বিপুন ভট্টাচার্য, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- পুলওয়ামায় যেখানে সেনাবাহিনীর কনভয়ে বিধ্বংসী জঙ্গী হানার ঘটনা ঘটেছে সেখান থেকে মহম্মদ রসিদ আলির বাড়ি প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগরের লালচক এলাকায়। পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই জম্মু কাশ্মীর জুড়ে চলছে হানাদারি। বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। মঙ্গলবারই সেনাকর্তারা হুঁশিয়ারী দিয়েছে – কাশ্মীরবাসীর কাছে। বন্দুক হাতে তুললেই গুলি খাওয়ার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন সেনা কর্তারা। কিন্তু কেন এই ঘটনা ঘটেই চলছে? রসিদ ভাইরা সেই আক্ষেপই করেছেন – জিইয়ে রাখা হয়েছে কাশ্মীর সমস্যাকে। গত ৭০ বছর ধরেই দিল্লীর সরকার এই সমস্যাকে মেটানোর ক্ষেত্রে প্রকৃতই আন্তরিক নন – এমনটাই বলছেন কাশ্মীরী শালওয়ালা রসিদ ভাইরা। প্রতিবছর জম্মু কাশ্মীর, শ্রীনগর প্রভৃতি এলাকা থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শাল, সোয়েটার প্রভৃতি নিয়ে ব্যবসা করতে আসেন বর্ধমানে। একটানা তাঁরা ৬ মাস থাকেন এই ব্যবসার কাজে। শীত চলে যেতেই তাঁরা ফিরে যান যে যার বাড়ি। চলতি ফেব্রুয়ারী মাসে শীতের প্রকোপ কমতেই এবার তাঁদের বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু রীতিমত আতংক তাড়া করে ফিরছে তাঁদের। পুলওয়ামায় জঙ্গী হানার পর জম্মু–কাশ্মীর, শ্রীনগর এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত ইণ্টারনেট পরিষেবা। লাগাতার এই হামলার ঘটনায় শান্তি নেই জম্মু–কাশ্মীর, শ্রীনগর এলাকার এই বাসিন্দাদের। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে চলে আসা অগ্নিগর্ভ কাশ্মীর এলাকায় এবার শান্তি চাইছেন রসিদ আলি,মহম্মদ আলিরা। তাঁরা জানিয়েছেন, গোটা এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ। মোবাইল চালু আছে। তাঁদের জন্য বাড়ির লোক চিন্তায় রয়েছেন। বারবার জানতে চাইছেন তাঁরা বাংলায় কেমন আছেন। রসিদভাইরা জানিয়েছেন, তাঁরা বাংলায় সত্যিই ভাল আছেন। কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু কাশ্মীর ইস্যু আসলে একটা রাজনৈতিক ইস্যু। এর জন্য দায়ী কেন্দ্র সরকার। ওঁরা সমস্যার সমাধান চায় না। রসিদভাইরা জানিয়েছেন,আলোচনা করে সমস্যা মেটাতে হবে, না হলে দমানো যাবে না। আলোচনা না করে জোর করে সমস্যা মেটাতে চাইলে কিছু হবে না। মাঝ থেকে কিছু সাধারণ মানুষ মারা যাবেন। তাঁরা চাইছেন ৭০ বছরের সমস্যা একবারে শেষ হোক। আলোচনা করেই মিটুক। যেই মারা যাক সেই এই দেশের। কেন দেশের ছেলে অস্ত্র তুলছে সেটা দেখতে হবে। চারবছর ধরে আলোচনা করছে না, শুধু চাপ দিয়ে হবেনা। রসিদভাইরা জানিয়েছেন, জঙ্গীরা সীমান্ত টপকে কাশ্মীরে ঢুকছে কি করে? সীমান্তে বি এস এফ আছে। কড়া পাহারা ফাঁকি দিয়ে আসছে কিভাবে – সেটাও তো দেখা দরকার। নাহলে এই সমস্যা চলতেই থাকবে। রসিদভাইরা বারবার জানিয়েছেন, দিল্লির সরকার কেন কাশ্মীরিদের সংগে আলোচনায় বসছেন না? কেন একটা শিশু জন্মের পর থেকেই শুনছে তারা ভারতীয় নয়, আবার পাকিস্তানিও নয়। কেন তারা খেলার ছলে হাতে তুলে নিচ্ছে বন্দুক। আলি ভাইরা চাইছেন– বন্ধ হোক এসব। তাঁদের দাবী, মাত্র আধ ঘন্টা আলোচনাতেই মিটতে পারে গত ৭০ বছর ধরে জিইয়ে রাখা কাশ্মীরি সমস্যা।
E Purba Bardhaman Purba Bardhaman District News
