
গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- গোলের সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়ে সাডেন ডেথে হেরে ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপ থেকে বিদায় নিল বর্ধমানের রাজনন্দিনী স্পোর্টিং ক্লাব। সোমবার থেকে বর্ধমান শহরের স্পন্দন স্টেডিয়ামে শুরু হল ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপ। চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। ম্যাচের নায়ক মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বদলি গোলরক্ষক অঙ্কিত ভদ্র। কঠিন পরিস্থিতিতে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় মাঠে নেমে পেনাল্টি, শ্যুটআউট ও সাডেন ডেথে দু’টি গোল বাঁচানোর পর ঠাণ্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে জয় এনে দেন তিনি। তিনিই ম্যাচের নায়ক। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে এদিনের খেলা মোটেই প্রত্যাশিত মানের হয়নি। স্পন্দনের সবুজ গালিচার মতো মাঠে স্কিলের বিচ্ছুরন দেখার আশায় যে সামান্য কিছু দর্শক হাজির হয়েছিলেন, হতাশা নিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন। দুই দলেই দু’জন করে বিদেশি খেলোয়াড় ছিলেন। তাঁদের খেলাও দর্শকদের মনে ধরেনি। উল্টে রাজনন্দিনীর বিদেশি ইয়াকুবু বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করার পর পেনাল্টি শ্যুটআউটে বাইরে মেরে দলের সমর্থকদের চোখে ভিলেন। 
এদিন জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা শুরু হল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিধায়ক খোকন দাস, বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল প্রামাণিক, জেলাশাসক আয়েশা রানি এ, পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে মাঠে খেলা দেখতে হাজির হন জাতীয় দলের প্রাক্তন দুই ফুটবলার রহিম নবি ও অ্যালভিটো ডি-কুনহা। মাঠে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে ফ্লাড লাইটের ব্যবস্থাও। আয়োজনের ত্রুটি নেই। কিন্তু এদিনের খেলা প্রত্যাশিত মানের হয়নি। ম্যাচে প্রাধান্য ছিল রাজনন্দিনীর। দুই অর্ধ মিলিয়ে তারা গোল করার বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু, গোলমুখে স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় তারা গোল পায়নি। দু’টি ক্ষেত্রে একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ইয়াকুবু। দু’টি ক্ষেত্রে গোলের সহজ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন অপর বিদেশি সাবিত। তবে রাজনন্দিনীর আকাশ দাস, রাণা ঘরামি, রাহুল পাশোয়ান ভালো খেলেছেন। মহমেডানের হয়ে তাদের বিদেশি ডিফেন্ডার সানডে বেশ ভালো খেলেছেন। তবে, শেষদিকে তাঁর দমের ঘাটতি এবং ফিটনেসের সমস্যা নজরে এসেছে। বারবার চোট পেয়ে তিনি মাঠে শুয়ে পড়ছিলেন। মহমেডানের গোলরক্ষক পাশাং বেশ ভালো খেলেছেন। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সময়মতো গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে এবং অ্যাঙ্গেল ছোট করে প্রতিপক্ষকে হয় তাঁর হাতে নয়তো বল মারতে বাধ্য করেছেন। পাশাংয়ের গোলকিপিং নজর কেড়েছে।
নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে দু’দলই ৩টি করে গোল করে। ফলে, ম্যাচ সাডেন ডেথে গড়ায়। টাইব্রেকারে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় মোক্ষম চাল দেন মহমেডানের কোচ সুলে মুসা। দুর্দান্ত খেলা পাশাংকে বসিয়ে তিনি এবারই প্রথম দলে যোগ দেওয়া উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগরের অঙ্কিতকে নামান। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে গোল বাঁচিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরান অঙ্কিত। সাডেন ডেথে সৌরভ দাসের নেওয়া শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান তিনি। রাজনন্দিনীও সাডেন ডেথে গোলকিপার পরিবর্তন করে। কিন্তু, কাজে আসেনি। নিজেই সাডেন ডেথে গোল করে দলকে জয় এনে দেন অঙ্কিত। তিনি প্রথম শট বাঁচানোর পর মুসার উল্লাস প্রকাশের ধরণের কারণে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নিয়ে ম্যাচ জিতে উল্লাস প্রকাশ করেন কোচ সহ খেলোয়াড়রা। 
উল্লেখ্য, রিয়েল বুল কোচিং সেন্টার আয়োজিত দ্বিতীয় বর্ষের এই টুর্নামেন্টে মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট, গোয়ার চার্চিল ব্রাদার্স এফসি, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওড়িশা, ক্যাগ, রেলওয়ে এফসি, কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ এফসি, মোহমেডান স্পোর্টি ক্লাব ও রাজনন্দিনী স্পোর্টি ক্লাব -এই আটটি দল অংশ নিচ্ছে। ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে রেলওয়ে এফসি ও কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ। ৭ তারিখ ক্যাগ (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া) খেলবে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওড়িশার বিরুদ্ধে। ৮ জানুয়ারি চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান ও চার্চিল ব্রাদার্স। ৯ জানুয়ারি প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে মোহমেডান ও রাজনন্দিনী ম্যাচের বিজয়ী দল ও ক্যাগ এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওড়িশার বিজয়ী দল। পরের দিন ১০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে রেলওয়ে এফসি ও কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ ম্যাচের বিজয়ী ও মোহনবাগান ও চার্চিল ব্রাদাের্সর ম্যাচের বিজয়ী দল। একদিনের বিরতির পর ১২ জানুয়ারি ফাইনাল খেলা হবে। 
E Purba Bardhaman Purba Bardhaman District News