মেমারী (পূর্ব বর্ধমান) :- এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৬০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করার পর ৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ উদ্ধার করে আনল অপহৃত ব্যবসায়ীকে। একইসঙ্গে ৩ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের মতই রবিবার বিকালে ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়। অপহৃত ব্যবসায়ীর নাম বেণীমাধব ওরফে চন্দন চট্টোপাধ্যায়। বাড়ি মেমারী শহরের পুরনো পোষ্ট অফিস পাড়ায়। তিনি তামাক পাতার ব্যবসায়ী। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকাল প্রায় সাড়ে ৪টে নাগাদ চন্দনবাবু তাঁর মোটরবাইক নিয়ে মেমারীর ছিনুইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ীক তাগাদার জন্য। পথে মেমারীর তাতারপুর এলাকায় ঝাড়খণ্ডের নাম্বার প্লেট লাগানো একটি সাদা স্করপিও গাড়ি তাঁর পথ আটকায়। এরপরই তাঁকে জোর করে গাড়িতে তুলে চম্পট দেয় অপহরণকারীরা। এই ঘটনায় তাতারপুর এলাকার বাসিন্দারা চন্দনবাবুর বাড়িতে খবর দিলে সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের লোকজন মেমারী থানায় জানান। এরপরই পুলিশ তিৎপরতার সঙ্গে খোঁজ শুরু করে। জানা গেছে, চন্দনবাবুকে অপহরণ করার পর তাঁর পরিবারে রাত্রি প্রায় সাড়ে নটা নাগাদ ফোন করে অপহরণকারীরা ৬০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন। টাকা না দিলে গুলি করে তাঁকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। অপহরণকারীদের ফোন থেকে চন্দনবাবু জানান, তাঁকে ঝাড়খণ্ডের পাকুড় এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে। এদিকে, ফোনের সূত্র ধরে ও বিভিন্ন সূত্র মারফত তদন্ত শুরু করে মেমারি থানার পুলিশ। সুতি টোলে গাড়িটির ছবি দেখা যায়। এরপর পুলিশ এবং পরিবারের লোকজন দুটি গাড়িতে রওনা দেয় ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশ্যে। জানা গেছে, প্রথম দুটি লোকেশনে তাদের কোনো হদিশ না পেলেও তৃতীয় একটি লোকেশন মালপাহাড়ি এলাকা থেকে সোমবার ভোরে উদ্ধার করা হয় অপহৃত ব্যবসায়ীকে এবং গ্রেফতার করা হয় তিনজন অপহরণকারীকে। অপহরণের প্রায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের এই সাফল্যে খুশী ব্যবসায়ীর পরিবার। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভিনরাজ্য থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত ব্যবসায়ীকে। গতকাল সন্ধ্যায় মেমারী এলাকা থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র তদন্ত শুরু করে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে মেমারী থানার পুলিশ জানতে পারে অপহৃত ব্যাক্তি বিড়ি পাতার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং সেই সূত্রে মুর্শিদাবাদের কয়েকজনের সাথে লেনদেনের পর ৯-১০ লাখ টাকা ধার হয়ে যায়। সেই টাকা আদায় করতে গতরাতে কিছু দুষ্কৃতী একটি স্করপিও গাড়ি করে তাকে অপহরণ করে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজের ওপর নির্ভর করে মেমারী থানা ও জেলা পুলিশের একটি দল দ্রুত পৌঁছায় ঝাড়খন্ডে এবং বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঝাড়খণ্ডের পাকুড় থেকে অপহৃত ব্যাক্তিকে উদ্ধার করে এবং উক্ত অপরাধে জড়িত তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে ১ জন মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা, বাকি ২ জন ঝাড়খন্ডের বাসিন্দা। অপরাধে জড়িত গাড়িটিকেও বাজেয়াপ্ত করা হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন সাতগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অনুপ দে।
Tags Kidnapped Kidnapping ransom
Check Also
নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপকেই দায়ী করলেন সুকান্ত, দিলীপ
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকেই …