E Purba Bardhaman

স্পন্দন স্টেডিয়ামে ৫-১২ জানুয়ারি ‘ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপ’, ঘোষণা হলো ক্রীড়া-সূচি

'Bhadreswar Gold Cup' to be held at Spandan Stadium in Burdwan from January 5-12, match schedule announced

গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- ৫ জানুয়ারি থেকে বর্ধমানে শুরু হবে দ্বিতীয় ‘ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপ’। এবারের প্রতিযোগিতায় মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট, গোয়ার চার্চিল ব্রাদার্স এফসি, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওড়িশা, ক্যাগ, রেলওয়ে এফসি, কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ এফসি, মোহমেডান স্পোর্টি ক্লাব ও রাজনন্দিনী স্পোর্টি ক্লাব -এই আটটি দল অংশ নিচ্ছে। খেলাগুলি নকআউট প্রথায় হবে। প্রথম দিন মোহমেডান স্পোর্টি খেলবে রাজনন্দিনী স্পোর্টি ক্লাবের বিরুদ্ধে। ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে রেলওয়ে এফসি ও কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ। ৭ তারিখ ক্যাগ (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া) খেলবে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওড়িশার বিরুদ্ধে। ৮ জানুয়ারি চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান ও চার্চিল ব্রাদার্স। ৯ জানুয়ারি প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে মোহমেডান ও রাজনন্দিনী ম্যাচের বিজয়ী দল ও ক্যাগ এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওড়িশার বিজয়ী দল। পরের দিন ১০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে রেলওয়ে এফসি ও কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ ম্যাচের বিজয়ী ও মোহনবাগান ও চার্চিল ব্রাদাের্সর ম্যাচের বিজয়ী দল। একদিনের বিরতির পর ১২ জানুয়ারি ফাইনাল খেলা হবে। বর্ধমান শহরের স্পন্দন স্টেডিয়ামে দুপুর ২টো থেকে খেলা হবে।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন ক্রিকেটের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং বর্ধমান–দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইএফএ–র সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, সচিব অনির্বাণ দত্ত, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ, পুলিশ সুপার সায়ক দাস, মোহনবাগান অ্যাথলেটিক্স ক্লাবের সভাপতি দেবাশিস দত্ত, বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের আহ্বায়ক সনৎ নন্দী প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। রবিবার স্পন্দন স্টেডিয়ামে সাংবাদিক বৈঠক করে ক্রীড়া–সূচি ঘোষণা করা হয়। সাংবাদিক বৈঠকে রিয়েল বুল কোচিং সেন্টারের সভাপতি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের তরফে পার্থ নন্দী, পলাশ নন্দী, দেবাশিস নন্দী উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে মূল আকর্ষণ ছিলেন ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৈয়দ রহিম নবী। তিনি বলেন, এধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন খুবই ভালো উদ্যোগ। এবারের প্রতিযোগিতায় চার্চিল ব্রাদার্স, ওড়িশা এফসি প্রভৃতি নামী দল খেলবে। প্রতিযোগিতা আকর্ষণীয় হবে বলে আশা রাখি। প্রতিযোগিতায় আইএসএল ও সন্তোষ ট্রফি দলের ফুটবলারাও খেলবে। বাঙালি ফুটবলাররা নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে। দেশের ফুটবলের মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে নবী বলেন, ফুটবল নিয়ে দেশে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। ফুটবলকে নিয়ে কেন্দ্রের সরকার উদাসীন। ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা দরকার, তা দেশে নেই। ছেলেরা মাঠমুখী হচ্ছে না। মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এব্যাপারে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। মেসির জনপ্রিয়তা দেখলেই ফুটবলকে ঘিরে বিশ্বের উন্মাদনা বোঝা যায়। মেসিকে সবাই চেনে। সে দেশের প্রেসিডেন্টের নাম অনেকেই জানে না। কিন্তু, মেসিকে সবাই জানে। ফুটবলের জনপ্রিয়তা একটা দেশ, রাজ্য ও শহরকে অন্য পরিচয় তৈরি করে দেয়। খেলোয়াড় তুলে আনতে গেলে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এগতে হবে। লক্ষ্য না থাকলে সাফল্য আসে না। স্কুলস্তরে ফুটবলে জোর দিতে হবে। ইন্টার ক্লাব ও ইন্টার স্কুল প্রতিযোগিতা আয়োজনে জোর দিতে হবে। অন্তত ১৫ বছরের পরিকল্পনা করে এগতে হবে।
রহিম নবী বলেন, যেভাবে ক্রিকেট নিয়ে প্রচার করা হয়, ফুটবলকে নিয়ে হয় না। অথচ গোটা ভারতে এমনকি খোদ বাংলায় এই ফুটবল প্রতিভার কোনো অভাব নেই। ভারতকে বিশ্বকাপ খেলতে হলে তারজন্য যে ধরণের পরিকাঠামো প্রয়োজন, প্রশিক্ষণ প্রয়োজন তা নেই। এজন্য দরকার বিশ্বকাপ খেলা কোনো দেশের হাতে অন্তত ১৫ বছরের জন্য সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া। এজন্য যা অর্থ প্রয়োজন তা দেবে সরকার। তবেই ভারতের যোগ্য টিম তৈরী হবে।

Exit mobile version