
গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- বর্ধমানে অরবিন্দ স্টেডিয়ামে নতুন আদালত ভবন তৈরির পরিকল্পনা আরও একধাপ এগোল। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলা জজের চেম্বারে এনিয়ে একটি সভা হয়। সেখানে জেলা জজ সুজয় সেনগুপ্ত, অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ), অতিরিক্ত জেলাশাসক (এল.আর), বার অ্যাসোসিয়েশনের পদাধিকারীরা এবং বর্ধমান জেলা ভলিবল ও বাস্কেটবল সংস্থার সম্পাদক-সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা জজ ভলিবল ও বাস্কেটবল সংস্থার সম্পাদককে স্টেডিয়ামের মালিকানা সংক্রান্ত নথিপত্র পেশ করতে বলেন। সভা সূত্রের খবর, সম্পাদক মালিকানা সংক্রান্ত কোনও নথিপত্র দেখাতে পারেন নি। তবে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়ামে খেলাধূলো হওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি স্টেডিয়াম বন্ধ হয়ে গেলে জেলায় বাস্কেটবল-ভলিবল খেলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান। যদিও তাঁর এই যুক্তি ধোপে টেকেনি। পাল্টা অরবিন্দ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান ভবন তৈরি করে ব্যবসা, গ্যালারির নীচে দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে তাঁর কাছে কৈফিয়ৎ চাওয়া হয়। জেলা জজের অনুমতি ছাড়া কিভাবে সেখানে অনুষ্ঠান ভবন তৈরি করা হল তা নিয়ে জবাব চাওয়া হয় তাঁর কাছে। প্রশ্নের উত্তরে ভলিবল-বাস্কেটবল সংস্থার সম্পাদক খেলাধূলো পরিচালনায় বিশাল ব্যয়ভার বহন করার জন্য সেখানে অনুষ্ঠান ভবন তৈরি করা হয়েছে বলে যুক্তি খাড়া করেন। বারের তরফে মোটা ভাড়া নিয়ে সেখানে খেলাধূলোর চেয়ে ব্যবসা বেশি চলে বলে জানানো হয়।
বারের প্রতিনিধিরা নতুন আদালত ভবন তৈরির স্বাের্থ অরবিন্দ স্টেডিয়াম দখল নেওয়ার বিষয়ে জোর সওয়াল করেন। ঘন্টাখানেক সভা চলে। বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অরূপ দাস ও সম্পাদক সদন তা বলেন, নতুন আদালত ভবন তৈরির জন্য জমির প্রয়োজন। সমীক্ষায় অরবিন্দ স্টেডিয়ামের জমি আদালতের সম্পত্তি বলে জানা গিয়েছে। সেখানে আদালত ভবন তৈরির বিষয়ে হাইকোের্টর জোনাল জজ সম্মতি দিয়েছেন। এদিনের সভার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। জেলা জজ সভায় আলোচনার বিষয়বস্তু জোনাল জজকে জানাবেন। সেখান থেকে নিের্দশ আসার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ভলিবল-বাস্কেটবল সংস্থার সম্পাদক বলেন, জেলা জজের চেম্বারে ডাকা সভার বিষয়ে কর্মসমিতিতে আলোচনা হবে। আলোচনা করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, স্টেডিয়াম ভেঙে সেখানে আদালত ভবন তৈরি করলে খেলাধূলোর বিরাট ক্ষতি হবে। ১৯৭৬ সালের ৩১ মার্চ শ্রীঅরবিন্দ স্টেডিয়ামের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী প্রফুল্ল কান্তি ঘোষ। এখান থেকে বহু খেলোয়াড় দেশ ও রাজ্য দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছে। এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ চলে। রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতা হয়। মোট ৩ টে গ্যালারী ও মাঠে ভলিবল-বাস্কেটবলের জন্য ৬ টি কোর্ট আছে। বর্তমানে প্রায় ২৫০ জন অনুর্ধ ১৭ ছেলেমেয়ে নিয়মিত অনুশীলন করে ৬ জন কোচের তত্ত্বাবধানে। এর বাইরে সিনিয়ররাও অনুশীলন করেন। বিপুল খরচ চালাতে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান ভবন ও দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে।
E Purba Bardhaman Purba Bardhaman District News