বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- শুক্রবার বর্ধমানের স্পন্দন মাঠে জেলা সৃষ্টিশ্রী মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘মা দুর্গা’-র সঙ্গে তুলনা করলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক বিধানচন্দ্র রায়। এদিন জেলার মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের পরিসংখ্যান উল্লেখের পাশাপাশি তাঁদের উজ্জীবিত করতে গিয়ে জেলাশাসক বলেন, “আপনাদের সামনেই উদাহরণ রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। যিনি মা দুর্গার মত সমস্ত দিক সামলাচ্ছেন।” স্বনির্ভর গোষ্ঠী সম্পর্কে উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলাশাসক বলেন, “আমরা সেই পথ পেরিয়ে এসেছি। কোন পথ? যেখানে মা, বোন, দিদিদের একত্রিত করে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করতে হত। আমার যতদূর জানা আছে, পরিসংখ্যান নিরিখে এখানে পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় ৭০ হাজারের মতো স্বনির্ভর দল গঠন হয়েছে। প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ কিন্তু এই স্বনির্ভর দলের সঙ্গে যুক্ত। এটা কিন্তু আমাদের একটা শক্তি। এটা নিছক একটা ভাবনা নয়, এটা আমাদের শক্তি। এই শক্তিকে আমরা কাজে লাগাচ্ছি। এবার এই আর্থিক বছরে (২০২৩-২৪) স্বনির্ভর দল গঠনের লক্ষ্যমাত্রা ১৭০০। যার আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা ১৮৮০ কোটি টাকার মতো। আমরা ১৩০০-১৩৫০ দল গঠন করে ফেলেছি। …আমি অন্য একটি অন্য একটা কথা বলব। নারী ও পুরুষ উভয়েই শক্তিশালী না হয়, তাহলে আর্থিক বা সামাজিকভাবে সমাজ শক্তিশালী হতে পারে না। আমি একটা উদাহরণ দেব, আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি একজন মহিলা। তিনি মা দুর্গার মতো সমস্ত দিকেই কিন্তু তাঁর সেই সাফল্য ও কার্যক্রম করে আসছেন। আমি আপনাদের বলব, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তিনি একজন মা দুর্গার মতো কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে আপনারা কেন পারবেন না। একটা জ্বলন্ত উদাহরণ আছে আপনাদের কাছে। আমি অনুরোধ করব, সেই উদাহরণকে সামনে রেখে আপনারা এগিয়ে চলুন।” উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের মুখে জেলাশাসকের এই মুখ্যমন্ত্রীকে ‘মা দুর্গা’-র সঙ্গে তুলনা করাকে কেন্দ্র করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপি শিবির এই বিষয়কেই তুলে ধরে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ ঠুকতে চলেছেন বলে জানা গেছে। লোকসভা ভোটের আগে জেলাশাসককে সরিয়ে দেবার আবেদন জানানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক সুধীররঞ্জন সাউ। অন্যদিকে, শুক্রবার বর্ধমানের স্পন্দন স্টেডিয়ামে ৫ দিনের জেলা সৃষ্টিশ্রী মেলার উদ্বোধন করতে এসে বিজেপির এনআরসি লাগু করার বিষয়ে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বলেন, আগে গুজরাত আর উত্তরপ্রদেশে এনআরসি চালু করে দেখাক। ওখান থেকে আগে বিদেশিদের তাড়িয়ে দেখাক, তারপর বাংলার কথা ভাববে। তিনি বলেন, বাংলায় এনআরসি লাগু করতে গেলে মার খাবে। কেউ ছেড়ে কথা বলবে না। এদিন সৃষ্টিশ্রী মেলার উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি বিভাজন সৃষ্টি করছে। কিন্তু মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এই সৃষ্টিশ্রী মেলায় হিন্দু-মুসলিম সহ সমস্ত সম্প্রদায়ের মা বোনেরা কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে নিজেদের স্বরোজগারী করে গড়ে তোলার কাজ করছেন। কার্যত জাতপাত ব্যাপারটাকেই তাঁরা তুলে দিয়েছেন। এদিন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি জানান, শুধু জেলার বুকে এই মেলা করলে হবে না। প্রতিটি ব্লকে ব্লকে এই মেলা করতে হবে। এব্যাপারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলবেন। অন্যান্যদের মধ্যে এদিন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি গার্গী নাহা, জেলা পরিষদের একাধিক কর্মাধ্যক্ষ, বিধায়ক শম্পা ধাড়া, নিশীথ মালিক, জেলা ডিআরডিসির প্রকল্পাধিকারিক অভিজিৎ ঘোষ প্রমুখরা। উল্লেখ্য, পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও আনন্দধারা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ৫ দিনের এই মেলায় মোট ৩০ টি স্টল করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী তাঁদের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছেন এই মেলায়।
Check Also
নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপকেই দায়ী করলেন সুকান্ত, দিলীপ
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকেই …