গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- দুই গাঁজা কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে কালনা থানার পুলিস। ধৃতদের নাম অসীম সরকার ও প্রাণপ্রীতম বোড়া। হুগলির চুঁচুড়া থানার কানাগড়ে বাড়ি অসীমের। অসমের নওগাঁ জেলার রোহার থানার দারাঙ্গাইলগাঁওয়ে বাড়ি অপরজনের। পুলিস জানিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে পুলিসের বোর্ড লাগানো একটি স্করপিও গাড়ি এসটিকেকে রোড ধরে যাচ্ছিল। গাড়িটিতে নীল বাতি লাগানো ছিল। নান্দাইয়ের দুর্গাপুর রেল ক্রসিংয়ের কাছে একটি সবজি বোঝাই গাড়ির চালকের সঙ্গে স্করপিওর চালকের গণ্ডগোল বাধে। স্করপিও থেকে নেমে চালক অসীম সবজি বোঝাই গাড়ির চালককে ধমকাতে থাকে। কিছুটা দূরে পুলিসের একটি গাড়ি দাঁড়িয়েছিল। গণ্ডগোল দেখে পুলিসের গাড়িটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গাড়ির ভিতর থেকে গাঁজার উগ্র গন্ধ বের হওয়ায় পুলিসের সন্দেহ হয়। পুলিস অসীম ও প্রাণপ্রীতমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা নিজেদের পুলিসের কর্মী বলে প্রথমে পরিচয় দেয়। পরে তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্মী বলে পরিচয় দেয়। এতে পুলিসের সন্দেহ বাড়ে। এরপরই গাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিস। তল্লাশিতে গাড়ির ভিতর থেকে ৮টি বস্তায় ৪০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। কালনা মহকুমা শাসকের অফিসের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষুদিরাম সরেনের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িতে লাগানো পুলিসের বোর্ড ছাড়াও মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্স ও ডিআরডিও লেখা দু’টি বোর্ড পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে।
স্করপিও গাড়িটি এবং ধৃতদের ৩টি মোবাইল পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে। ধৃতরা হুগলির বলাগড়ে গাঁজা নিয়ে যাচ্ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জেনেছে পুলিস। দীর্ঘদিন ধরে তারা গাঁজার কারবারে জড়িত বলে জেনেছে পুলিস। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বর্ধমানের মাদক সংক্রান্ত বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়। আরও গাঁজা উদ্ধারের জন্য এবং চক্রে জড়িত বাকিদের হদিশ পেতে ধৃতদের ১৪ দিন পুলিসি হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার সুভাষ চন্দ্র পাল। কর্মবিরতির কারণে কোনও আইনজীবী এদিন ধৃতদের হয়ে দাঁড়ান নি। ধৃতদের ৬ দিন পুলিসি হেফাজতে পাঠানোর নিের্দশ দেন মাদক আদালতের বিচারক নন্দন দেব বর্মণ।
Check Also
নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপকেই দায়ী করলেন সুকান্ত, দিলীপ
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকেই …