Breaking News

বাল্য বিবাহ রোধে এবার এগিয়ে এল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কমের ছাত্রছাত্রীরা

Burdwan University's Mass Communication & Journalism students come forward to prevent child marriage

বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে নাবালিকা বিয়ে রোধে জেলা প্রশাসন রীতিমতো কোমড় বেঁধে নেমেছে। তারই অঙ্গ হিসাবে এবার হাতিয়ার করা হলো ‘আলোর পথযাত্রী’ নামে নাটককে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের রিপোর্টে পূর্ব বর্ধমান জেলায় বাল্যবিবাহ সম্পর্কে যে তথ্য উঠে এসেছে তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। প্রশাসন সূত্রে বৃহস্পতিবার দুটি স্কুলের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বর্ধমান বিবেকানন্দ বালিকা বিদ্যালয়ের মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থী সংখ্যা (গত বছর) মাত্র ১৮ জন। যেখানে বাল্য বিবাহের শিকার শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ জন ছাত্রীর বিয়ে ক্লাস ১০-এর আগেই হয়েছে। এর মধ্যে একজন ছাত্রীর বিয়ে ক্লাস ৮-এ হয় এবং সে একটি সন্তানের জন্ম দেয়, কিন্তু সন্তানটি মারা যায়। Burdwan University's Mass Communication & Journalism students come forward to prevent child marriage এই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের মতামত, মূল কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন, শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অনিচ্ছা পড়াশোনার প্রতি। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কের প্রসার এবং সিদ্ধান্তহীন পরিণতি। শিক্ষিকারা নিজেরাও পুলিশি সহায়তায় কিছু শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছেন, যারা বাল্যবিবাহের পথে ছিল। শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে। পরিবারে শিক্ষার গুরুত্ব অনেক সময় কম দেখা যায়। এরই পাশাপাশি, বর্ধমান নিবেদিতা কন্যা বিদ্যালয়ের ক্লাস নাইনের এক ছাত্রী নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে। ক্লাস এইটের একটি মেয়ে বিয়ে করে এবং একটি সন্তানের মা হয়। এই স্কুলে মোট প্রায় ৬-৭ জন শিক্ষার্থী বাল্যবিবাহের শিকার বলে চিহ্নিত। এই স্কুলের শিক্ষিকাদের মতামত, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাল্যবিবাহ হয়েছে ছাত্রীর নিজের সম্মতিতে। শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, তাঁরা বহু ঘটনা রুখেছেন, এবং পুলিশের সাহায্যে কিছু বিয়ে আটকানো সম্ভব হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলকভাবে ভালো। Burdwan University's Mass Communication & Journalism students come forward to prevent child marriage অধিকাংশ শিক্ষার্থী এসসি / এসটি সম্প্রদায়ভুক্ত। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রাম শংকর মন্ডল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই জেলাশাসক আয়েষা রানি এ. গোটা জেলা জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বাল্য বিবাহ রোধে মহকুমা ও ব্লক স্তরে সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। এবার তারই সাথে যুক্ত হলো নাটক। তিনি জানিয়েছেন, এই ‘আলোর পথযাত্রী’ নাটকে অভিনয় করছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের ফোর্থ সেমিস্টারের ৯ জন ছাত্র-ছাত্রী – শ্রেয়সী যশ, পৃথা চক্রবর্তী, দীপ্ত দে, রাজদীপ মুখার্জী, অর্পিতা দাস, প্রীতি খাতুন, সঞ্চিতা চ্যাটার্জী, ঐন্দ্রিলা চ্যাটার্জি এবং তৃষা সাহা। গল্প রচনা করেছেন অর্পিতা দাস ও পৃথা চক্রবর্তী। পরিচালনা করছেন ড. রাজেশ দাস। সহযোগিতা করছে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং জেলা সমাজ কল্যাণ দপ্তর। রাম শংকর মন্ডল জানিয়েছেন, এই নাটকটি অভিনীত হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কিছু বিদ্যালয়ে সম্প্রতি পর্যবেক্ষিত বাল্য বিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব সংক্রান্ত ঘটনার উপর ভিত্তি করে। Burdwan University's Mass Communication & Journalism students come forward to prevent child marriage

About admin

Check Also

CAB's U-15 district-level cricket Tournament started irresponsibly, breaking the rules

দায়সারা ভাবে শুরু হল সিএবি-র অনূর্ধ্ব-১৫ জেলাস্তরের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা

গণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- নিয়ম ভাঙাই এখন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্ধমান জেলা ক্রীড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *