaman

বর্ধমানের নবরূপায়িত বংশগোপাল টাউন হলের উদ্বোধন করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার

Bangsha Gopal Town Hall ~ Panchayat Minister Pradip Majumdar inaugurated the renovated Burdwan Town Hall in Burdwan

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শতবর্ষের পুরনো ঐতিহ্যশালী বর্ধমানের ‘বংশগোপাল টাউন হল’-এর আধুনিকীকরণ করা হল। শুক্রবার নবরূপে এই টাউনহলের উদ্বোধন করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার-সহ অন্যান্যরা। এদিন পুর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এই বর্ধমান টাউন ইতিহাস বিজড়িত। এখানে মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, আবুল কালাম আজাদের মত মহান ব্যক্তিত্বরা এসেছিলেন। এমনকি গান্ধীজী টাউনহল থেকে বেড়িয়ে যাবার সময় খোদ নজরুল ইসলাম নিজে গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তাঁকে নিয়ে যান। পরেশবাবু জানিয়েছেন, পুরনো ঐতিহ্যকে বজায় রেখেই সবরকমের আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়ে এই টাউন হলের নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। একে রক্ষা করার দায়িত্ব প্রত্যেকের। অপরদিকে, এদিন বর্ধমানের ইতিহাসবিদ ড. সর্বজিত যশ জানিয়েছেন, বর্ধমান রাজ পরিবারের আত্মীয় বংশগোপাল নন্দের একটি সুরম্য ভবন-সহ বিরাট বাগান ছিল জি টি রোড থেকে কালিবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বাগান বাড়ির মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে একটি জল নিকাশীর নালা নির্মিত হয়েছিল। নালার পূর্বদিকে কালিবাজার পর্যন্ত বাগানটি ছিল নীল চাষের জন্য সংরক্ষিত। সেই স্থানে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে গড়ে ওঠে ‘বর্ধমান টাউন স্কুল’। নালার পশ্চিম দিকে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে, যা রোমান স্থাপত্যের নিদর্শন। বংশ গোপাল নন্দের বংশধর গতিপ্রকাশ নন্দে ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে ২৫ মে বর্ধমান পৌরসভার আবেদন ক্রমে বংশগোপালের স্মৃতি রক্ষার্থে ভবন-সহ জি টি রোড থেকে নিকাশি নালা পর্যন্ত স্থানটি বর্ধমান পৌরসভাকে দান করেন। কিন্তু শর্ত থাকে যে সেই ভবন কোনদিন ভাঙ্গা যাবে না, কিন্তু সংস্কার করা যাবে। বর্ধমান পৌরসভা এই দান গ্রহণ করার পরবর্তীকালে এটি একটি প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে গড়ে তোলে। পরবর্তী সময়ে ভবনটির মূল স্থাপত্য বজায় রেখে কিছুটা সম্প্রসারণ করে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে সংস্কার করা হলের উদ্বোধন করা হয়। ১৯৯৪ সালের ৩০ জানুয়ারি নবরূপায়িত টাউন হলের উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। ১৭০৮ বর্গফুটের আয়তন বাড়িয়ে ২৪০০ বর্গফুট করা হয় এবং আসন সংখ্যা ৩০০ থেকে বেড়ে ৪৮৫ করা হয়। মঞ্চের আয়তনও কিছুটা বাড়ানো হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সৌন্দর্য্যায়িত টাউন হল ময়দান ও পার্কের উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী নিরুপম সেন। বর্তমানে পৌরসভার উদ্যোগে ১৩৫ বর্ষের পুরাতন এই ভবনটির পুনরায় সংস্কার করা হল। ভবনের মূল স্থাপত্য রীতি বজায় রেখে আমূল সংস্কার ঘটিয়ে আধুনিক রূপদান করা হয়েছে। মঞ্চটি অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। তার ফলে আসন সংখ্যা ৪৮৫ থেকে কমে ২৮৮ হয়ে গেছে। কারণ মধ্যবর্তী যাতায়াতের রাস্তাটিও চওড়া করা হয়েছে। সামনের দিকের বারান্দা থেকে বাথরুম সরিয়ে পিছনের বারান্দায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত মূল্যবান চিত্রাবলী সংস্কার করা হয়েছে শিল্পী পূর্ণেন্দু দে’র তত্ত্বাবধানে। মহিলা ও পুরষদের জন্য আলাদা দুটি গ্রিনরুম করা হয়েছে। করা হয়েছে একটি গেস্ট রুম। বিভিন্ন কর্মসূচীর কথা মাথায় রেখে হলের ভিতরে আধুনিক আলো এবং ডিজিট্যাল স্ক্রিণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হলের বাইরেও বিশেষ আলো দিয়ে সাজান হয়েছে।

Exit mobile version