Breaking News

বর্ধমানের অরবিন্দ স্টেডিয়াম কি তবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পেতে চলেছে?

the calcutta high court has approved the construction of a new court building at Aurobindo Stadium in burdwan town

গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- ১৯৭৬ সালে রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী প্রফুল্লকান্তি ঘোষ অরবিন্দ স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই তৈরি হয় শ্রীঅরবিন্দ স্টেডিয়াম। কেবলমাত্র ভলিবল ও বাস্কেটবল খেলার জন্য তৈরি হয় স্টেডিয়ামটি। তারপর বহু ঝড়-ঝাপটা সামলে স্টেডিয়ামে তৈরি হয়েছে জিমনাসিয়াম, গ্যালারি, খেলার জন্য কোট। পরে তৈরি হয়েছে অনুষ্ঠান ভবন। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে চলে বিভিন্ন বয়সের ভলিবল, বাস্কেটবল প্রশিক্ষণ। ভলিবলের স্ম্যাশ আর বাস্কেটবল কোটে খেলোয়াড়দের পদচারণায় গমগম করে স্টেডিয়ামের কোট। শিক্ষার্থীদের পরিবারের লোকজন ও ক্রীড়াপ্রেমীরা ভিড় করেন স্টেডিয়ামের মাঠে। জিমনাসিয়ামে চলে শরীরচর্চা। নিয়মিত লিগ ও নকআউট প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয় স্টেডিয়ামে। রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতার আসরও বসে স্টেডিয়ামে। সেই অরবিন্দ স্টেডিয়াম কি তবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পেতে চলেছে? আর কি শোনা যাবে না খেলোয়াড়দের বুটের শব্দ আর দাপাদাপি? এই সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছে হাইকোের্টর একটি নিের্দশ। স্টেডিয়ামের জমিতে বর্ধমান আদালতের নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়েছেন হাইকোের্টর জোনাল জজ। শহর জুড়ে এ নিয়ে জোর চর্চা চলছে। ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে তৈরি হয়েছে দোলাচল। কেউ ভাবছেন শেষমেশ হয়ত একটা কিছু রাস্তা বের হবে। স্টেডিয়াম থেকে যাবে। আর একটি অংশ মনে করছেন, বিষয়টি অত সহজ নয়। আদালতের সম্পত্তিতে নতুন ভবন হয়ত তৈরি হবে। তবে, স্টেডিয়ামের জমি যে আদালতের মালিকানাধীন তা এতদিন শহরের বেশিরভাগ মানুষেরই অজানা ছিল। তবে, আদালতের রেকর্ড রুম থেকে পাওয়া একটি ম্যাপ সবকিছু বদলে দিয়েছে। ম্যাপের সূত্র ধরেই স্টেডিয়ামের জমির মালিকানা যে আদালতের তা জানা গিয়েছে। প্রশাসনের কর্তারাও মাপজোক করে জমি যে আদালতের সম্পত্তি তা নিশ্চিত হয়েছেন। the calcutta high court has approved the construction of a new court building at Aurobindo Stadium in burdwan town
সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৭৬ সালে ৩১ মার্চ তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী প্রফুল্লকান্তি ঘোষ স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তারপরই শুরু হয় স্টেডিয়াম তৈরির কাজ। ১৯৮১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সংস্থার অফিসের উপর তৈরি হয় গ্যালারি। সেটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যসচিব অমিয় কুমার সেন। ১৯৮১ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন রাজ্যপাল সৈয়দ নুরুল হাসান জেলা ভলিবল ও বাস্কেটবল সংস্থার জিমনাসিয়াম হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৯০ সালের ২২ ডিসেম্বর জিমনাসিয়াম হলের উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল সৈয়দ নুরুল হাসান। পরে সেখানে তৈরি হয়েছে অনুষ্ঠান ভবন। গ্যালারির নীচে তৈরি হয়েছে দোকানঘর। রাজ্য ও সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা বেশ কয়েকবার বসেছে স্টেডিয়ামে। বাম আমলে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী স্টেডিয়ামটিকে ইন্ডোরে পরিণত করার আশ্বাস দেন। এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাবও সরকারের কাছে জমা পড়ে। পূর্ত দপ্তর এ ব্যাপারে একটি রিপোর্ট তৈরি করে। যদিও নানা কারণে অরবিন্দ স্টেডিয়ামকে ইন্ডোরে পরিণত করা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়ামের মালিকানা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু এবার স্টেডিয়ামের অস্তিত্ব আদৌ থাকবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। স্টেডিয়ামে আদালত ভবন তৈরি হবে নাকি খেলোয়াড়দের ব্যবহারের জন্য তা থাকবে তার উত্তর ভবিষ্যৎই দেবে।

About admin

Check Also

CAB's U-15 district-level cricket Tournament started irresponsibly, breaking the rules

দায়সারা ভাবে শুরু হল সিএবি-র অনূর্ধ্ব-১৫ জেলাস্তরের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা

গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- নিয়ম ভাঙাই এখন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্ধমান জেলা ক্রীড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *