
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- ২ দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক ওপেন এয়ার লাইভ আর্ট ওয়ার্কশপ ও প্রদর্শনী শুরু হল বর্ধমানের উদয়পল্লী জোড়াবাঁধ এলাকায়। নেচার অফ দ্য ক্যানভাস এবং রং তুলি আর্ট স্কুলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আর্ন্তজাতিক কর্মশালায় হাজির হয়েছেন থাইল্যাণ্ডের শিল্পী জিরায়ান প্রমুখুমনার্ড সুরাথানি, শ্রীলংকার শিল্পী ইশানি সেনাধিরা, বাংলাদেশের শিল্পী অসীম দাস, রাশিয়ার শিল্পী সফি রে লি ছাড়াও একাডেমি অফ আর্ট ইউনিভার্সের ডিরেক্টর ড. অভিজিত রায়চৌধুরী, শান্তিনিকেতনের কলাভবনের প্রফেসর অমিত ধাড়া, সুতনু চ্যাটার্জ্জী প্রমুখরাও। আয়োজক নেচার অব দ্য ক্যানভাসের কর্ণধার শিল্পী রঙ্গজীব রায় জানিয়েছেন, খ্যাতনামা এই শিল্পীরা ছাড়াও এই কর্মশালায় হাজির হয়েছেন জেলা ও পার্শ্ববর্তী হুগলী, বাঁকুড়া থেকে খুদে শিল্পীরাও। মোট ১৫০জন হাজির হয়েছেন এই কর্মশালায়।
আর এই শিল্পীরা এদিন সকাল থেকেই নিজেদের শিল্পকর্মকে ফুটিয়ে তোলার কাজ শুরু করে দিলেন। যা দেখতে রীতিমত হাজির উৎসুক মানুষেরাও। কেউ রংতুলি দিয়ে প্রকৃতির কোনো একটি বিশেষ বিষয়কে ফুটিয়ে তুলছেন, আবার মাটি দিয়ে কেউ তৈরী করছেন বিভিন্ন বিষয়। এদিন হাওড়া থেকে আসা শিল্পী রঞ্জন কুর্মী পা দিয়ে ছবি আঁকলেন। জানিয়েছেন, ৬ বছর বয়স থেকেই তিনি এই আঁকা শুরু করেন। দুই হাত অকেজো হওয়ায় তিনি পা দিয়ে আঁকাকেই নিজের বেঁচে থাকার অঙ্গ করে নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান শিল্পীদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। শিল্পীদের শিল্পকর্ম নিয়ে যে আদিখেত্যা দেখানো হয় তার ছিটে ফোঁটাও পৌঁছাচ্ছে না শিল্পীদের ঝুলিতে। তিনি জানিয়েছেন, এই আঁকার কাজে যে ধরণের তুলি, রং, কাগজ প্রয়োজন তা অত্যন্ত দামী। যা কেউ দিতে চায় না। তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তিনি অনেক পুরষ্কার জিতেছেন, এমনকি তাঁর ছবি নিয়মিত বিদেশে যাচ্ছে, কিন্তু আখেরে অর্থনৈতিকভাবে তিনি পিছিয়েই রয়েছেন। শিল্পী রঙ্গজীব রায় জানিয়েছেন, আগামী বছর এই শিবিরকে আরও বড় করে করার জন্য এবছর থেকেই তাঁরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
E Purba Bardhaman Purba Bardhaman District News