গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, মেমারি (পূর্ব বর্ধমান) :- মেমারি থানার বড়া ও সাতগেছিয়ায় দুই মহিলার মৃত্যুতে রহস্য দানা বেঁধেছে। ঘটনার পিছনে চেন কিলারদের হাত রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অনুমান। কিছুদিন ধরেই কালনা ও তার আশপাশ এলাকায় চেন কিলিংয়ের ঘটনা ঘটছে। দিন দু’য়েক আগেও এক মহিলাকে খুনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। এনিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। মঙ্গলবার কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে পরপর দু’টি খুনের ঘটনায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। বড়া গ্রামে পুলিসকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলে। বিক্ষোভের জেরে মৃতদেহ তুলতে পারেনি পুলিস। পরে ফরেন্সিক টিম এনে তদন্তের আশ্বাস দেওয়ার পর ক্ষোভ প্রশমিত হয়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায় পুলিস। বড়া গ্রামের ঘটনায় মৃতার নাম রীতা রায় (৫২)। বড়া গ্রামের সিদ্ধেশ্বরপাড়ায় তাঁর বাড়ি। সাতগেছিয়ায় মৃতার নাম মমতা কিস্কু । তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। মেমারির পাহাড়হাটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাঁকে ভরতি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান। পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। মেমারি থানার এক অফিসার বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। দু’টি ঘটনায় একই দল জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রীতদেবীর স্বামী বলাই রায় মতুয়া সংগঠনের নেতা। এদিন তিনি ঠাকুরনগরে গিয়েছেন। তাঁর বড় ছেলে বুদ্ধদেব রায় শ্বশুরবাড়িতে থাকে। ছোট ছেলে বাসুদেব ভিন রাজ্যে কাজ করেন। তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। শ্বশুরবাড়ির কাছেই তাঁর বাপেরবাড়ি। এদিন বেলা ২টো নাগাদ রীতা দেবীর মা শোভা বিশ্বাস মেয়ের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে মেয়ের মৃতদেহ মেঝেয় পড়ে থাকতে দেখেন। মৃতার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথাতেও ভারি কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘরের মেঝেয় প্রচুর রক্ত পড়েছিল। তাঁর আর্তনাদ শুনে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়িতে প্রচুর ভিড় জমে যায়। এলাকাটি কালনা থানার লাগোয়া হওয়ায় সেখানকার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিসকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান এলাকার বাসিন্দারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই মেমারি থানার পুলিসও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মেমারি থানার পুলিসও ঘেরাওয়ের মুখে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় কালনা ও বর্ধমান সদরের এসডিপিও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদেরও ঘিরে রেখে বিক্ষোভ দেখায় এলাকাবাসী। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর ফরেন্সিক টিম এনে তদন্তের আশ্বাস দেয় পুলিস। তারপর দেহ তুলতে দেয় উত্তেজিত জনতা।