
গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- অরবিন্দ স্টেডিয়ামের হস্তান্তর রুখতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল বর্ধমান জেলা ভলিবল ও বাস্কেটবল সংস্থা। বুধবার সংস্থার তরফে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। মামলায় পূর্ব বর্ধমানের জেলা জজ সহ জুডিশিয়াল সেক্রেটারি, পূর্ত দপ্তরের প্রধান সচিব, কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার, জেলাশাসক, পুরসভার চেয়ারম্যানকে পার্টি করা হয়েছে। অরবিন্দ স্টেডিয়ামে আদালত ভবন নির্মাণের প্রচেষ্টা বন্ধ করার জন্য হাইকোর্টের কাছে আবেদন করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন সংস্থার সেক্রেটারি বনবিহারী যশ। মামলা প্রসঙ্গে সংস্থার এক কর্তা বলেন, জোর করে অরবিন্দ স্টেডিয়াম দখল করার চেষ্টা চলছে। কয়েক দশক ধরে স্টেডিয়ামে খেলা এবং প্রশিক্ষণ চলে। স্টেডিয়াম হস্তান্তর হয়ে গেলে খেলোয়াড়রা চরম সমস্যায় পড়বেন। জেলার ভলিবল-বাস্কেটবল খেলা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তা রুখতেই হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ ডিসেম্বর জেলাশাসকের চেম্বারে একটি মিটিং ডাকা হয়। সেখানে জেলা জজ সুজয় সেনগুপ্ত ছাড়াও বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ভলিবল-বাস্কেটবল সংস্থার সেক্রেটারি এবং প্রশাসনের কয়েকজন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা জজ সংস্থার সেক্রেটারির কাছে জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথিপত্র দেখতে চান। কিন্তু, তিনি জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথিপত্র দেখাতে পারেন নি বলে জেলা জজ দাবি করেন। এরপরই জেলা জজ অরবিন্দ স্টেডিয়ামের মালিকানা পরিবর্তন করে আদালতের সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেন। ভলিবল-বাস্কেটবল সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, এনিয়ে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছে। তার আগেই হাইকোের্টর দ্বারস্থ হয়েছে ভলিবল-বাস্কেটবল সংস্থা।
সংস্থার আরও দাবি, অরবিন্দ স্টেডিয়ামে ১৯৭৬-৭৭ সালে প্রি-এশিয়ান বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা, ১৯৮১ সালে চিন, ৮৫ সালে রাশিয়া এবং ৮৬ সালে জাপান ভলিবল ও বাস্কেটবল প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশের সঙ্গেও রাজ্য মহিলা বাস্কেটবলের প্রদর্শনী ম্যাচ এখানে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে স্টেডিয়ামে সাব-জুনিয়র ও জুনিয়র প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়েছে। এসব তথ্য তুলে ধরে স্টেডিয়ামে খেলাধুলা বন্ধ করে আদালত ভবন নির্মাণ হলে তা খেলোয়াড়দের ক্ষতি ডেকে আনবে বলে আবেদনে জানানো হয়েছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা বলেন, মামলা যে কেউ করতেই পারে। তবে তার জন্য জমি সংক্রান্ত শুনানি বন্ধ থাকবে না। মামলায় স্থগিতাদেশ না থাকলে শুনানি করতে কোনও অসুবিধা থাকার কথা নয়।