মেমারী (পূর্ব বর্ধমান) :- তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডু নির্দেশ দিলেন ১০০ দিনের কাজের টাকা না পেলে বিজেপিকে জয়শ্রীরাম বলতে দেবেন না। গাছে বেঁধে রাখুন। আগে ১০০ দিনের (MGNREGS) টাকা দেবে তবেই জয়শ্রীরাম বলতে দেবেন। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি, সার ও পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবীতে রবিবার বিকালে মেমারীর সাতগেছিয়া বাজারে প্রতিবাদ সভা করে তৃণমূল কংগ্রেসের এসসি, এসটি ও সংখ্যালঘু সেল। এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন মেমারী ২ ব্লকের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ ইসমাইল, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডু, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান অশোক বিশ্বাস, মেমারী ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মামণি মূর্মূ প্রমুখরা। এদিন এই সভা থেকে দুস্থদের কম্বলও বিতরণ করা হয়। আর এই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেবু টুডু বলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে দিয়েছে বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার। আর আপনার বাড়ির সামনে বিজেপির ভাই জয় শ্রীরাম বলছে। আমরা কি চুড়ি পড়ে বসে আছি নাকি। একশো দিনের টাকা মেরে যারা আপনার বাড়ির সামনে, আপনার বাজারে জয় শ্রীরাম করছে তাদের বেঁধে রাখুন। একশো দিনের টাকা না দেওয়া হলে আমরা ঝান্ডা টাঙ্গাতে দেবো না, জয় শ্রীরাম বলতে দেবো না, আগে টাকা দাও, তারপর অন্য কথা। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মন কি বাত অনুষ্ঠানে বর্ধমানের হীরাগাছি এলাকায় এসে তৃণমূল নেতাদের খেজুর ও নিমগাছে বেঁধে রাখার নির্দেশ দিয়ে যান বিজপির কেন্দ্রীয়-সহ সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। আবাস যোজনার দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে হিসাব চাওয়ারও নির্দেশ দিয়ে যান তিনি। দিলীপবাবুর সেই বক্তব্য নিয়ে তৃণমূল পাল্টা সমালোচনায় মুখর হয়। আর এরপরেই দেবু টুডুর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ বলেন, হয় পাগলের প্রলাপ বকছেন, নয় চোরের মায়ের বড় গলা, সেটাই হয়েছে। ওনাকে জানতে হবে ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন্দ্র কেন বন্ধ করেছে। না জানা থাকলে ওনার অপদার্থতা, তা না হলে জেনেশুনে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা কথা বলছেন। ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন্দ্রের কাছ থেকে এসেছিলো, সেই টাকা তৃণমূল নেতারা চুরি করেছে। সাধারণ মানুষ টাকা পায়নি। সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে আজকে কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে। কারণ এই রাজ্যের তৃণমূল সরকার তার হিসাব দিতে পারেনি। তারা মাস্টাররোল, ভুয়ো জব কার্ডের মাধ্যমে চুরি করেছে। সেই চুরি হিসাব দিতে হবে। সেই চুরির টাকাতেই তৃণমূল নেতার মাটির বাড়ি চারতলা বাড়ি হয়ে গেছে। আর জয় শ্রীরাম বললে আপনার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। রামের নামে ভুতে পালায়। ভারতবর্ষের আদর্শ পুরুষ ছিলেন রামচন্দ্র। তাঁর নামের জয়ধ্বনি সারা ভারতবর্ষে হচ্ছে এই বাংলাতে হবে আপনারা আটকাতে পারবেন না।
Tags BJP central government MGNREGA MGNREGS NREGA tmc Trinamool Trinamool Congress
Check Also
নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপকেই দায়ী করলেন সুকান্ত, দিলীপ
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকেই …