
বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :- ১৫ মে এভারেস্ট জয় করার পর রবিবার নিজের বাড়ি ফিরলেন বর্ধমানের সৌমেন সরকার। রবিবার তাঁকে সম্বর্ধনা জানান বর্ধমানের নাগরিকেরা। এদিন স্কাউট এন্ড গাইডস ফেলোশিপের পক্ষ থেকে তাকে নাগরিক সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয় স্টেশনের সামনে মঞ্চ বেঁধে। একটি বটবৃক্ষ উপহার দেন পরিবেশপ্রেমী ‘বট মুন্সী’। আবেগ আপ্লুত পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার সৌমেন সরকার এদিন জানান, এই পর্বত অভিযানে পদে পদে ছিল বিপদের আশঙ্কা। এভারেস্টে ওঠার জন্য প্রচুর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। অনেকে হয়ত ভাবেন, টাকা থাকলেই এভারেস্টে যাওয়া যায়। সে ধারণা ভুল। এখানে পর্বতারোহণের যাবতীয় কলাকৌশল ব্যবহার করতে হয়। ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। তেমন হলে মৃত্যু একদম অবধারিত। তিনি জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, স্ত্রীর অসুস্থতাকে অতিক্রম করে এই জয় এসেছে। প্রায় কুড়ি বছর ধরে সৌমেনবাবু পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং করে আসছেন। রবিবার তিনি জানিয়েছেন, তার অভিযান থামবে না। আবার পাহাড়ে যাবেন তিনি।
বর্ধমান শহরের রানিসায়রের পূর্ব পাড়ের বাসিন্দা পূর্ত দপ্তর (সড়ক) বিভাগের জাতীয় সড়ক সাব ডিভিশনের সহকারী বাস্তুকার হিসাবে কর্মরত সৌমেন সরকার গত ১ এপ্রিল থেকে প্রায় ২ মাসের জন্য এভারেস্ট অভিযানে বের হন। ৮৮৪৮ মিটার উঁচুতে উঠে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় জাতীয় পতাকা তোলেন। এবার তিনি নেপালের মাউন্ট এভারেস্ট এবং মাউন্ট লোত্স পর্বতশৃঙ্গ জয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ১ এপ্রিল বর্ধমান থেকে। ৭ এপ্রিল বেসক্যাম্প থেকে শুরু হয় এভারেস্ট অভিযান। ৩৯ দিনের মাথায় তিনি এভারেস্ট অভিযান সফল করেন। সৌমেন সরকার উত্তরাখণ্ডে অবস্থিত নেহেরু ইন্সটিটিউট অফ মাউন্টেনেরিং (এন আই এম) থেকে প্রাথমিক পর্বত আরোহণের কোর্স করেন। সেখানে ৯৯ জনের মধ্যে সেরা সম্মান পান তিনি। বিখ্যাত পর্বতারোহী ও ভারতের প্রথম মহিলা এভারেস্ট বিজয়ী বাচেন্দ্রী পালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিনন্দন নিয়ে এভারেস্ট অভিযানে যান সৌমেন সরকার। সৌমেনের বহুদিনের ইচ্ছে তার অভিযানগুলি নিয়ে একটি বই করবেন। তিনি এদিন জানান, এবার তিনি তাঁর ইচ্ছে পূরণের কাজে হাত লাগাবেন।
E Purba Bardhaman Purba Bardhaman District News