গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- ট্রেড মার্ক নকল করে একটি নামি কোম্পানির চাল বিক্রির অভিযোগে রায়নার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কেরালার কোজিকোড়ের ভাদাকারা থানার পুলিস। ধৃতের নাম কিরণ মল্লিক। রায়না থানার শ্যামসুন্দরে তার বাড়ি। সোমবার রাতে রায়না থানার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে ভাদাকারা থানার পুলিস বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে কেরলে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে আদালতে জানান তদন্তকারী অফিসার আরকে বিজু। সেজন্য ৪ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। কর্মবিরতির কারণে এদিন কোনও আইনজীবী ধৃতের হয়ে দাঁড়ান নি। ধৃত আদালতে বলে, আদৌ সে এ ধরণের কাজ করেনি। সে পড়াশুনা করে। এক দালালের মাধ্যমে তাদের কোম্পানি থেকে কেরলে চাল পাঠানো হয়েছিল। সেখানেই ট্রেড মার্ক নকল করে চাল বস্তাবন্দি করে বিক্রি করা হয়। কেরলেই জাল বস্তা তৈরি করা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসারের আবেদন মঞ্জুর করেন সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা। ধৃতকে কেরলের আদালতে পেশ সংক্রান্ত রিপোর্ট বর্ধমান আদালতে পেশের জন্য তদন্তকারী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন সিজেএম। 

পুলিস জানিয়েছে, শ্যামসুন্দর থেকে বিরিয়ানির চাল কেরলে পাঠায় কিরণের সংস্থা। কেরলের একটি নামি চালের ব্রান্ড নকল করে সেখানে চাল বিক্রি হয়। বিষয়টি কেরলের নামি চাল সংস্থার নজরে আসে। সংস্থার তরফে ভাদাকারা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৮,৪৭১ এবং ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নেমে পুলিস কেরলের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চালের এই অবৈধ কারবারে কিরণ সহ আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে পারে পুলিস। কেরলেরও কয়েকজন চালের এই অবৈধ কারবারে জড়িত বলে জানতে পেরেছে সেখানকার পুলিস। তাদের মধ্যে দু’জন আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছে। তদন্তকারী অফিসার বলেন, কেরলের একটি নামী চালের ব্রান্ড নকল করে রায়না থেকে নিম্নমানের চাল বিক্রি করা হচ্ছিল। এ ব্যাপারে কেরলের এক ডিস্ট্রিবিউটর ভাদাকারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ৬৫ প্যাকেট নকল চাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কারবারে আর কে কে জড়িত তা জানার চেষ্টা করা হবে।