বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- বর্ধমান শহরের পরিবহণ, জলাশয় ও জনজীবনের নানা দাবিদাওয়া নিয়ে মিছিল করল বর্ধমান শহর বাঁচাও কমিটি। শুক্রবার বিকেলে বিভিন্ন বামপন্থী গণসংগঠনের কর্মীরা ব্যানার নিয়ে শহরে মিছিল করেন। এরপর তারা আদালত চত্বরে এসে জেলাশাসককে ডেপুটেশন দেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষে রামেন্দ্রসুন্দর মন্ডল জানান, সাধারণ মানুষের হয়রানি ও পরিবহণ খরচ কমাতে বর্ধমান শহরে পূর্বের মতো বাস চালানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে গ্রহণ করতে হবে, এই দাবিতে এদিন বর্ধমান স্টেশন থেকে বর্ধমান শহরের বাস মালিক, ব্যবসাদার, টোটো শ্রমিক, পরিবেশবিদ-সহ অন্যান্য সকল অংশের মানুষ সংগঠিত হয়। বর্ধমান স্টেশন থেকে মিছিল করে বর্ধমান শহর বাঁচাও কমিটি এবং শহরের বিভিন্ন গণসংগঠনের পক্ষ থেকে কার্জনগেটে শামিল হয়। সেখানে সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবিদ চন্দ্রনাথ ব্যানার্জি এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং ছ’জনার প্রতিনিধি দল জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন তুষার মজুমদার , অরিন্দম মৌলিক, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী, রমেন্দ্র সুন্দর মণ্ডল, সেখ সাবির। সভায় বক্তব্য রাখেন ব্যবসাদারদের পক্ষ চন্দন ঘোষ, পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের দীপঙ্কর দে, সংস্থা দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে দেবদুলাল ঠাকুর, নিত্যযাত্রী, শিক্ষক অংশুমান আটা, শ্রমিক সুভাষ ক্ষেত্রপাল। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁরা বলেন, বর্ধমান শহর হচ্ছে জেলার হেডকোয়ার্টার। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শহরে আসেন। প্রশাসনের তুঘলকি সিদ্ধান্তের ফলে শহরের ভিতর বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়াতে বর্ধমান শহরের বিসি রোড, জি টি রোডের ব্যবসা শুকিয়ে গেছে। শহরের অর্থনীতির উপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। দক্ষিণ দামোদর, গলসি-সহ আসে পাশের গ্রাম থেকে অসংখ্য দোকান কর্মচারী, বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরা শহরে আসেন। এখন বাস বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় খুবই অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। দোকানের মালিক, পরিবহণ মালিকরা এই তুঘলকি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামলে তাঁদের ওপর শাসক দলের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়। এই রকম একটি কঠিন পরিস্থিতিতে বর্ধমান শহরকে বাঁচানোর জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লায়ন্স ক্লাবে নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বর্ধমান শহরের বাস মালিক ব্যবসাদার, টোটো শ্রমিক সহ অন্যান্য অংশের মানুষদের নিয়ে। সেই কনভেনশন থেকে সিদ্ধান্ত হয় বর্ধমান শহরের ভারসাম্যকে রক্ষা করতে গেলে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ ছাড়া বিকল্প রাস্তা নেই। বর্ধমান শহর বাঁচাও কমিটির মধ্য দিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন করতে হবে। সেই আন্দোলনের প্রথম ধাপ এদিন জেলাশাসককে ডেপুটেশন দেওয়া। ডেপুটেশনে দাবি জানানো হয়, অবিলম্বে আলিশা বাস স্ট্যান্ড, নবাবহাট বাসস্ট্যান্ডকে সামনে রেখে তিনকোনিয়ায় সিটি বাস স্ট্যান্ড করে ক্রিস ক্রস পদ্ধতিতে বাস চালিয়ে শহরের ব্যবসা বাঁচাতে হবে, বর্ধমান শহরের বিভিন্ন জলাশয়, ছোটপুকুর, বিল এবং বর্ধমানের ঐতিহ্য ৩০০ বিঘে শশাঙ্ক বিল যাকে ভরাট করে দিয়ে প্রোমোটারদের হাতে তুলে দেওয়ার যে চক্রান্ত করা হচ্ছে একথাও জেলা শাসককে জানিয়ে তা রোখার দাবি জানানো হয়েছে। জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশনে আরো জানানো হয় যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্ধমান শহরের বাস মালিক, দোকান মালিক সহ বিভিন্ন অংশের মানুষকে নিয়ে সভা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। ডেপুটেশন দিয়ে এসে ডেপুটেশনের যা আলোচনা হয় সেই আলোচনার নির্যাস তুলে ধরেন অরিন্দম মৌলিক।
Check Also
নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপকেই দায়ী করলেন সুকান্ত, দিলীপ
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকেই …