
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- শুক্রবার আশা কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো বর্ধমানের কার্জনগেট এলাকায়। এদিন পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি, বকেয়া ইনসেনটিভ প্রদান, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে আশাকর্মীর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা, শর্তহীনভাবে মোবাইল ফোন কেনার স্বাধীনতা দেওয়া-সহ একগুচ্ছ দাবিতে রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা কর্মবিরতির পক্ষে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। আশা কর্মী ইউনিয়নের পাশাপাশি ছিল পশ্চিমবঙ্গ পৌর স্বাস্থ্যকর্মী (কন্ট্রাকচুয়াল) ইউনিয়নও। বর্ধমানের টাউন হল থেকে মিছিল বের হয়ে কার্জন গেটে আসতেই আচমকাই জিটিরোড অবরোধে সামিল হন বিক্ষোভকারীরা। প্রায় ১ ঘন্টা জিটি রোড অবরোধের জেরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধের কর্মসুচী না থাকলেও এই আচমকা এই অবরোধকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। দফায় দফায় পুলিশ চেষ্টা করতে থাকে অবরোধ হঠানোর। কিন্তু আশাকর্মীদের সমবেত আন্দোলনের জেরে পিছু হঠে পুলিশ। এরপর পুলিশী হস্তক্ষেপে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্যাধিকারিকের সঙ্গে আন্দোলন কারীরা ফোনে কথা বলেন।
আশা কর্মী ইউনিয়নের নেত্রী ঝর্ণা কুণ্ডু জানিয়েছেন, গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা তাঁদের বকেয়া প্রাপ্য আদায়ের লক্ষ্যে গোটা জেলা জুড়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। কিন্তু এরই মাঝে তাঁদের আন্দোলনকে বানচাল করতে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে আশা কর্মীদের প্রশিক্ষণে ডাকা হয়। এমনকি জেলা জুড়ে বিভিন্ন চলতে থাকা মেলাতে আশা কর্মীদের ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। ঝর্ণা কুণ্ডু জানিয়েছেন, এদিন এই ঘটনায় আশা কর্মীরা ক্ষীপ্ত হয়েই বাধ্য হন রাস্তা অবরোধে সামিল হতে। তিনি জানিয়েছেন, এই আন্দোলন চলাকালীন আশা কর্মীদের দাবী মেনে কর্মবিরতি চলাকালীন কোনো প্রশিক্ষণ না দেওয়া এবং কোনো ডিউটি না দেবার দাবী মেনে নেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্যাধিকারিক। এরই পাশাপাশি আশা কর্মীদের বকেয়া ৪ মাসের বেতনের মধ্যে ৩ মাসের বেতন দেবার কথা সরকার ঘোষণা করেছে বলে এদিন জানিয়েছেন এই সংগঠনের নেত্রী ঝর্ণা কুন্ডু।
E Purba Bardhaman Purba Bardhaman District News