বর্ধমান, ২৪ জানুয়ারিঃ- অবসর প্রাপ্ত ৯৯ বছরের এক প্রাথমিক শিক্ষক ৩ মাস পেনশনের টাকা পাচ্ছেন না। ফলে, চরম সমস্যায় পড়েছেন তিনি। পেনশনের টাকা না পাওয়ায় সংসারে অভাব চলছে। বৃদ্ধবয়সে চিকিৎসা খরচ জোটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। প্রশাসন এবং ডাক বিভাগের বিভিন্ন মহলে সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি চিঠি দিয়েছেন। তাঁর চিঠি পেয়ে বর্ধমানের ট্রেজারি অফিসার-১ ডাক বিভাগের সুপারিন্টেনডেন্টকে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিতেও ট্রেজারি অফিসার বৃদ্ধের কাছে অনিয়মিত পেনশন পোঁছানোর কথা উল্লেখ করেছেন। তারপর ১৫ দিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু, তারপরও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। বৃদ্ধের কাছে পেনশনের টাকা পোঁছায়নি। বৃদ্ধ এবং তাঁর পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, পরিস্থিতির জন্য ডাক বিভাগের গাফিলতিই দায়ী। যদিও গাফিলতির কথা অস্বীকার করেছে ডাক বিভাগ। বিভাগের বর্ধমানের সুপারিন্টেনডেন্ট এন প্রকাশ নিজে এনিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে দপ্তরের এক কর্মী দিল্লেশ্বর হেমব্রম বলেন, এখন আর মানি অর্ডারের মাধ্যমে পেনশনের টাকা দেওয়া হয়না। এখন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পেমেন্ট হয়। তবে তিন মাসের মানি অর্ডার কেন এখনও পৌঁছায়নি তা খতিয়ে দেখা হবে। এর পরই তিনি ট্রেজারি এবং স্কুল বোর্ডের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে বিষয়টি ওই দুই দপ্তরের দেখার কথা বলে মন্তব্য করেন।
বিভিন্ন দপ্তরে লেখা চিঠিতে খন্ডঘোষ থানার কেলোট গ্রামের নীরোদ বরন রুদ্র অভিযোগ করেছেন, গত অক্টোবর মাস থেকে তিনি পেনশন পাচ্ছেন না। মাঝে মধ্যেই এধরনের ঘটনা ঘটে। এনিয়ে বহুবার ডাক বিভাগকে জানানো হলেও অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছেনা। তিনি বলেন, পেনশনের টাকা না পাওয়ায় আর্থিক সমস্যায় পড়েছি। দুর্মূল্যের বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসার খরচ জোগাতেও ছেলেদের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। মানি অর্ডারের মাধ্যমে পেনশন নেওয়ায় কমিশন বাবদ ৫০০ টাকার মতো পায় ডাক বিভাগ। তাসত্ত্বেও প্রত্যাশিত সার্ভিস মিলছেনা। এনিয়ে ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে মামলা করার কথা ভাবছি। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) সুকুমার রায় বলেন, ঘটনার কথা জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। উনি যাতে দ্রুত পেনশন পান সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেব।