জামালপুর (পূর্ব বর্ধমান) :- কালবৈশাখি ঝড়-সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সূচনা ছিলই। আর রবিবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের কয়েকটি জায়গায় সেই ঝড়ে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ল বহু পরিবার। ক্ষণিকের ঝড়ে অমরপুর, শিয়ালী, কোড়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বাড়ি। এদিন সকালে মেমারীর চাঁচাইয়ে ও মাধবডিহির পাঁইটায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে পূর্ব বর্ধমান জেলায় রবিবার কমলা সতর্কতা জারি ছিল। সোমবারও হলুদ সতর্কতা রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে এই সাময়িক ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে জামালপুরের একাধিক এলাকা। ঝড়ে উড়ে গেছে একাধিক ঘরের চাল। ঝড়ের প্রকোপে অস্থায়ী সেতু থেকে দামোদর নদে পড়ে একটি চারচাকা গাড়িও। ঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে পড়েছে একাধিক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ। এখন পর্যন্ত ২ জনের আহত হওয়ার খবর মিলেছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামালপুরের বিডিও-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রবিবার সকালে হঠাৎ করেই শুরু হয় ঝড়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই লন্ডভন্ড অবস্থা হয়ে যায় জামালপুরের সাতগড়িয়া, কোড়া, শিয়ালি, মাঠ শিয়ালি, অমরপুর-সহ একাধিক এলাকা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাময়িক এই ঝড়ে জামালপুর ও মেমারী ১ ব্লকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০-৪০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ উপড়ে গেছে। বেশ কিছু এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে জামালপুরের অমরপুর এলাকায় দামোদরের উপর অস্থায়ী সেতু পারাপারের সময় ঝড়ের কবলে পরে একটি চারচাকা গাড়ি। ঝড়ের দাপটে সেতু থেকে গাড়িটি নিচে পড়ে যায়। এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন ২ জন। চিকিৎসার জন্য তাঁদের জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সাথে কথা বলে তাঁদের খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়। জেলাশাসক কে রাধিকা আইয়ার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্লক ডিজাস্টার এবং মহকুমা ডিজাস্টার অফিসারদের ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ঝড়-বৃষ্টির সময়ে মেমারীতে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। মৃতের নাম ভীম কর (৫১)। বাড়ি মেমারীর পাল্লা ২ নম্বর ক্যাম্প এলাকায়। মৃতের দাদা নিমাই কর জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৬টা নাগাদ হঠাৎই শুরু হয় প্রবল ঝড় বৃষ্টি। তড়িঘড়ি স্থানীয় সূর্যনগর মাঠে গরু আনতে যায় ভীম কর। সেই সময় হঠাৎই বজ্রপাতের বিকট আওয়াজ হয়। পরিবারের লোকজন ছুটে গিয়ে দেখেন মাঠেই পরে আছেন তিনি। এরপরেই ভীমকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে মারা যায় গরুটিও। এছাড়াও, মাধবডিহি থানার পাঁইটা এলাকায় জমিতে সার দেওয়ার সময় বজ্রাহত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক কৃষকের। জানাগেছে, ওই কৃষকের নাম রামচন্দ্র লোহার (৫৪)। রবিবার সকালে জমিতে কীটনাশক ছড়ানোর সময় বজ্রাহত হন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
Check Also
নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপকেই দায়ী করলেন সুকান্ত, দিলীপ
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- নয়াদিল্লী স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকেই …